আজ রাত ১২টার পর থেকে দেশের সব জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ছে। ডিজেল ১১৫ থেকে ১৩৫, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।
এই বাড়তি দামের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খাবে সাধারণ মানুষ। ডিজেল চালিত বাস, ট্রাক, নৌকা, সেচ পাম্প সবকিছুর খরচ বাড়বে। কেরোসিনের দাম বাড়ায় গ্রামের গরিব পরিবারগুলো আরও চাপে পড়বে। অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ায় মোটরসাইকেল চালক, ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক সবার পকেটে টান পড়বে। একদিকে বাজারদর আগে থেকেই আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও লাফিয়ে বাড়বে। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়ল আরও।
২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকার সময় একের পর এক দুর্নীতি, লুটপাট, টেন্ডারবাজি, গুম-খুন, চাঁদাবাজি আর জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল। ইতিহাসের সেই অন্ধকার অধ্যায় আবার ফিরিয়ে আনতে চাইছে বলেই আজকের এই সিদ্ধান্ত। তেলের দাম বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ মানুষের কথা ভাবা উচিত ছিল। কিন্তু বিএনপি-জামাতের কাছে জনগণের কষ্ট কোনো বিষয়ই না। তারা ক্ষমতায় এসে শুধু নিজেদের স্বার্থ আর বিদেশি প্রভুদেরকেই তুষ্ট করতেই ব্যস্ত।
এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসলে একটি পরিকল্পিত লুটপাটের অংশ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে, কিন্তু দেশে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এই বাড়তি টাকা কোথায় যাবে? কে চাপে থাকবে? এসব প্রশ্নের উত্তর বিএনপি-জামাতের কাছে নেই।

