বিএনপির স্বাস্থ্য প্রশাসন: দলীয় আনুগত্যই একমাত্র যোগ্যতা

চিকিৎসকের এপ্রোন গায়ে দিয়ে কেউ গুণ্ডামি করলে সেটাকে গুণ্ডামিই বলতে হবে, ডাক্তার বলে কুসুম কুসুম মলম মাখানোর প্রয়োজন নেই। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অফিসে তালা ঝুলিয়ে রেখে তারপর চিকিৎসকের দলবদ্ধ হয়ে এক সরকারি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ছবিটা ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দাঁড়িয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন এখন কার হাতে জিম্মি।

ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বন্দ্ব নয়, এটা পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভেতর দলীয় আনুগত্য জাহির করার সংস্কৃতি। ড্যাব নামক চিকিৎসক সংগঠনের যে অংশটি এখানে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে তারা নিজেদের বিএনপিপন্থি পরিচয় গোপনও করছে না, বরং প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সমর্থন করতেন, তাই তাকে পদোন্নতি দিয়ে এই পদে থাকতে দেওয়া চলবে না।

যুক্তি তো দাঁড়াল এই যে একটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ আর বদলির একমাত্র মাপকাঠি দলীয় পরিচয়, দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা নয়। অথচ ঠিক এই একই দল যখন বিরোধী আসনে ছিল তখন আমলাতন্ত্রের নিরপেক্ষতা আর পেশাদারিত্বের কথা বলে আকাশ পাতাল কাঁপিয়েছে। ডা. মনিরুজ্জামান ৫ আগস্টের পর বদলি হয়ে সাতক্ষীরায় গিয়েছিলেন, তার মানে তৎকালীন প্রশাসনিক প্রতিশোধের শিকার তিনিও হয়েছিলেন।

কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয়নি এই গোষ্ঠী, বরং তিনি পদোন্নতি পেয়ে বরিশালে ফেরায় তাদের ক্ষোভ যেন বাঁধভাঙা। প্রশ্ন হচ্ছে যারা ২০০১-০৬ সালে পেশেন্টের লাশ ফেলে রেখে হাসপাতালে স্ট্রাইক করতেন, যে দলের শাসনামলে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি আর চিকিৎসকদের রাজনৈতিক কোটা পূরণে প্রতিষ্ঠানের সর্বনাশ হয়েছিল, সেই একই দল আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে পেশাদারিত্বের পাঠ পড়াবে? বাস্তবতা হলো ড্যাবের একটা অংশ এখন ক্ষমতার দম্ভে বিভোর হয়ে প্রকাশ্য দাপট দেখাচ্ছে আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এই নীরবতা অনুমোদনেরই নামান্তর।

চিকিৎসকের এপ্রোন গায়ে দিয়ে কেউ গুণ্ডামি করলে সেটাকে গুণ্ডামিই বলতে হবে, ডাক্তার বলে কুসুম কুসুম মলম মাখানোর প্রয়োজন নেই। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অফিসে তালা ঝুলিয়ে রেখে তারপর চিকিৎসকের দলবদ্ধ হয়ে এক সরকারি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ছবিটা ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দাঁড়িয়ে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রশাসন এখন কার হাতে জিম্মি।

ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বন্দ্ব নয়, এটা পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভেতর দলীয় আনুগত্য জাহির করার সংস্কৃতি। ড্যাব নামক চিকিৎসক সংগঠনের যে অংশটি এখানে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে তারা নিজেদের বিএনপিপন্থি পরিচয় গোপনও করছে না, বরং প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সমর্থন করতেন, তাই তাকে পদোন্নতি দিয়ে এই পদে থাকতে দেওয়া চলবে না।

যুক্তি তো দাঁড়াল এই যে একটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ আর বদলির একমাত্র মাপকাঠি দলীয় পরিচয়, দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা নয়। অথচ ঠিক এই একই দল যখন বিরোধী আসনে ছিল তখন আমলাতন্ত্রের নিরপেক্ষতা আর পেশাদারিত্বের কথা বলে আকাশ পাতাল কাঁপিয়েছে। ডা. মনিরুজ্জামান ৫ আগস্টের পর বদলি হয়ে সাতক্ষীরায় গিয়েছিলেন, তার মানে তৎকালীন প্রশাসনিক প্রতিশোধের শিকার তিনিও হয়েছিলেন।

কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয়নি এই গোষ্ঠী, বরং তিনি পদোন্নতি পেয়ে বরিশালে ফেরায় তাদের ক্ষোভ যেন বাঁধভাঙা। প্রশ্ন হচ্ছে যারা ২০০১-০৬ সালে পেশেন্টের লাশ ফেলে রেখে হাসপাতালে স্ট্রাইক করতেন, যে দলের শাসনামলে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি আর চিকিৎসকদের রাজনৈতিক কোটা পূরণে প্রতিষ্ঠানের সর্বনাশ হয়েছিল, সেই একই দল আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে পেশাদারিত্বের পাঠ পড়াবে? বাস্তবতা হলো ড্যাবের একটা অংশ এখন ক্ষমতার দম্ভে বিভোর হয়ে প্রকাশ্য দাপট দেখাচ্ছে আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এই নীরবতা অনুমোদনেরই নামান্তর।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ