খিলক্ষেতে আজ যে সিএনজিচালকরা রাস্তা বন্ধ করে দিলেন, তাদের ক্ষোভটা হুট করে তৈরি হয়নি। এই গ্যাস সংকটের একটা ইতিহাস আছে, আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে আছে বিএনপি-জামাত জোটের নামই।
২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকার কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের অনুসন্ধানের কাজ দেয়, ক্ষেত্রটিকে “পরিত্যক্ত” দেখিয়ে নিয়ম পাশ কাটিয়ে। ফল হিসেবে ২০০৫ সালে টেংরাটিলায় দুইটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে দেশের গ্যাস মজুদের প্রায় ১০৬ কোটি ডলার সমমূল্যের ক্ষতি হয়, যার প্রভাব স্থানীয় মানুষ এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে। কানাডার আদালতে নাইকো নিজেই স্বীকার করেছিল, তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে বিলাসবহুল গাড়ি আর বিদেশ ভ্রমণ দিয়ে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, আর সেই টাকার একটা বড় অংশ গিয়েছিল তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীর সিঙ্গাপুরের অ্যাকাউন্টে।
সেই তারেক রহমানই এখন প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪ পরবর্তী আদালত তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো একের পর এক বাতিল করে দিয়েছে, দুর্নীতির প্রশ্নটা আইনগতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, রাজনৈতিকভাবে নয়। আর জামাত, যারা সেই আমলেও জোটসঙ্গী ছিল, আজ সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে নিজেদের “সংস্কারপন্থী” বলে জাহির করছে।
বিশ বছর পর জ্বালানি খাতের সংকট আবার সেই একই চেহারায় ফিরেছে, শুধু ক্ষমতার আসনে বসা মানুষগুলোর বয়স বেড়েছে। খিলক্ষেতের একজন চালক লাইনে দাঁড়িয়ে যে সময়টা হারাচ্ছেন, তার হিসাব রাষ্ট্র রাখে না, কিন্তু ইতিহাস রাখে।

