বাংলাদেশ ২০২৬: অস্ত্রের রাজত্বে বন্দি নাগরিক অধিকার

আবারো ফিরে এলো সেই ভয়ালো কালো অধ্যায় বাংলাদেশের বুকে। ২০০১-০৬ মেয়াদের নৃশংসতা ভুলতে না ভুলতেই ২০২৬ এসে আবারো টের পাচ্ছি, রাষ্ট্রযন্ত্র যখন সহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতায় মগ্ন, তখন জনজীবনের মূল্য শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব স্পষ্ট বলছে, গত তিন মাসে সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই লাশের মিছিল থামছেই না।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র চট্টগ্রামের রাউজানে। সেখানে গত বছরের আগস্ট পরবর্তী সময়ে আড়াই ডজন খুনের ঘটনায় পুরো এলাকা এখন ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ নামে পরিচিত। জনাকীর্ণ বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে সাতজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে গেছে, অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকায়। এটাই কি সেই সুশাসনের বাংলাদেশ, যেখানে খুনিরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করবে আর বিচার ব্যবস্থা মুখ লুকাবে?

অবৈধ অস্ত্রের সয়লাব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অভিযানে প্রায় দুইশ’ আগ্নেয়াস্ত্র আর কয়েক হাজার কেজি গানপাউডার উদ্ধার হলেও, আসল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে অস্ত্র সরবরাহের লাইন কার হাতে। গোয়েন্দারা বলছেন, কুখ্যাত অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে বা বিদেশ থেকে ফিরে হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে মরিয়া। তাদের এই দাপাদাপির পেছনে কারা নিরাপত্তার ছাতা দিয়ে রেখেছে, তা বুঝতে কারও বাকি নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছে দেশ, আর সেই অগ্নিসংযোগের দায় সরাসরি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ঘাড়েই বর্তায়।

শুধু রাজধানী বা বন্দরনগরী নয়, যশোর সীমান্ত এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ অস্ত্রের মুক্তবাজারে। বিদেশি পিস্তল থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক একে রাইফেল উদ্ধার প্রমাণ করে, সীমান্ত দিয়ে কত সহজে অস্ত্র ঢুকছে আর প্রশাসন সেটা উপভোগ করছে। যে বাহিনীকে সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই বাহিনীই যেন চোখ বন্ধ করে আছে ক্ষমতার মদদপুষ্ট চক্রের আনা অস্ত্রের চালানে। মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতারকৃত শীর্ষ ছিনতাইকারীর কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার সেই চিত্রকেই আরও পোক্ত করছে।

একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে আসে : ২০০১ সালের পর বিএনপি জামায়াতের আমলে যে সহিংসতা, বোমাবাজি আর উচ্ছৃঙ্খলতা জাতি দেখেছিল, সেই একই ছায়া আবার কেন? তখনকার অস্ত্রবাজি আর এখনকার টার্গেট কিলিংয়ের ধরন যেন একই সূত্রে গাঁথা। তখন ক্ষমতার দাপটে বিরোধী দল আর সাধারণ নাগরিককে জিম্মি করা হতো, এখন সেই একই কায়দায় বিএনপি জামাতের অনুগত গোষ্ঠীগুলো এলাকায় এলাকায় প্রতিপক্ষ নির্মূলের মহড়া চালাচ্ছে। রাষ্ট্রের চোখে বালি ঢেলে দিনরাত চলে হত্যা, গুলি, বোমা বিস্ফোরণ আর জনমনে তার আঁচ কাটতে কাটতে ফুঁসে ওঠে ক্ষোভ।

পরিসংখ্যানের অঙ্ক ভয়াবহ। শুধু চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসে নয়শ’র বেশি খুনের মামলা। এর বাইরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ও গুলিবিদ্ধের সংখ্যা যে নীরব গণহত্যার ইঙ্গিত দেয়, তা এখন আর চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি যখন উৎসাহিত হয় উপরমহল থেকে, তখন অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

আবারো ফিরে এলো সেই ভয়ালো কালো অধ্যায় বাংলাদেশের বুকে। ২০০১-০৬ মেয়াদের নৃশংসতা ভুলতে না ভুলতেই ২০২৬ এসে আবারো টের পাচ্ছি, রাষ্ট্রযন্ত্র যখন সহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতায় মগ্ন, তখন জনজীবনের মূল্য শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব স্পষ্ট বলছে, গত তিন মাসে সারা দেশে গড়ে প্রতিদিন ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই লাশের মিছিল থামছেই না।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র চট্টগ্রামের রাউজানে। সেখানে গত বছরের আগস্ট পরবর্তী সময়ে আড়াই ডজন খুনের ঘটনায় পুরো এলাকা এখন ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ নামে পরিচিত। জনাকীর্ণ বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে সাতজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে গেছে, অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকায়। এটাই কি সেই সুশাসনের বাংলাদেশ, যেখানে খুনিরা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করবে আর বিচার ব্যবস্থা মুখ লুকাবে?

অবৈধ অস্ত্রের সয়লাব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অভিযানে প্রায় দুইশ’ আগ্নেয়াস্ত্র আর কয়েক হাজার কেজি গানপাউডার উদ্ধার হলেও, আসল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে অস্ত্র সরবরাহের লাইন কার হাতে। গোয়েন্দারা বলছেন, কুখ্যাত অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে বা বিদেশ থেকে ফিরে হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে মরিয়া। তাদের এই দাপাদাপির পেছনে কারা নিরাপত্তার ছাতা দিয়ে রেখেছে, তা বুঝতে কারও বাকি নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছে দেশ, আর সেই অগ্নিসংযোগের দায় সরাসরি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ঘাড়েই বর্তায়।

শুধু রাজধানী বা বন্দরনগরী নয়, যশোর সীমান্ত এখন পরিণত হয়েছে অবৈধ অস্ত্রের মুক্তবাজারে। বিদেশি পিস্তল থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক একে রাইফেল উদ্ধার প্রমাণ করে, সীমান্ত দিয়ে কত সহজে অস্ত্র ঢুকছে আর প্রশাসন সেটা উপভোগ করছে। যে বাহিনীকে সীমান্ত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই বাহিনীই যেন চোখ বন্ধ করে আছে ক্ষমতার মদদপুষ্ট চক্রের আনা অস্ত্রের চালানে। মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতারকৃত শীর্ষ ছিনতাইকারীর কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার সেই চিত্রকেই আরও পোক্ত করছে।

একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে আসে : ২০০১ সালের পর বিএনপি জামায়াতের আমলে যে সহিংসতা, বোমাবাজি আর উচ্ছৃঙ্খলতা জাতি দেখেছিল, সেই একই ছায়া আবার কেন? তখনকার অস্ত্রবাজি আর এখনকার টার্গেট কিলিংয়ের ধরন যেন একই সূত্রে গাঁথা। তখন ক্ষমতার দাপটে বিরোধী দল আর সাধারণ নাগরিককে জিম্মি করা হতো, এখন সেই একই কায়দায় বিএনপি জামাতের অনুগত গোষ্ঠীগুলো এলাকায় এলাকায় প্রতিপক্ষ নির্মূলের মহড়া চালাচ্ছে। রাষ্ট্রের চোখে বালি ঢেলে দিনরাত চলে হত্যা, গুলি, বোমা বিস্ফোরণ আর জনমনে তার আঁচ কাটতে কাটতে ফুঁসে ওঠে ক্ষোভ।

পরিসংখ্যানের অঙ্ক ভয়াবহ। শুধু চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসে নয়শ’র বেশি খুনের মামলা। এর বাইরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ও গুলিবিদ্ধের সংখ্যা যে নীরব গণহত্যার ইঙ্গিত দেয়, তা এখন আর চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি যখন উৎসাহিত হয় উপরমহল থেকে, তখন অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ