বিএনপি-জামাতের তেলের রাজনীতি: যাত্রীদের পকেট খালি করার নতুন অস্ত্র

ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটা কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়। এটা বিএনপি-জামাতের চিরচেনা খেলারই নতুন সংস্করণ। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দুই দলের জোট সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে যে ভাবে শিকেয় তুলেছিল, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এসে ঠিক সেই নাটকই মঞ্চস্থ হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্যগুলোই বলে দিচ্ছে আসল ছবিটা কেমন! ৪৫ সিটের একটি দূরপাল্লার বাস প্রতি লিটার ডিজেলে চলে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার। আগে ১১৫ টাকা লিটার দরে প্রতি কিলোমিটারে খরচ ছিল ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা। এখন ১৩৫ টাকা দরে তা ৩৮ টাকা ৫৭ পয়সা। ১০০ কিলোমিটারে খরচ বেড়েছে ৫৭১ টাকা। গাবতলী থেকে পঞ্চগড় ৪৩৮ কিলোমিটার। এক রাউন্ড ট্রিপে ২৫০ লিটার ডিজেল লাগে। আগে তেলের পেছনে খরচ ছিল ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা, এখন ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ শুধু এক ট্রিপেই বাড়তি ৫ হাজার টাকা। মাসে ২৫ দিন চললে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এই টাকা কে দেবে? বাস মালিক নাকি যাত্রী?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিকের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, তারাকান্দি রুটে একটি বাসে ৮০ থেকে ৮৫ লিটার ডিজেল লাগে। পূর্বাচল ঘুরে টার্মিনালে আসা-যাওয়ার খরচ যোগ করলে প্রতি গাড়িতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ৩ হাজার টাকা। ৪৫ আসনের গাড়িতে ৩০ জন যাত্রী ধরে জনপ্রতি ২০ টাকা বাড়তি ভাড়া নিলেও মিলবে ১ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ বাড়তি খরচের অর্ধেকও উঠবে না। তিনি বলছেন, কিছুদিন আগেই ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখন আবার ৫০ টাকা বাড়ালে যাত্রীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে।

মহাখালী বাস টার্মিনালের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবুল সাফ বলছেন, ১০০ কিলোমিটারে শুধু ডিজেলের পেছনে অতিরিক্ত ৫৭১ টাকা খরচ পরিবহন মালিকদের চরম সংকটে ফেলেছে। অথচ ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনও একই কায়দায় তেলের দাম বাড়িয়ে ভাড়া বাড়ানোর ছাড়পত্র দেওয়া হতো। ভাড়া কমানোর প্রশ্ন এলেই মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া হতো।

লোকাল বাসের অবস্থা আরও বাজে। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩৩০ টাকা হলেও লোকাল বাসে নেওয়া হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। অথচ ময়মনসিংহ পৌঁছাতে দূরপাল্লার বাসের সমান জ্বালানিই খরচ হয়। ফলে ভাড়া কিছুটা বাড়ালেও এই বাড়তি তেলের খরচে লোকাল বাসগুলো মারাত্মক লোকসানে পড়বে। এই লোকসানের চাপ শেষ পর্যন্ত যাবে যাত্রীর ওপরই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমের কথায় আরও স্পষ্ট হয় পরিস্থিতি। তিনি বলছেন, ডলারের দাম যখন ৮৬ টাকা ৩১ পয়সা ছিল, তখনকার হিসাব ধরে বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ডলারের দাম ১২৬ টাকায় উঠলেও ভাড়ার অন্যান্য উপাদানের খরচ সমন্বয় করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানে গাড়ি চালাচ্ছেন মালিকরা। এখন আবার তেলের দাম বাড়ায় ছোট মালিকদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়মিত ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার সেই দাবি মানছে না।

আর যাত্রীদের ক্ষোভের কথা আলাদা করে বলার কিছু নেই। আশিকুর রহমান নামে এক যাত্রী বলছেন, তেলের দাম বাড়লেই মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর জন্য চাপ দেন, কিন্তু তেলের দাম কমলে ভাড়া কমানোর উদ্যোগ দেখা যায় না। মানুষের আয় তো রাতারাতি বাড়েনি। রাকিবুল ইসলাম নামে আরেক যাত্রী বলছেন, ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ায় তা ৪০০ টাকা করা হয়। মাত্র চার মাসের মাথায় আবারও ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করা হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে তা বহন করবে?

২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাতের আমলে তেলের দাম বাড়িয়ে, ভাড়া বাড়িয়ে, সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ ছিল না। সেই সময়েও ভাড়া কমানোর প্রশ্নে সরকারের কোনো সদুত্তর ছিল না। আজ ২০২৬ সালে এসে বিএনপি সংসদে বসে আছে, জামাতে ইসলামও ক্ষমতার ভাগ বসিয়েছে, আর ঠিক সেই পুরনো খেলাই আবার শুরু হয়েছে। তেলের দাম বাড়িয়ে মালিকদের চাপে ফেলা হচ্ছে, আর সেই চাপের দায় চাপানো হচ্ছে সাধারণ যাত্রীর ওপর।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ যাত্রীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন সরকারের নেই। ২০০১-০৬ সালের সেই অন্ধকার দিনগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটছে ২০২৬ সালে। বিএনপি আর জামাত আবারও প্রমাণ করছে, তারা ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটা কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়। এটা বিএনপি-জামাতের চিরচেনা খেলারই নতুন সংস্করণ। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দুই দলের জোট সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে যে ভাবে শিকেয় তুলেছিল, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এসে ঠিক সেই নাটকই মঞ্চস্থ হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্যগুলোই বলে দিচ্ছে আসল ছবিটা কেমন! ৪৫ সিটের একটি দূরপাল্লার বাস প্রতি লিটার ডিজেলে চলে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার। আগে ১১৫ টাকা লিটার দরে প্রতি কিলোমিটারে খরচ ছিল ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা। এখন ১৩৫ টাকা দরে তা ৩৮ টাকা ৫৭ পয়সা। ১০০ কিলোমিটারে খরচ বেড়েছে ৫৭১ টাকা। গাবতলী থেকে পঞ্চগড় ৪৩৮ কিলোমিটার। এক রাউন্ড ট্রিপে ২৫০ লিটার ডিজেল লাগে। আগে তেলের পেছনে খরচ ছিল ২৮ হাজার ৭৫০ টাকা, এখন ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ শুধু এক ট্রিপেই বাড়তি ৫ হাজার টাকা। মাসে ২৫ দিন চললে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এই টাকা কে দেবে? বাস মালিক নাকি যাত্রী?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিকের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, তারাকান্দি রুটে একটি বাসে ৮০ থেকে ৮৫ লিটার ডিজেল লাগে। পূর্বাচল ঘুরে টার্মিনালে আসা-যাওয়ার খরচ যোগ করলে প্রতি গাড়িতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ৩ হাজার টাকা। ৪৫ আসনের গাড়িতে ৩০ জন যাত্রী ধরে জনপ্রতি ২০ টাকা বাড়তি ভাড়া নিলেও মিলবে ১ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ বাড়তি খরচের অর্ধেকও উঠবে না। তিনি বলছেন, কিছুদিন আগেই ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এখন আবার ৫০ টাকা বাড়ালে যাত্রীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে।

মহাখালী বাস টার্মিনালের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবুল সাফ বলছেন, ১০০ কিলোমিটারে শুধু ডিজেলের পেছনে অতিরিক্ত ৫৭১ টাকা খরচ পরিবহন মালিকদের চরম সংকটে ফেলেছে। অথচ ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনও একই কায়দায় তেলের দাম বাড়িয়ে ভাড়া বাড়ানোর ছাড়পত্র দেওয়া হতো। ভাড়া কমানোর প্রশ্ন এলেই মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া হতো।

লোকাল বাসের অবস্থা আরও বাজে। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩৩০ টাকা হলেও লোকাল বাসে নেওয়া হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। অথচ ময়মনসিংহ পৌঁছাতে দূরপাল্লার বাসের সমান জ্বালানিই খরচ হয়। ফলে ভাড়া কিছুটা বাড়ালেও এই বাড়তি তেলের খরচে লোকাল বাসগুলো মারাত্মক লোকসানে পড়বে। এই লোকসানের চাপ শেষ পর্যন্ত যাবে যাত্রীর ওপরই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমের কথায় আরও স্পষ্ট হয় পরিস্থিতি। তিনি বলছেন, ডলারের দাম যখন ৮৬ টাকা ৩১ পয়সা ছিল, তখনকার হিসাব ধরে বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ডলারের দাম ১২৬ টাকায় উঠলেও ভাড়ার অন্যান্য উপাদানের খরচ সমন্বয় করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানে গাড়ি চালাচ্ছেন মালিকরা। এখন আবার তেলের দাম বাড়ায় ছোট মালিকদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়মিত ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার সেই দাবি মানছে না।

আর যাত্রীদের ক্ষোভের কথা আলাদা করে বলার কিছু নেই। আশিকুর রহমান নামে এক যাত্রী বলছেন, তেলের দাম বাড়লেই মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর জন্য চাপ দেন, কিন্তু তেলের দাম কমলে ভাড়া কমানোর উদ্যোগ দেখা যায় না। মানুষের আয় তো রাতারাতি বাড়েনি। রাকিবুল ইসলাম নামে আরেক যাত্রী বলছেন, ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ায় তা ৪০০ টাকা করা হয়। মাত্র চার মাসের মাথায় আবারও ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করা হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে তা বহন করবে?

২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাতের আমলে তেলের দাম বাড়িয়ে, ভাড়া বাড়িয়ে, সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ ছিল না। সেই সময়েও ভাড়া কমানোর প্রশ্নে সরকারের কোনো সদুত্তর ছিল না। আজ ২০২৬ সালে এসে বিএনপি সংসদে বসে আছে, জামাতে ইসলামও ক্ষমতার ভাগ বসিয়েছে, আর ঠিক সেই পুরনো খেলাই আবার শুরু হয়েছে। তেলের দাম বাড়িয়ে মালিকদের চাপে ফেলা হচ্ছে, আর সেই চাপের দায় চাপানো হচ্ছে সাধারণ যাত্রীর ওপর।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ যাত্রীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন সরকারের নেই। ২০০১-০৬ সালের সেই অন্ধকার দিনগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটছে ২০২৬ সালে। বিএনপি আর জামাত আবারও প্রমাণ করছে, তারা ক্ষমতায় থাকলে সাধারণ মানুষের পকেটই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ