চর, তুমি কার?

যমুনার চর এখন আর গরু-মহিষের চারণভূমি নেই। সেখানে এখন ফসল ফলানো হয় আরেকটা, চাঁদা। জামালপুরের মাদারগঞ্জ আর বগুড়ার সারিয়াকান্দির সীমান্তে এই চরে কাশবন দখল করে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। চাঁদা না দিলে গরু-মহিষ চরানো তো দূরের কথা, রাখালের অপহরণ, মহিষ লুট, এমনকি খুনও হয়ে যায়। স্থানীয়দের সোজা কথা, এসব সিন্ডিকেটের মাথায় যারা আছে, তারা সবাই বিএনপি আর জামাতের নেতা-কর্মী।

ধরুন, আপনার ৩০ হাজার টাকার মহিষ। তাকে চরাতে হবে যমুনার চরে। কিন্তু সেখানে ঢুকতে গেলে বিঘাপ্রতি দেড় থেকে ১৮০০ টাকা গুনতে হবে। গুনলেন না? তাহলে আপনার মহিষ চুরি, আপনার রাখাল অপহরণ, মুক্তিপণ চার লাখ টাকা। রবিন মিয়ার মতো রাখালের মুখেই শুনুন, ‘টাকা না দিলে অপহরণ বা মহিষ চুরি করে নিয়ে যায়।’ এটা কোনো রাষ্ট্রের চিত্র না, এটা হলো চরের বাস্তবতা। যেখানে রাষ্ট্র নেই, সেখানে সিন্ডিকেটই আইন।

গিয়াস খান আর হায়দার খান – এই দুজন মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর কাদের বাবুল খানের চাচাতো ভাই। আর তাদের সিন্ডিকেটের পরিচিত নাম ‘বিএনপির সিন্ডিকেট’। চাঁদা তুলছে, খুন করছে, অপহরণ করছে।

মুসলেম উদ্দীনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কাশবন দখলকে কেন্দ্র করে। একজন মানুষ মরে গেল, কিন্তু খুনিরা কে, সেই খবর চরের বাইরে এলো কতটুকু? সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের বক্তব্য শুনুন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ চর যদি তাঁর আসনের ভেতরে হয়, তাহলে তিনি জানেন না মানে কী? তিনি জানেন না মানে হলো তিনি জানতে চান না। কারণ জানলে বিএনপির সিন্ডিকেটের নাম উচ্চারণ করতে হবে। আর সেই সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁর দলের সম্পর্কও টানতে হবে।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় ছিল। সেই সময়েও চরের তৃণভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ ছিল। জামাত তখন শরিক হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার ছিল। ২০২৬ সালে এসে আবার সেই একই জোটের ছায়া। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেই, কিন্তু ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে যায়নি। সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, চরের ভেতরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। বিএনপি-জামাতের লোকেরা চরের ভেতরে নিজেদের মতো করে আইন বানাচ্ছে।

চরের চারণভূমিতে যারা চাঁদা তোলে, তারা রাষ্ট্রকে পরোয়া করে না। মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, সারিয়াকান্দি, কাজীপুরের সীমান্তবর্তী চরে কয়েকটি চক্র বাথানমালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। রাখাল অপহরণ করে মুক্তিপণ নেয়। গরু-মহিষ লুট করে। এই অপরাধের ধরন এমন নয় যে গোপন রাখা যায়। ৪০-৫০8 কিলোমিটারজুড়ে চরে চাঁদার হাট বসে। কেউ কিছু জানে না, রাষ্ট্রপ্রধান থেকে ইউএনও, কারো কানেই পৌঁছায় না।

কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম, যিনি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য, তিনি বৈঠক ডাকলেন। বৈঠকে আলোচনা হলো কীভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়। কিন্তু বৈঠক করে কী হলো? সমস্যা সমাধান হলো না। কারণ যে সমস্যার মূল হলো বিএনপির সিন্ডিকেট, সেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিএনপির লোকই তো ব্যবস্থা নেবে না। চেয়ারম্যান বৈঠক করবেন, আলোচনা করবেন, কিন্তু তার নিজের দলীয় লোকদের বিরুদ্ধে কী করবেন?

আসল কথা হলো, এই চরের চাঁদাবাজি কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া অপরাধ নয়। এটা ২০০১-০৬ সালের বিএনপি-জামাত অপশাসনের মডেল। যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থেকেও রাজনৈতিক দল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে প্রশাসন চালায়। যেখানে চাঁদাবাজরা কোনো দলের লোক না বলে দাবি করা হয়, কিন্তু সিন্ডিকেটের মাথায় থাকে বিএনপির নেতার আত্মীয়। যেখানে সংসদ সদস্য জানে না, ইউএনও জানে না, প্রশাসন জানে না, কিন্তু রাখাল জানে কাকে টাকা দিতে হবে, না দিলে কী হবে!

যমুনার চর এখন আর গরু-মহিষের চারণভূমি নেই। সেখানে এখন ফসল ফলানো হয় আরেকটা, চাঁদা। জামালপুরের মাদারগঞ্জ আর বগুড়ার সারিয়াকান্দির সীমান্তে এই চরে কাশবন দখল করে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। চাঁদা না দিলে গরু-মহিষ চরানো তো দূরের কথা, রাখালের অপহরণ, মহিষ লুট, এমনকি খুনও হয়ে যায়। স্থানীয়দের সোজা কথা, এসব সিন্ডিকেটের মাথায় যারা আছে, তারা সবাই বিএনপি আর জামাতের নেতা-কর্মী।

ধরুন, আপনার ৩০ হাজার টাকার মহিষ। তাকে চরাতে হবে যমুনার চরে। কিন্তু সেখানে ঢুকতে গেলে বিঘাপ্রতি দেড় থেকে ১৮০০ টাকা গুনতে হবে। গুনলেন না? তাহলে আপনার মহিষ চুরি, আপনার রাখাল অপহরণ, মুক্তিপণ চার লাখ টাকা। রবিন মিয়ার মতো রাখালের মুখেই শুনুন, ‘টাকা না দিলে অপহরণ বা মহিষ চুরি করে নিয়ে যায়।’ এটা কোনো রাষ্ট্রের চিত্র না, এটা হলো চরের বাস্তবতা। যেখানে রাষ্ট্র নেই, সেখানে সিন্ডিকেটই আইন।

গিয়াস খান আর হায়দার খান – এই দুজন মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর কাদের বাবুল খানের চাচাতো ভাই। আর তাদের সিন্ডিকেটের পরিচিত নাম ‘বিএনপির সিন্ডিকেট’। চাঁদা তুলছে, খুন করছে, অপহরণ করছে।

মুসলেম উদ্দীনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কাশবন দখলকে কেন্দ্র করে। একজন মানুষ মরে গেল, কিন্তু খুনিরা কে, সেই খবর চরের বাইরে এলো কতটুকু? সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের বক্তব্য শুনুন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ চর যদি তাঁর আসনের ভেতরে হয়, তাহলে তিনি জানেন না মানে কী? তিনি জানেন না মানে হলো তিনি জানতে চান না। কারণ জানলে বিএনপির সিন্ডিকেটের নাম উচ্চারণ করতে হবে। আর সেই সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁর দলের সম্পর্কও টানতে হবে।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় ছিল। সেই সময়েও চরের তৃণভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ ছিল। জামাত তখন শরিক হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার ছিল। ২০২৬ সালে এসে আবার সেই একই জোটের ছায়া। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেই, কিন্তু ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে যায়নি। সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, চরের ভেতরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। বিএনপি-জামাতের লোকেরা চরের ভেতরে নিজেদের মতো করে আইন বানাচ্ছে।

চরের চারণভূমিতে যারা চাঁদা তোলে, তারা রাষ্ট্রকে পরোয়া করে না। মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, সারিয়াকান্দি, কাজীপুরের সীমান্তবর্তী চরে কয়েকটি চক্র বাথানমালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। রাখাল অপহরণ করে মুক্তিপণ নেয়। গরু-মহিষ লুট করে। এই অপরাধের ধরন এমন নয় যে গোপন রাখা যায়। ৪০-৫০8 কিলোমিটারজুড়ে চরে চাঁদার হাট বসে। কেউ কিছু জানে না, রাষ্ট্রপ্রধান থেকে ইউএনও, কারো কানেই পৌঁছায় না।

কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম, যিনি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য, তিনি বৈঠক ডাকলেন। বৈঠকে আলোচনা হলো কীভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়। কিন্তু বৈঠক করে কী হলো? সমস্যা সমাধান হলো না। কারণ যে সমস্যার মূল হলো বিএনপির সিন্ডিকেট, সেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিএনপির লোকই তো ব্যবস্থা নেবে না। চেয়ারম্যান বৈঠক করবেন, আলোচনা করবেন, কিন্তু তার নিজের দলীয় লোকদের বিরুদ্ধে কী করবেন?

আসল কথা হলো, এই চরের চাঁদাবাজি কোনো হঠাৎ তৈরি হওয়া অপরাধ নয়। এটা ২০০১-০৬ সালের বিএনপি-জামাত অপশাসনের মডেল। যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থেকেও রাজনৈতিক দল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে প্রশাসন চালায়। যেখানে চাঁদাবাজরা কোনো দলের লোক না বলে দাবি করা হয়, কিন্তু সিন্ডিকেটের মাথায় থাকে বিএনপির নেতার আত্মীয়। যেখানে সংসদ সদস্য জানে না, ইউএনও জানে না, প্রশাসন জানে না, কিন্তু রাখাল জানে কাকে টাকা দিতে হবে, না দিলে কী হবে!

আরো পড়ুন

সর্বশেষ