বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে বিএনপি সরকারের মহা প্রতারণা!

২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশ গেছেন প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী। গত বছর একই সময়ে গেছিলেন সাড়ে সাত লাখ। মানে কর্মী যাওয়া কমেছে দেড় লাখের বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যাওয়ার আগ্রহ কমেছে, নাকি সুযোগ কমেছে? বেকারত্ব যেখানে আকাশছোঁয়া, সেখানে বিদেশ যাওয়ার আগ্রহ কমার কোনো কারণ নেই। সুযোগ কমেছে। আর সুযোগ কমার এই সুযোগটাই নিয়েছে দালাল, এজেন্সি আর কিছু সরকারি আমলা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাজার বন্ধ হওয়ার শিকার মানুষগুলোই এখন ঠেলছেন লিবিয়ার মরুভূমিতে, কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে, রাশিয়ার পরিখায়।

লক্ষ্মীপুরের জাহাঙ্গীর আলমকে বাবুর্চির কাজ বলে পাঠানো হলো রাশিয়ায়। পৌঁছেই অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া হলো। প্রশিক্ষণ? একদিন চালানো শেখানো হলো, ব্যস। ১৬ জনের ক্যাম্পে চারজন মারা যাওয়ার পর আতঙ্কে কাটছে দিন। এই মানুষটা ভাগ্যক্রমে ফিরেছেন। কিন্তু কতজন ফিরতে পারছেন না, তার হিসাব কে রাখছে? ব্যাংককভিত্তিক ফোর্টিফাই রাইটস আর ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডস বলছে, রাশিয়ার পক্ষে লড়তে গিয়ে কমপক্ষে ৩৪ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এটি শুধু সেই সংখ্যা যাদের খোঁজ পাওয়া গেছে। অজানা আরও কত, আল্লাহই জানে।

এবার চোখ মেলা যাক কম্বোডিয়ার দিকে। ২০২৫ সালে দেশটিতে ১২ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশি ছাড়পত্র নিয়েছেন। অথচ কম্বোডিয়ার অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো না, চাকরির সুযোগও কম। তাহলে ওখানে এত মানুষ কেন যাচ্ছে? ওই স্ক্যাম সেন্টার, যেখানে বসে প্রতারণা করতে হয় নিরীহ মানুষকে। জুনে ফিরেছেন ৬৪৬ জন। প্রতিদিন ফিরছেন আরও মানুষ। যারা ফিরছেন তাঁদের চোখে মুখে শুধু স্বপ্নভঙ্গের গ্লানি। যারা আটকে আছেন, তাঁদের কপালে দুঃখ।

এখন প্রশ্ন উঠবে, যাচাই না করে এসব দেশে ছাড়পত্র দিল কে? রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো তো দিয়েছে, সরকারি অনুমোদনও তো লেগেছে। অথচ যে রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব, সেই রাষ্ট্রই যখন যুদ্ধরত দেশে শ্রমিক পাঠায়, তখন এটাকে কী বলা যায়? শুধু উদাসীনতা নয়, এটি দায়িত্বে অবহেলা। সরাসরি বললে, মানব পাচারে সরকারি সহযোগিতা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে ২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গার সময় থেকেই। তার আগের বছর সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ গেছেন ওখানে। ওমানেও ২০২৩ সালে গেছিলেন সোয়া লাখের বেশি, এখন কার্যত বন্ধ। আরব আমিরাতে ২০২৩ সালে গেছিলেন প্রায় এক লাখ, ২০২৫ সালে মাত্র ১৩ হাজার ৭৫০ জন। বাহরাইন তো বহুদিন ধরেই বন্ধ। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টা প্রধান গন্তব্যের মধ্যে টিকে আছে শুধু সৌদি আরব। কিন্তু সৌদি আরবেও কি অবস্থা ভালো?

২০২৪ সালে গেছিলেন সোয়া ছয় লাখ, ২০২৫ সালে সাত লাখ ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। কিন্তু এ বছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র দুই লাখ ১৫ হাজার। আর সৌদি গিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তো পুরোনো। এখন সেখানে যে হারে মানুষ যাচ্ছে, সেই হারে কাজ নেই বলেই মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

দেশের ভেতরে বেকারত্ব বাড়ছে। বড় বাজারগুলো একে একে বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোর অবস্থাও টালমাটাল। তাহলে একটা তরুণের সামনে কী পথ থাকে? হয় হাল ছেড়ে বসে থাকা, নয়তো ঝুঁকি নেওয়া। আর এই ঝুঁকি নেওয়ার পথটাকেই তো দালালরা সাজিয়ে দিচ্ছে সুন্দর প্রলোভনে। ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে পাঠানো হচ্ছে লিবিয়ায়। সেখানে গিয়ে নির্যাতন, মুক্তিপণ, তারপর ভূমধ্যসাগরে ভাসমান লাশ। ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ জনের। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি, ৩২ শতাংশ। এই তালিকায় আর কারা আছে? আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিশর, পাকিস্তান। তফাতটা বোঝেন নিশ্চয়ই!

এবার মানব পাচারের হিসাবটা করা যাক। ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫৩৬টি। অভিযুক্ত ১ হাজার ৬৫৭ জনের মধ্যে গ্রেপ্তার মাত্র ৩৫৩ জন। পাঁচ বছরে মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৪২৭টি। এর মধ্যে খালাস পেয়েছেন ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ আসামি। মানে পাচারকারীদের ধরা তো দূরের কথা, ধরলেও শাস্তি হচ্ছে না। তাহলে এই ব্যবসা কেন বন্ধ হবে? যেখানে শাস্তির ভয় নেই, সেখানে অপরাধ তো বাড়বেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দেশের নিয়োগপত্র যাচাই করা যাচ্ছে না। তাহলে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে কেন? সরকারের মানসিকতা বদলানো দরকার বলে মন্তব্য করছেন অভিবাসন খাত বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। কিন্তু মানসিকতা বদলাবে কীভাবে, যখন খোদ সরকারের নীতিতেই ঘাপলা? ইশতেহারে বিদেশি কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে একটার পর একটা বাজার বন্ধ। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও দায় এড়াতে চায়। বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলছেন, ৭০% কর্মী সৌদি যাচ্ছেন স্বল্প মেয়াদে, গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না। কে এর দায় নেবে? সরকার না এজেন্সি?

গত পাঁচ অর্থবছরে বছরে গড়ে ২ হাজার ৬৪৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। এই টাকাটা আসে কার ঘামে? জাহাঙ্গীরদের মতো মানুষের, মশিউরদের মতো সর্বস্ব হারানো মানুষের। মাদারীপুরের মশিউর রহমান নিজের খাবারের হোটেল ছেড়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ৩২ লাখ টাকা খুইয়ে ফিরেছেন শুধু প্রাণ নিয়ে। বাড়িতে অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা, কিন্তু মশিউরের চিন্তা একটাই, পাওনাদারদের কী বলবেন?

প্রশ্নটা রাষ্ট্রের কাছেই এখন। যে রাষ্ট্র জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় পাঠালো বাবুর্চির কাজে, অথচ গিয়ে তিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করলেন, সেই রাষ্ট্র কি জানে না সেখানে কর্মী পাঠানোর অর্থ যুদ্ধে পাঠানো? কম্বোডিয়ায় যে কর্মীরা যাচ্ছেন, তাঁদের কাজ যে প্রতারণা করা, তা কি অজানা? লিবিয়ায় যে পাচার হচ্ছে, তার তথ্য কি সরকারের কাছে নেই? সব তথ্য জানা সত্ত্বেও যখন কোনো সুরাহা হয় না, শাস্তি হয় না পাচারকারীদের, তখন ধরেই নিতে হয় সিস্টেমের ভেতরেই কেউ না কেউ এই প্রতারণার ভাগ পাচ্ছে। আর এই ভাগ পেতে সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন গরিব, নিরীহ, কাজের খোঁজে দেশ ছাড়া মানুষগুলো। তাঁদের জীবনটা এখন পরীক্ষাগার, যেখানে একেকটা নীতি বদলের খেসারত দিতে হচ্ছে একেকটা পরিবারকে।

২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশ গেছেন প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী। গত বছর একই সময়ে গেছিলেন সাড়ে সাত লাখ। মানে কর্মী যাওয়া কমেছে দেড় লাখের বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যাওয়ার আগ্রহ কমেছে, নাকি সুযোগ কমেছে? বেকারত্ব যেখানে আকাশছোঁয়া, সেখানে বিদেশ যাওয়ার আগ্রহ কমার কোনো কারণ নেই। সুযোগ কমেছে। আর সুযোগ কমার এই সুযোগটাই নিয়েছে দালাল, এজেন্সি আর কিছু সরকারি আমলা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাজার বন্ধ হওয়ার শিকার মানুষগুলোই এখন ঠেলছেন লিবিয়ার মরুভূমিতে, কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে, রাশিয়ার পরিখায়।

লক্ষ্মীপুরের জাহাঙ্গীর আলমকে বাবুর্চির কাজ বলে পাঠানো হলো রাশিয়ায়। পৌঁছেই অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া হলো। প্রশিক্ষণ? একদিন চালানো শেখানো হলো, ব্যস। ১৬ জনের ক্যাম্পে চারজন মারা যাওয়ার পর আতঙ্কে কাটছে দিন। এই মানুষটা ভাগ্যক্রমে ফিরেছেন। কিন্তু কতজন ফিরতে পারছেন না, তার হিসাব কে রাখছে? ব্যাংককভিত্তিক ফোর্টিফাই রাইটস আর ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডস বলছে, রাশিয়ার পক্ষে লড়তে গিয়ে কমপক্ষে ৩৪ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এটি শুধু সেই সংখ্যা যাদের খোঁজ পাওয়া গেছে। অজানা আরও কত, আল্লাহই জানে।

এবার চোখ মেলা যাক কম্বোডিয়ার দিকে। ২০২৫ সালে দেশটিতে ১২ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশি ছাড়পত্র নিয়েছেন। অথচ কম্বোডিয়ার অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো না, চাকরির সুযোগও কম। তাহলে ওখানে এত মানুষ কেন যাচ্ছে? ওই স্ক্যাম সেন্টার, যেখানে বসে প্রতারণা করতে হয় নিরীহ মানুষকে। জুনে ফিরেছেন ৬৪৬ জন। প্রতিদিন ফিরছেন আরও মানুষ। যারা ফিরছেন তাঁদের চোখে মুখে শুধু স্বপ্নভঙ্গের গ্লানি। যারা আটকে আছেন, তাঁদের কপালে দুঃখ।

এখন প্রশ্ন উঠবে, যাচাই না করে এসব দেশে ছাড়পত্র দিল কে? রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো তো দিয়েছে, সরকারি অনুমোদনও তো লেগেছে। অথচ যে রাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব, সেই রাষ্ট্রই যখন যুদ্ধরত দেশে শ্রমিক পাঠায়, তখন এটাকে কী বলা যায়? শুধু উদাসীনতা নয়, এটি দায়িত্বে অবহেলা। সরাসরি বললে, মানব পাচারে সরকারি সহযোগিতা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে ২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গার সময় থেকেই। তার আগের বছর সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ গেছেন ওখানে। ওমানেও ২০২৩ সালে গেছিলেন সোয়া লাখের বেশি, এখন কার্যত বন্ধ। আরব আমিরাতে ২০২৩ সালে গেছিলেন প্রায় এক লাখ, ২০২৫ সালে মাত্র ১৩ হাজার ৭৫০ জন। বাহরাইন তো বহুদিন ধরেই বন্ধ। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টা প্রধান গন্তব্যের মধ্যে টিকে আছে শুধু সৌদি আরব। কিন্তু সৌদি আরবেও কি অবস্থা ভালো?

২০২৪ সালে গেছিলেন সোয়া ছয় লাখ, ২০২৫ সালে সাত লাখ ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। কিন্তু এ বছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র দুই লাখ ১৫ হাজার। আর সৌদি গিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তো পুরোনো। এখন সেখানে যে হারে মানুষ যাচ্ছে, সেই হারে কাজ নেই বলেই মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

দেশের ভেতরে বেকারত্ব বাড়ছে। বড় বাজারগুলো একে একে বন্ধ। যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোর অবস্থাও টালমাটাল। তাহলে একটা তরুণের সামনে কী পথ থাকে? হয় হাল ছেড়ে বসে থাকা, নয়তো ঝুঁকি নেওয়া। আর এই ঝুঁকি নেওয়ার পথটাকেই তো দালালরা সাজিয়ে দিচ্ছে সুন্দর প্রলোভনে। ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে পাঠানো হচ্ছে লিবিয়ায়। সেখানে গিয়ে নির্যাতন, মুক্তিপণ, তারপর ভূমধ্যসাগরে ভাসমান লাশ। ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ জনের। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি, ৩২ শতাংশ। এই তালিকায় আর কারা আছে? আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিশর, পাকিস্তান। তফাতটা বোঝেন নিশ্চয়ই!

এবার মানব পাচারের হিসাবটা করা যাক। ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫৩৬টি। অভিযুক্ত ১ হাজার ৬৫৭ জনের মধ্যে গ্রেপ্তার মাত্র ৩৫৩ জন। পাঁচ বছরে মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৪২৭টি। এর মধ্যে খালাস পেয়েছেন ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ আসামি। মানে পাচারকারীদের ধরা তো দূরের কথা, ধরলেও শাস্তি হচ্ছে না। তাহলে এই ব্যবসা কেন বন্ধ হবে? যেখানে শাস্তির ভয় নেই, সেখানে অপরাধ তো বাড়বেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব দেশের নিয়োগপত্র যাচাই করা যাচ্ছে না। তাহলে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে কেন? সরকারের মানসিকতা বদলানো দরকার বলে মন্তব্য করছেন অভিবাসন খাত বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। কিন্তু মানসিকতা বদলাবে কীভাবে, যখন খোদ সরকারের নীতিতেই ঘাপলা? ইশতেহারে বিদেশি কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে একটার পর একটা বাজার বন্ধ। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও দায় এড়াতে চায়। বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলছেন, ৭০% কর্মী সৌদি যাচ্ছেন স্বল্প মেয়াদে, গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না। কে এর দায় নেবে? সরকার না এজেন্সি?

গত পাঁচ অর্থবছরে বছরে গড়ে ২ হাজার ৬৪৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। এই টাকাটা আসে কার ঘামে? জাহাঙ্গীরদের মতো মানুষের, মশিউরদের মতো সর্বস্ব হারানো মানুষের। মাদারীপুরের মশিউর রহমান নিজের খাবারের হোটেল ছেড়ে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ৩২ লাখ টাকা খুইয়ে ফিরেছেন শুধু প্রাণ নিয়ে। বাড়িতে অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা, কিন্তু মশিউরের চিন্তা একটাই, পাওনাদারদের কী বলবেন?

প্রশ্নটা রাষ্ট্রের কাছেই এখন। যে রাষ্ট্র জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় পাঠালো বাবুর্চির কাজে, অথচ গিয়ে তিনি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করলেন, সেই রাষ্ট্র কি জানে না সেখানে কর্মী পাঠানোর অর্থ যুদ্ধে পাঠানো? কম্বোডিয়ায় যে কর্মীরা যাচ্ছেন, তাঁদের কাজ যে প্রতারণা করা, তা কি অজানা? লিবিয়ায় যে পাচার হচ্ছে, তার তথ্য কি সরকারের কাছে নেই? সব তথ্য জানা সত্ত্বেও যখন কোনো সুরাহা হয় না, শাস্তি হয় না পাচারকারীদের, তখন ধরেই নিতে হয় সিস্টেমের ভেতরেই কেউ না কেউ এই প্রতারণার ভাগ পাচ্ছে। আর এই ভাগ পেতে সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন গরিব, নিরীহ, কাজের খোঁজে দেশ ছাড়া মানুষগুলো। তাঁদের জীবনটা এখন পরীক্ষাগার, যেখানে একেকটা নীতি বদলের খেসারত দিতে হচ্ছে একেকটা পরিবারকে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ