পদ্মা ব্যারেজের মতো অতি জটিল ও স্পর্শকাতর মেগা প্রকল্পের প্রযুক্তিগত নকশা প্রধানমন্ত্রী নিজে করছেন বলে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর হাইড্রোলিক প্রেসার, রিভার মরফোলজি, মাটির বিয়ারিং ক্যাপাসিটি এবং স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের মতো জটিল গাণিতিক হিসাবনিকাশ বাদ দিয়ে একজন অ-প্রকৌশলী ব্যক্তি দ্বারা নকশা তৈরির দাবি কেবল হাস্যাস্পদই নয়, দেশের শীর্ষপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালনে গভীর অপেশাদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ।
পদ্মা ব্যারেজের কাল্পনিক দাবি ছাড়াও বর্তমানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অতীত ও বর্তমানের দ্বিমুখী রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বর্তমান বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সামলাতে ব্যর্থতা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপি নেতাদের এই দ্বিমুখী ভূমিকা ও জনভোগান্তি নিয়ে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা একসময় সামান্য ঘাটতিতেই রাজপথে সোচ্চার হয়ে স্লোগান দিতেন—’গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’। অথচ সেই সময় দেশে গ্যাস বা বিদ্যুতের এমন ভয়াবহ সংকট ছিল না।
আজ দেশের মানুষ যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটে দিনরাত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, প্রতিদিন শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আট লাখ শ্রমিক চাকরির হারাচ্ছে, তখন তারা কেন সম্পূর্ণ নিশ্চুপ? এক সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনীতি গরম করলেও, আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে তারা দেশটাকে চরম অব্যবস্থাপনায় ফেলে দিয়েছেন এবং দেশ লুটেপুটে খাচ্ছেন। এখন আর কোনো সমাধান নেই, কেবল নীরবতা আর চটকদার বক্তব্য ছাড়া।”
বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সময়ে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল বা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশের অর্থনৈতিক মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে বিএনপি নেতারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির যে অপচেষ্টা করেছিলেন, তা এখন তাদের নিজেদের ওপরই বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। একদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অচলাবস্থা ঢাকার ব্যর্থতা, আর অন্যদিকে পদ্মা ব্যারেজের মতো অবৈজ্ঞানিক দাবি ছুড়ে দিয়ে জনদৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর এই রাজনৈতিক কৌশল দেশবাসীকে চরম হতাশ ও বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

