যে তথাকথিত সরকার গ্যাস দিতে পারে না, তারা শাসন করার অধিকারও রাখে না

আজ সকাল সাড়ে সাতটায় বনশ্রীর ই ব্লক এভিনিউ রোডে পঁচিশ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। একটা সিএনজি পেলাম না। অটোরিকশা এসে দাঁড়াচ্ছে, চালক বলছেন পাঁচ শ টাকা, মিটার চালাবেন না। গুলশানের ভাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় এক শ বিশ থেকে এক শ পঞ্চাশ টাকা। প্রশ্নটা সোজা, এটা কী করে সম্ভব? উত্তরের জন্য তাকাতে হয় সিদ্ধান্তহীন আর দিশেহারা এক অবৈধ সরকারের দিকে।

জ্বালানি খাতের এই বিপর্যয় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল না। এটা সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট সংকট। গত চার মাসে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এত দ্রুত ভেঙে পড়েছে যে মনে হয় কেউ পরিকল্পনা করেই চাকা থামিয়ে দিচ্ছে। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোয় তাকালেই বোঝা যায় পুরো বিতরণ নেটওয়ার্ক দুর্বল, অসংগঠিত আর দুর্নীতিগ্রস্ত। অথচ যে দল উচ্চ মূল্যস্ফীতি আর জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেল, তারা আজ মুখে কুলুপ এঁটেছে।

বিএনপি মহাসচিব সম্প্রতি বিদেশ সফর করে এসেছেন। দেশে ফিরে বলেছেন, “জনগণ ধৈর্য ধরুন, অবস্থার উন্নতি হবে।” কথাটা শুনে মনে হচ্ছিল নব্বই দশকের সেই পুরনো ক্যাসেট বাজছে। বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। বাস্তবতা হলো, যে জামাত নেতা দায়িত্বে আছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের, তার বিরুদ্ধে আগেও উঠেছে সিন্ডিকেটকে ছাড় দেয়ার অভিযোগ। সেই একই ব্যক্তি আজ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসে চুপ মেরে আছেন। কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না। কোনো জবাবদিহি করছেন না। গণপরিবহণ যখন রাস্তায় নেই, চালক যখন মহাজনের টাকা জোগাড় করতে না পেরে ঘরে ফিরছেন, তখন একজন মন্ত্রীর পক্ষে চুপ থাকার বিলাসিতা কতখানি শোভনীয়?

গ্যাস সংকটের এই মৌসুম নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই হয়। কিন্তু আগের প্রশাসন অন্তত সঙ্কট মোকাবিলায় মাঠে নামতো। এলএনজি আমদানি, বাফার স্টক আর স্পট মার্কেট থেকে জোগানের পরিকল্পনা আগেভাগেই সেরে রাখা হতো। জামাত-বিএনপির এই জোট সরকার সেখানে কিনা উল্টো দিকে হাঁটছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আগেই এলএনজির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়নের সুযোগ ছিল, তারা সেটাও করেনি। অথচ দায়িত্ব নেয়ার সময় বলা হয়েছিল, “বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে জ্বালানি খাত ঢেলে সাজানো হবে।” ঢালাও মন্ত্রণালয় গঠনের পর সেই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কাজই এখনো আটকে ফাইল স্তূপের তলায়।

এর ভুক্তভোগী কারা? দিনমজুর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী। ইমার্জেন্সি রোগী নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত পরিবারগুলো কি জানে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা এখন ঘুমিয়ে আছেন? তাদের কি কেউ বলতে পারবে, যানবাহনের অভাবে আপনি সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলেন না, এটা কার ব্যর্থতা? ব্যর্থতার পুরো কৃতিত্বটা যায় বিএনপির কাছে। আর সেই ব্যর্থতার নীরব অংশীদার জামাত।

অথচ এই জামাতের নেতারা আড়ালে কথা বলেন ভিন্ন সুরে। সম্প্রতি এক বেসরকারি অনুষ্ঠানে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, “সংকট সব সরকারের আমলেই আছে, এটাকে রাজনৈতিক রূপ দিও না।” কিন্তু যিনি বলেছেন, তিনি কি জানেন, গত দুই সপ্তাহে শুধু ঢাকা শহরে সিএনজিচালিত যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের বেশি? জানেন কি, দূরপাল্লার রুটে দিনে ছেড়ে যাওয়া বাসের সংখ্যা ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে? এই পরিসংখ্যান জানা সত্ত্বেও যদি কেউ একে “সব আমলের সমস্যা” বলেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি দেশ চালাচ্ছেন না, জনগণকে বোকা বানাচ্ছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই সংকটের মধ্যে কোনোরকম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা তো দূরের কথা, বরং ভাড়া বাড়ানোর অবৈধ সিন্ডিকেটের পেছনে সরকারের মদদ দেখতে পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। র‍্যাব আর পুলিশ মাঠে নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত কোথায় উধাও হয়ে গেছে, তারও কোনো খবর নেই। অথচ বিএনপি নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান জানতে চাইলে কোনো মুখপাত্র সাড়া দিচ্ছেন না। যে দল একসময় “মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের অঙ্গীকার” বলতেন, সে দলের চাবিকাঠি এখন নিশ্চুপতার তালায় মরিচা পড়া।

মনে পড়ে যায় ২০০১-০৬ সালের কথা। তখনো পেট্রল-ডিজেল-সিএনজির সংকটে অচল রাজধানী। তখনকার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, “গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী পূর্ববর্তী সরকার।” জনগণ সেটা বিশ্বাস করেনি। কারণ দায় এড়ানোর ফন্দি মানুষ বোঝে। আজ সেই একই মন্ত্রণালয় আরেক দফায় বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। আবার সেই একই ভাষা, আবার সেই ফাঁকা বুলি। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, কিন্তু তাতে শিক্ষণীয় কিছু ঘটছে না।

এই জ্বালানি সংকটের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা? কেন বারবার একই সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে যখন বিএনপি আর জামাত হাতে ক্ষমতার রিমোট পায়? এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার সাহস তাদের নেই। কারণ উত্তরটা রাষ্ট্রের একেবারে অভ্যন্তরীণ মিত্রতা আর স্বার্থ চক্রের দিকে আঙুল তোলে।

আজ সকাল সাড়ে সাতটায় বনশ্রীর ই ব্লক এভিনিউ রোডে পঁচিশ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম। একটা সিএনজি পেলাম না। অটোরিকশা এসে দাঁড়াচ্ছে, চালক বলছেন পাঁচ শ টাকা, মিটার চালাবেন না। গুলশানের ভাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় এক শ বিশ থেকে এক শ পঞ্চাশ টাকা। প্রশ্নটা সোজা, এটা কী করে সম্ভব? উত্তরের জন্য তাকাতে হয় সিদ্ধান্তহীন আর দিশেহারা এক অবৈধ সরকারের দিকে।

জ্বালানি খাতের এই বিপর্যয় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল না। এটা সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট সংকট। গত চার মাসে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এত দ্রুত ভেঙে পড়েছে যে মনে হয় কেউ পরিকল্পনা করেই চাকা থামিয়ে দিচ্ছে। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোয় তাকালেই বোঝা যায় পুরো বিতরণ নেটওয়ার্ক দুর্বল, অসংগঠিত আর দুর্নীতিগ্রস্ত। অথচ যে দল উচ্চ মূল্যস্ফীতি আর জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেল, তারা আজ মুখে কুলুপ এঁটেছে।

বিএনপি মহাসচিব সম্প্রতি বিদেশ সফর করে এসেছেন। দেশে ফিরে বলেছেন, “জনগণ ধৈর্য ধরুন, অবস্থার উন্নতি হবে।” কথাটা শুনে মনে হচ্ছিল নব্বই দশকের সেই পুরনো ক্যাসেট বাজছে। বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। বাস্তবতা হলো, যে জামাত নেতা দায়িত্বে আছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের, তার বিরুদ্ধে আগেও উঠেছে সিন্ডিকেটকে ছাড় দেয়ার অভিযোগ। সেই একই ব্যক্তি আজ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসে চুপ মেরে আছেন। কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না। কোনো জবাবদিহি করছেন না। গণপরিবহণ যখন রাস্তায় নেই, চালক যখন মহাজনের টাকা জোগাড় করতে না পেরে ঘরে ফিরছেন, তখন একজন মন্ত্রীর পক্ষে চুপ থাকার বিলাসিতা কতখানি শোভনীয়?

গ্যাস সংকটের এই মৌসুম নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই হয়। কিন্তু আগের প্রশাসন অন্তত সঙ্কট মোকাবিলায় মাঠে নামতো। এলএনজি আমদানি, বাফার স্টক আর স্পট মার্কেট থেকে জোগানের পরিকল্পনা আগেভাগেই সেরে রাখা হতো। জামাত-বিএনপির এই জোট সরকার সেখানে কিনা উল্টো দিকে হাঁটছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আগেই এলএনজির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়নের সুযোগ ছিল, তারা সেটাও করেনি। অথচ দায়িত্ব নেয়ার সময় বলা হয়েছিল, “বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে জ্বালানি খাত ঢেলে সাজানো হবে।” ঢালাও মন্ত্রণালয় গঠনের পর সেই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের কাজই এখনো আটকে ফাইল স্তূপের তলায়।

এর ভুক্তভোগী কারা? দিনমজুর, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী। ইমার্জেন্সি রোগী নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত পরিবারগুলো কি জানে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা এখন ঘুমিয়ে আছেন? তাদের কি কেউ বলতে পারবে, যানবাহনের অভাবে আপনি সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলেন না, এটা কার ব্যর্থতা? ব্যর্থতার পুরো কৃতিত্বটা যায় বিএনপির কাছে। আর সেই ব্যর্থতার নীরব অংশীদার জামাত।

অথচ এই জামাতের নেতারা আড়ালে কথা বলেন ভিন্ন সুরে। সম্প্রতি এক বেসরকারি অনুষ্ঠানে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, “সংকট সব সরকারের আমলেই আছে, এটাকে রাজনৈতিক রূপ দিও না।” কিন্তু যিনি বলেছেন, তিনি কি জানেন, গত দুই সপ্তাহে শুধু ঢাকা শহরে সিএনজিচালিত যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের বেশি? জানেন কি, দূরপাল্লার রুটে দিনে ছেড়ে যাওয়া বাসের সংখ্যা ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে? এই পরিসংখ্যান জানা সত্ত্বেও যদি কেউ একে “সব আমলের সমস্যা” বলেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি দেশ চালাচ্ছেন না, জনগণকে বোকা বানাচ্ছেন।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই সংকটের মধ্যে কোনোরকম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা তো দূরের কথা, বরং ভাড়া বাড়ানোর অবৈধ সিন্ডিকেটের পেছনে সরকারের মদদ দেখতে পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। র‍্যাব আর পুলিশ মাঠে নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত কোথায় উধাও হয়ে গেছে, তারও কোনো খবর নেই। অথচ বিএনপি নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান জানতে চাইলে কোনো মুখপাত্র সাড়া দিচ্ছেন না। যে দল একসময় “মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের অঙ্গীকার” বলতেন, সে দলের চাবিকাঠি এখন নিশ্চুপতার তালায় মরিচা পড়া।

মনে পড়ে যায় ২০০১-০৬ সালের কথা। তখনো পেট্রল-ডিজেল-সিএনজির সংকটে অচল রাজধানী। তখনকার অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, “গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী পূর্ববর্তী সরকার।” জনগণ সেটা বিশ্বাস করেনি। কারণ দায় এড়ানোর ফন্দি মানুষ বোঝে। আজ সেই একই মন্ত্রণালয় আরেক দফায় বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। আবার সেই একই ভাষা, আবার সেই ফাঁকা বুলি। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, কিন্তু তাতে শিক্ষণীয় কিছু ঘটছে না।

এই জ্বালানি সংকটের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা? কেন বারবার একই সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে যখন বিএনপি আর জামাত হাতে ক্ষমতার রিমোট পায়? এই প্রশ্নের জবাব দেয়ার সাহস তাদের নেই। কারণ উত্তরটা রাষ্ট্রের একেবারে অভ্যন্তরীণ মিত্রতা আর স্বার্থ চক্রের দিকে আঙুল তোলে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ