শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন: বিএনপি-জামাতের ক্ষমতার ভিত কাঁপছে যে কারনে

জননেত্রী শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যে আলোচনা এখন তুঙ্গে, সেটা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরার খবর না। এটা হলো একটা পুরো ব্যবস্থার পরীক্ষা। যে ব্যবস্থাটা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা দখল করেছে, যাকে কেউ ভোট দেয়নি, যার কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই, যার একমাত্র ভরসা সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল আর বিদেশি দূতাবাসের প্রেসক্রিপশন। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হলো শেখ হাসিনার ঢাকায় ফেরা। কারণ সেদিন যেটা ঘটবে, সেটা হলো শুধু একটা ফ্লাইট ল্যান্ডিং না, সেটা হলো পুরো ক্ষমতার কাঠামোর আইনগত ভিত্তি শূন্য হয়ে যাওয়া।

প্রথমেই বোঝা দরকার, শেখ হাসিনার পদত্যাগের প্রশ্নটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ৫ আগস্ট ২০২৪-এ যা হয়েছিল, সেটা ছিল একটা সাংবিধানিককে সামনে রেখে পেছনে ডাহা প্রতারণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন কি দেননি, সেটা নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট দলিল নেই। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই এক পর্যায়ে বলেছিলেন, তিনি পদত্যাগপত্র পাননি। পরে অবশ্য বিভিন্ন চাপে সেই বক্তব্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা রয়ে গেছে। যদি সত্যিই পদত্যাগপত্র না থাকে, তাহলে সাংবিধানিকভাবে শেখ হাসিনাই এখনো প্রধানমন্ত্রী। আর তখনই প্রশ্ন আসে, যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হলো, তার আইনগত ভিত্তি কী? সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে এই সরকার? সংবিধান তো সাসপেন্ড করা হয়নি, সংসদও ভাঙা হয়নি। তাহলে যারা এখন ক্ষমতায়, তারা কোন ক্ষমতাবলে শাসন করছে?

এই প্রশ্নটা বিএনপি-জামাতের কাছে ব্যাপক ব্যথাওয়ালা বিষফোঁড়ার মতো। কারণ তারা জানে, এই প্রশ্নের উত্তর তাদের কাছে নেই। তাই তারা শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সেই স্বপ্নও তারা দেখতে পারছে না, কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেটা সমর্থন করবে না। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে যে ট্রাইব্যুনাল বসানো হয়েছে, সেখানে বিচারক ছিলেন সেই সরকারের নিয়োগ করা, প্রসিকিউটর ছিলেন সেই সরকারের সমর্থক, সাক্ষী ছিলেন সেই সরকারের সুবিধাভোগী। এই বিচারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চেয়ারে বসে যে কেউ দেখলে বলবে, এটা একটা প্রহসন। সারা বিশ্ব সেটা দেখেছে। তাই শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া যাবে না, এটা বিএনপি-জামাতও জানে।

এবার আসি হত্যার সংখ্যার খেলা। প্রথমে বলা হলো ১৪০০ মানুষ মারা গেছে, জাতিসংঘকে দিয়ে বলানো হলো। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪০০-তে। কিন্তু এই ৪০০’র দায়ও শেখ হাসিনার ওপর চাপানো যাচ্ছে না। কারণ প্রমাণ নেই। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনও নেই। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের যে রিপোর্ট, সেটাও শেখ হাসিনার নির্দেশে হত্যার কোনো সরাসরি প্রমাণ দিতে পারেনি। উল্টো যেটা প্রমাণ হয়েছে, সেটা হলো গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশ, সেনাবাহিনীর কিছু অংশ, আর অজ্ঞাত পরিচয়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত ছিল। সেই গোষ্ঠীগুলো কারা, কাদের নির্দেশে কাজ করেছিল, সেটা আজ পর্যন্ত কেউ খতিয়ে দেখেনি। কারণ খতিয়ে দেখলে বেরিয়ে আসবে, যারা শেখ হাসিনার নির্দেশে জুলাইজঙ্গীদের মোকাবিলা করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই আবার শেখ হাসিনাকে হটানোর চক্রান্তে জড়িত ছিল। এই হিসাবটা বিএনপি-জামাতের জন্য খুবই অস্বস্তিকর।

ভারতের অবস্থানটা এখানে সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড। ভারত পরিষ্কার বলেছে, শেখ হাসিনা যদি নিজে বাংলাদেশে যেতে চান, তিনি যেতে পারেন। কিন্তু ভারত তাকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে না। এই ঘোষণা বিএনপি-জামাতের গালে কষে একটা চড় দেয়ারই সমান। তারা ভেবেছিল ভারতের সাথে নতুন কোনো চুক্তি করে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা যাবে। কিন্তু ভারত জানে, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করা মানে একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতে তাকে তুলে দেওয়া। যে সরকারের কোনো জনসমর্থন নেই, যে সরকারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই, তার কাছে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর করা মানে আন্তর্জাতিক আইনের চোখে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। ভারত সেটা করবে না।

আরেকটা বিষয় হলো, বিএনপি-জামাতের এই ক্ষমতা টিকে আছে শুধু সেনাবাহিনীর সমর্থনে। সেনাবাহিনী যদি একদিন বলে, আমরা আর এই সরকারকে সমর্থন করি না, তাহলে পরের দিনই এই সরকারের শেষ। এটা বিএনপি-জামাতও জানে। তাই তারা সেনাবাহিনীকে খুশি রাখতে সবকিছু করছে। কিন্তু সেনাবাহিনীর ভেতরেও একটা অস্বস্তি আছে। কারণ সেনাবাহিনী জানে, ২০২৪-এর আগস্টে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটার দায় তাদেরও বহন করতে হবে। শেখ হাসিনা ফিরলে যদি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেই সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়ন হয়, তাহলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি কী হবে, সেটা তাদের চিন্তার বিষয়।

শেখ হাসিনা ফিরবেন কি ফিরবেন না, সেটা সময় বলে দেবে। কিন্তু যেটা এখনই পরিষ্কার, সেটা হলো, শেখ হাসিনার ফেরার প্রশ্নটা বিএনপি-জামাতের জন্য একটা অস্তিত্বের সংকট। কারণ তিনি ফিরলে তাদের ক্ষমতার আইনগত ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি না ফিরলেও তাদের ক্ষমতার কোনো বৈধতা নেই। তাই তারা যে পথেই যাক, সংকট তাদের পিছু ছাড়বে না। শেখ হাসিনা ফিরবেন, কারণ তিনি নিজেই বলেছেন তিনি ফিরবেন। আর তিনি ফিরলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ভূমিকম্প হবে, সেটা এখন থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি-জামাতের ঘুম হারাম হওয়ার আসল কারণ এটাই।

জননেত্রী শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যে আলোচনা এখন তুঙ্গে, সেটা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরার খবর না। এটা হলো একটা পুরো ব্যবস্থার পরীক্ষা। যে ব্যবস্থাটা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা দখল করেছে, যাকে কেউ ভোট দেয়নি, যার কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই, যার একমাত্র ভরসা সেনাবাহিনীর বন্দুকের নল আর বিদেশি দূতাবাসের প্রেসক্রিপশন। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হলো শেখ হাসিনার ঢাকায় ফেরা। কারণ সেদিন যেটা ঘটবে, সেটা হলো শুধু একটা ফ্লাইট ল্যান্ডিং না, সেটা হলো পুরো ক্ষমতার কাঠামোর আইনগত ভিত্তি শূন্য হয়ে যাওয়া।

প্রথমেই বোঝা দরকার, শেখ হাসিনার পদত্যাগের প্রশ্নটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ৫ আগস্ট ২০২৪-এ যা হয়েছিল, সেটা ছিল একটা সাংবিধানিককে সামনে রেখে পেছনে ডাহা প্রতারণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন কি দেননি, সেটা নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট দলিল নেই। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই এক পর্যায়ে বলেছিলেন, তিনি পদত্যাগপত্র পাননি। পরে অবশ্য বিভিন্ন চাপে সেই বক্তব্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা রয়ে গেছে। যদি সত্যিই পদত্যাগপত্র না থাকে, তাহলে সাংবিধানিকভাবে শেখ হাসিনাই এখনো প্রধানমন্ত্রী। আর তখনই প্রশ্ন আসে, যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হলো, তার আইনগত ভিত্তি কী? সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে এই সরকার? সংবিধান তো সাসপেন্ড করা হয়নি, সংসদও ভাঙা হয়নি। তাহলে যারা এখন ক্ষমতায়, তারা কোন ক্ষমতাবলে শাসন করছে?

এই প্রশ্নটা বিএনপি-জামাতের কাছে ব্যাপক ব্যথাওয়ালা বিষফোঁড়ার মতো। কারণ তারা জানে, এই প্রশ্নের উত্তর তাদের কাছে নেই। তাই তারা শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সেই স্বপ্নও তারা দেখতে পারছে না, কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেটা সমর্থন করবে না। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে যে ট্রাইব্যুনাল বসানো হয়েছে, সেখানে বিচারক ছিলেন সেই সরকারের নিয়োগ করা, প্রসিকিউটর ছিলেন সেই সরকারের সমর্থক, সাক্ষী ছিলেন সেই সরকারের সুবিধাভোগী। এই বিচারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চেয়ারে বসে যে কেউ দেখলে বলবে, এটা একটা প্রহসন। সারা বিশ্ব সেটা দেখেছে। তাই শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া যাবে না, এটা বিএনপি-জামাতও জানে।

এবার আসি হত্যার সংখ্যার খেলা। প্রথমে বলা হলো ১৪০০ মানুষ মারা গেছে, জাতিসংঘকে দিয়ে বলানো হলো। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪০০-তে। কিন্তু এই ৪০০’র দায়ও শেখ হাসিনার ওপর চাপানো যাচ্ছে না। কারণ প্রমাণ নেই। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনও নেই। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের যে রিপোর্ট, সেটাও শেখ হাসিনার নির্দেশে হত্যার কোনো সরাসরি প্রমাণ দিতে পারেনি। উল্টো যেটা প্রমাণ হয়েছে, সেটা হলো গোলাগুলির ঘটনায় পুলিশ, সেনাবাহিনীর কিছু অংশ, আর অজ্ঞাত পরিচয়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত ছিল। সেই গোষ্ঠীগুলো কারা, কাদের নির্দেশে কাজ করেছিল, সেটা আজ পর্যন্ত কেউ খতিয়ে দেখেনি। কারণ খতিয়ে দেখলে বেরিয়ে আসবে, যারা শেখ হাসিনার নির্দেশে জুলাইজঙ্গীদের মোকাবিলা করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই আবার শেখ হাসিনাকে হটানোর চক্রান্তে জড়িত ছিল। এই হিসাবটা বিএনপি-জামাতের জন্য খুবই অস্বস্তিকর।

ভারতের অবস্থানটা এখানে সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড। ভারত পরিষ্কার বলেছে, শেখ হাসিনা যদি নিজে বাংলাদেশে যেতে চান, তিনি যেতে পারেন। কিন্তু ভারত তাকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে না। এই ঘোষণা বিএনপি-জামাতের গালে কষে একটা চড় দেয়ারই সমান। তারা ভেবেছিল ভারতের সাথে নতুন কোনো চুক্তি করে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা যাবে। কিন্তু ভারত জানে, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করা মানে একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতে তাকে তুলে দেওয়া। যে সরকারের কোনো জনসমর্থন নেই, যে সরকারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই, তার কাছে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর করা মানে আন্তর্জাতিক আইনের চোখে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। ভারত সেটা করবে না।

আরেকটা বিষয় হলো, বিএনপি-জামাতের এই ক্ষমতা টিকে আছে শুধু সেনাবাহিনীর সমর্থনে। সেনাবাহিনী যদি একদিন বলে, আমরা আর এই সরকারকে সমর্থন করি না, তাহলে পরের দিনই এই সরকারের শেষ। এটা বিএনপি-জামাতও জানে। তাই তারা সেনাবাহিনীকে খুশি রাখতে সবকিছু করছে। কিন্তু সেনাবাহিনীর ভেতরেও একটা অস্বস্তি আছে। কারণ সেনাবাহিনী জানে, ২০২৪-এর আগস্টে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটার দায় তাদেরও বহন করতে হবে। শেখ হাসিনা ফিরলে যদি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেই সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়ন হয়, তাহলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি কী হবে, সেটা তাদের চিন্তার বিষয়।

শেখ হাসিনা ফিরবেন কি ফিরবেন না, সেটা সময় বলে দেবে। কিন্তু যেটা এখনই পরিষ্কার, সেটা হলো, শেখ হাসিনার ফেরার প্রশ্নটা বিএনপি-জামাতের জন্য একটা অস্তিত্বের সংকট। কারণ তিনি ফিরলে তাদের ক্ষমতার আইনগত ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি না ফিরলেও তাদের ক্ষমতার কোনো বৈধতা নেই। তাই তারা যে পথেই যাক, সংকট তাদের পিছু ছাড়বে না। শেখ হাসিনা ফিরবেন, কারণ তিনি নিজেই বলেছেন তিনি ফিরবেন। আর তিনি ফিরলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ভূমিকম্প হবে, সেটা এখন থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি-জামাতের ঘুম হারাম হওয়ার আসল কারণ এটাই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ