গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক মো. সুজন মিয়া আদালত কক্ষে কথা বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে যা করলেন, তা কোনো বিচারকের আচরণ নয়। এটা একজন দুর্বৃত্তের দখলদারিত্ব। কাঁচের ভারী বস্তু ছুড়ে মারা প্রাণনাশের চেষ্টার শামিল। নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথা ফেটে যখন রক্ত গড়াচ্ছিল, তখন সেই বিচারকের এজলাসে আর বিচার থাকে না, থেকে যায় শুধু সন্ত্রাস।
এটা ২০২৬, আর ঠিক এ সময়টাতেই আমরা দেখছি সেই ভয়ংকর ২০০১-০৬ মডেলের প্রত্যাবর্তন। যে সময়ে বিএনপি-জামাত জোট সরকার এ দেশের বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাব আর নব্য-জঙ্গিবাদী জামাতপন্থী ক্যাডার বাহিনীর নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করেছিল। সেই জামাত, যাদের আদর্শ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, যাদের নেটওয়ার্ক রাজাকার পুনর্বাসনের, সেই জামাত যখন ফের ক্ষমতার ভাগ বসায়, তখন বিচারকের এজলাস হয়ে ওঠে আধিপত্যের আখড়া আর নারীর মাথা ফাটাই যেখানে ক্ষমতার ভাষা।
বিচার বিভাগ আজ দলীয় আস্থাভাজনদের আশ্রয়স্থল, যেখানে আইনজীবী আর বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা নির্ভর করছে একজন বিচারকের মেজাজের ওপর। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিচারকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে তো? দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় প্রাণনাশের চেষ্টার মামলা তো হবেই, কিন্তু আদৌ হবে কি? নাকি জামাতের ভোটের ভয়ে বিচারক নামক এই সন্ত্রাসী আবারও রক্ষা পাবেন?
রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে যারা দখল করেছে ক্ষমতায, তাদের অধীনেই ফিরছে একাত্তরের দোসরদের ভয়ংকর অহংকার, যেখানে নারী আবারও শুধু টার্গেট নয়, বিচারহীনতার প্রতীক। এটা শুধু এক নারী আইনজীবীর মাথা ফাটার ঘটনা নয়, এটা বিচারবহির্ভূত শক্তির রাষ্ট্রীয় বৈধতা পাবার সবুজ সংকেত।

