১৪ জুন, সন্ধ্যা ৬টা। পেনিনসুলা হোটেলের টপ ফ্লোর। সাংগঠনিক বৈঠক হবে বলে যে মেয়েটিকে ডেকে আনা হয়েছিল, সে গিয়ে দেখে জায়গাটা আসলে একটা বার। টেবিলে বসা সুজা উদ্দিন, তার দুই সঙ্গী, আর একমাত্র নারী মুখ সাদিয়া আফরিন। মেয়েটি বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদিয়া উঠে যান, ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছেন বলে। ঠিক তখন থেকেই শুরু হয় বাকিটা।
এই সিকোয়েন্সটা খেয়াল করার মতো। পদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে একজনকে নিয়ে যাওয়া। নির্দিষ্ট একটা জায়গায় বসানো। তারপর যে নিয়ে গেছে, সে সরে পড়া। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার ঠিক এভাবেই কাজ করে। কাউকে একা ফেলে দেওয়া, একজনকে দিয়ে আরেকজনকে চাপে রাখা, আর শেষে অস্বীকার করার সুযোগ রাখা যে কেউ কাউকে জোর করেনি।
অভিযোগকারীর বয়ানে দুটো বাক্য আলাদা করে চোখে পড়ে। একটা সুজার মুখে, “ডিল অর ডেথ”। আরেকটা সাদিয়ার মুখে, “বড় পদ-পদবিধারীদের পার্সোনাল সময় দিতে হয়, এটাই রাজনৈতিক কালচার।” প্রথমটা হুমকি। দ্বিতীয়টা আরও বিপজ্জনক, কারণ এটা হুমকিকে নিয়মে পরিণত করে। পদ চাইতে আসা মেয়েদের জন্য এটাই নাকি স্বাভাবিক রীতি। এই একটা বাক্যই ঘটনাকে একজন নেতার ব্যক্তিগত স্খলন থেকে তুলে দলের একটা সিস্টেমের জায়গায় নিয়ে যায়।
এখন যে অংশটুকু আর অভিযোগ না, পুরোপুরি ফ্যাক্ট, সেটা হলো প্রতিক্রিয়া। অভিযোগ ওঠার পর সুজা উদ্দিনের ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। দলের তরফে কোনো বিবৃতি নেই, তদন্তের ঘোষণা নেই, সাদিয়াকে নিয়ে একটা শব্দও নেই। অথচ এই দলটাই দুই বছর ধরে প্রতিটা বক্তৃতায় বলে এসেছে, ‘পুরোনো’ রাজনীতির জবাবদিহিতাহীনতা ভাঙতেই তাদের জন্ম। নিজের ঘরে প্রথম পরীক্ষা এলো যখন, জবাব হিসেবে মিললো একটা বন্ধ ফোন আর নীরবতা।
থানায় জিডি হয়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু জিডি আর তদন্ত এক জিনিস না, তদন্ত আর শাস্তি আরও আলাদা জিনিস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই দূরত্বটা বিগত দুই বছরে অস্বাভাবিক রকমের চওড়া বানানো হয়েছে, আর জামাত-শিবিরের বি টিম এই তথাকথিত ‘নতুন দল’ হয়েও এনসিপি এখানে কোনো ব্যতিক্রম প্রমাণ করতে পারেনি, সামনে পারার সম্ভাবনাও নেই।

