বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলে বলে যাচ্ছে, কিসের নাকি রঙধনু বাংলাদেশ বানাবে তারা সেই কথা, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার জায়গা আছে সেখানে বলে বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছে, অথচ মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখুন খ্রিস্টান পরিবারগুলো কীভাবে বেঁচে আছে।
দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র শূন্য দশমিক তিন শতাংশ খ্রিস্টান, এই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীটাই এখন সবচেয়ে বেশি ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে মব হামলা, ইসলামি জঙ্গি মনোভাবাপন্ন পাড়া-প্রতিবেশীর নিপীড়ন, এমনকি নিজের পরিবারের ভেতর থেকেও নেমে আসছে নির্যাতনের খড়্গ।
ভয়েস অফ দ্য মার্টায়ার্স এর টড নেটলটন যা বলছেন তা নতুন কিছু না, ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে ভয়াবহ ইতিহাস দেখেছি, তারই এক প্রতিচ্ছবি যেন ফিরে আসছে ২০২৬ সালে। ক্ষমতার গরম চেয়ারে বসে গালভরা কথা বলা আর তৃণমূলে ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এই দুইয়ের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, সেটা মেটানোর কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সংসদে শক্ত অবস্থান নিয়ে বসে থাকা জামায়াতে ইসলামীর ধর্মভিত্তিক রাজনীতিও সংখ্যালঘুদের জন্য বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করে, সেই বাস্তবতা অস্বীকারের উপায় নেই। কথায় রঙধনু, বাস্তবে আতঙ্কের রাজত্ব, এই দ্বিচারিতার মধ্যেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে।

