বিএনপির নেতা-কর্মী হলেই কি ধর্ষণের লাইসেন্স দিয়ে দেয়া হয় দল থেকে?

২০০১ সালের কথা মনে আছে? সেই বছরটার কথা যখন ভোটের রাতেই শুরু হয়েছিল সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্ষণ, লুটপাট? যখন বিএনপির জয়ের উল্লাসে পুরান ঢাকা থেকে বরিশাল, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট, গ্রামের পর গ্রামে মেয়েরা নিরাপদ ছিল না? সেই পাঁচ বছরে যা হয়েছিল, ইতিহাস তা ভুলতে পারেনি। আর এখন ২০২৬ সালে বসে মনে হচ্ছে, আমরা আবার সেই একই বিভীষিকার দ্বিতীয় পর্ব দেখতে বসেছি।

মাত্র এক সপ্তাহ। সাত দিনে ১২টি ঘটনা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের নামে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, গর্ভপাতে বাধ্য করা, যৌতুকের জন্য নির্যাতন। প্রথম আলো, সমকাল, ইত্তেফাক একসাথে লিখছে। একটা দুটো না, বারোটা ঘটনা। বারোটা।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা খালিদ পারভেজ। ফেসবুকে প্রেম, তারপর ঢাকায় এনে বাসা ভাড়া, স্ত্রী পরিচয়, গর্ভবতী হলে মারধর করে গর্ভপাত, আর পরে “বিয়ে করব, দুই বছর সময় দাও।” মেয়েটার শরীরে নির্যাতনের দাগ এখনও আছে। খালিদের কাছে যখন এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, সে ফোন কেটে দিয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতার এটাই জবাব।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের একটা মেয়ে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মহন তালুকদার মায়ের অনুপস্থিতিতে ঘরে ঢুকেছে, ধর্ষণ করেছে, হত্যার হুমকি দিয়েছে। মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর জানা গেছে সে অন্তঃসত্ত্বা। ১০ বছরের একটা শিশু। আর অভিযুক্ত এখনও পলাতক। পুলিশ বলছে “অভিযান চলছে।”

চাঁদপুরের মতলবে অষ্টম শ্রেণির একটা মেয়ে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম মাল ভয় দেখিয়ে বারবার ধর্ষণ করেছে, মেয়েটা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জে স্বামী কাজে থাকার সময় যুবদল নেতা শহীদ মিয়া বাড়িতে ঢুকে দুটো বাচ্চাকে ভয় দেখিয়ে মাকে গণধর্ষণ করেছে। পাবনায় সপ্তম শ্রেণির মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টা করেছে যুবদল নেতা।

আর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পি, নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে মারত। যৌতুকের জন্য চাপ দিত। হত্যার হুমকি দিত। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তার পদ স্থগিত করেছে, তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত! বছরের পর বছর নির্যাতনের পর উত্তর হলো তদন্ত।

এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন না। এটা একটা প্যাটার্ন। ক্ষমতায় এলে বা ক্ষমতার কাছে গেলে বিএনপির একটা অংশ মনে করে তাদের লাইসেন্স হয়ে গেছে। নারীর শরীর তাদের কাছে ট্রফি। দুর্বল মানুষ তাদের কাছে সুযোগ। আর পার্টি কার্ড তাদের কাছে সুরক্ষাকবচ।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এই দলের শাসনামলে যা হয়েছিল, তার দায় কেউ নেয়নি। একটা লোকও সর্বোচ্চ শাস্তি পায়নি। দল থেকে বহিষ্কার হয়েছে কেউ কেউ, কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু দলীয় সংস্কৃতি বদলায়নি। তখনও এই একই কথা বলা হয়েছিল। “তদন্ত চলছে।” “দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” “দলের সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

বিশ বছর পরেও একই বাক্য। শুধু নামগুলো বদলেছে।

নওগাঁয় মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার “অপরাধে” গৃহবধূ হাসিনা খাতুনকে গাছে বেঁধে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বিএনপির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক। মানুষকে গাছে বেঁধে রাখা মানে কী? এটা কোন যুগের রাজনীতি? এটা কোন সভ্যতার নমুনা?

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো, এই লোকগুলো এত সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে? উত্তর সহজ। বছরের পর বছর দলের ভেতরে এই সংস্কৃতি লালন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা হয়েছে। ক্ষমতার ছায়ায় থেকে অপরাধ করেছে, ক্ষমতার ছায়াতেই পার পেয়েছে। এই চক্রটা ভাঙেনি।

দলীয় বহিষ্কার বা পদ স্থগিত করাকে শাস্তি ভাবলে ভুল হবে। এটা দলের ইমেজ বাঁচানোর কৌশল মাত্র। ক্যামেরার সামনে একটু কঠোরতার ভান, আলো সরে গেলে পুরনো ছন্দে ফেরা, এই নাটক আমরা অনেকবার দেখেছি। বিএনপি এই নাটকে এখন মুন্সিয়ানা অর্জন করেছে।

একটা দেশের রাজনীতি কতটা অসুস্থ হলে সাত দিনে একটা দলের বারোজন নেতাকর্মীর নাম ধর্ষণ আর নারী নির্যাতনের মামলায় আসে? এবং দলটা তখনও ক্ষমতার দাবিদার হয়ে বুক ফুলিয়ে হাঁটে?

এটা শুধু বিএনপির ব্যর্থতা না। এটা আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা, যেখানে ক্ষমতার সাথে থাকলে অপরাধের হিসাব বদলে যায়। যেখানে দশ বছরের শিশু থেকে গৃহবধূ, কলেজছাত্রী থেকে স্কুলের মেয়ে, কেউ নিরাপদ না। শুধু অপরাধীর পকেটে একটা দলীয় কার্ড থাকলেই হয়।

২০০১ সালের স্মৃতি যাদের আছে, তারা নিশ্চয়ই ইদানীং টের পাচ্ছেন একটা পরিচিত গন্ধের আনাগোনার। এটা দায়মুক্তির গন্ধ। এটা জবাবদিহিতাহীন ক্ষমতার অশ্লীল প্রদর্শনের গন্ধ। আর ২০২৬ সালে এসে সেই গন্ধটা আবার নাকে লাগছে। বাতাসে ভাসছে। দম আটকে আসছে আমাদের।

২০০১ সালের কথা মনে আছে? সেই বছরটার কথা যখন ভোটের রাতেই শুরু হয়েছিল সংখ্যালঘু নির্যাতন, ধর্ষণ, লুটপাট? যখন বিএনপির জয়ের উল্লাসে পুরান ঢাকা থেকে বরিশাল, চট্টগ্রাম থেকে সিলেট, গ্রামের পর গ্রামে মেয়েরা নিরাপদ ছিল না? সেই পাঁচ বছরে যা হয়েছিল, ইতিহাস তা ভুলতে পারেনি। আর এখন ২০২৬ সালে বসে মনে হচ্ছে, আমরা আবার সেই একই বিভীষিকার দ্বিতীয় পর্ব দেখতে বসেছি।

মাত্র এক সপ্তাহ। সাত দিনে ১২টি ঘটনা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের নামে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, গর্ভপাতে বাধ্য করা, যৌতুকের জন্য নির্যাতন। প্রথম আলো, সমকাল, ইত্তেফাক একসাথে লিখছে। একটা দুটো না, বারোটা ঘটনা। বারোটা।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা খালিদ পারভেজ। ফেসবুকে প্রেম, তারপর ঢাকায় এনে বাসা ভাড়া, স্ত্রী পরিচয়, গর্ভবতী হলে মারধর করে গর্ভপাত, আর পরে “বিয়ে করব, দুই বছর সময় দাও।” মেয়েটার শরীরে নির্যাতনের দাগ এখনও আছে। খালিদের কাছে যখন এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, সে ফোন কেটে দিয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতার এটাই জবাব।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের একটা মেয়ে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মহন তালুকদার মায়ের অনুপস্থিতিতে ঘরে ঢুকেছে, ধর্ষণ করেছে, হত্যার হুমকি দিয়েছে। মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর জানা গেছে সে অন্তঃসত্ত্বা। ১০ বছরের একটা শিশু। আর অভিযুক্ত এখনও পলাতক। পুলিশ বলছে “অভিযান চলছে।”

চাঁদপুরের মতলবে অষ্টম শ্রেণির একটা মেয়ে। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম মাল ভয় দেখিয়ে বারবার ধর্ষণ করেছে, মেয়েটা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জে স্বামী কাজে থাকার সময় যুবদল নেতা শহীদ মিয়া বাড়িতে ঢুকে দুটো বাচ্চাকে ভয় দেখিয়ে মাকে গণধর্ষণ করেছে। পাবনায় সপ্তম শ্রেণির মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টা করেছে যুবদল নেতা।

আর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইদুল ইসলাম বাপ্পি, নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে মারত। যৌতুকের জন্য চাপ দিত। হত্যার হুমকি দিত। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তার পদ স্থগিত করেছে, তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত! বছরের পর বছর নির্যাতনের পর উত্তর হলো তদন্ত।

এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন না। এটা একটা প্যাটার্ন। ক্ষমতায় এলে বা ক্ষমতার কাছে গেলে বিএনপির একটা অংশ মনে করে তাদের লাইসেন্স হয়ে গেছে। নারীর শরীর তাদের কাছে ট্রফি। দুর্বল মানুষ তাদের কাছে সুযোগ। আর পার্টি কার্ড তাদের কাছে সুরক্ষাকবচ।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এই দলের শাসনামলে যা হয়েছিল, তার দায় কেউ নেয়নি। একটা লোকও সর্বোচ্চ শাস্তি পায়নি। দল থেকে বহিষ্কার হয়েছে কেউ কেউ, কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু দলীয় সংস্কৃতি বদলায়নি। তখনও এই একই কথা বলা হয়েছিল। “তদন্ত চলছে।” “দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” “দলের সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

বিশ বছর পরেও একই বাক্য। শুধু নামগুলো বদলেছে।

নওগাঁয় মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার “অপরাধে” গৃহবধূ হাসিনা খাতুনকে গাছে বেঁধে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বিএনপির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক। মানুষকে গাছে বেঁধে রাখা মানে কী? এটা কোন যুগের রাজনীতি? এটা কোন সভ্যতার নমুনা?

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো, এই লোকগুলো এত সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে? উত্তর সহজ। বছরের পর বছর দলের ভেতরে এই সংস্কৃতি লালন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা হয়েছে। ক্ষমতার ছায়ায় থেকে অপরাধ করেছে, ক্ষমতার ছায়াতেই পার পেয়েছে। এই চক্রটা ভাঙেনি।

দলীয় বহিষ্কার বা পদ স্থগিত করাকে শাস্তি ভাবলে ভুল হবে। এটা দলের ইমেজ বাঁচানোর কৌশল মাত্র। ক্যামেরার সামনে একটু কঠোরতার ভান, আলো সরে গেলে পুরনো ছন্দে ফেরা, এই নাটক আমরা অনেকবার দেখেছি। বিএনপি এই নাটকে এখন মুন্সিয়ানা অর্জন করেছে।

একটা দেশের রাজনীতি কতটা অসুস্থ হলে সাত দিনে একটা দলের বারোজন নেতাকর্মীর নাম ধর্ষণ আর নারী নির্যাতনের মামলায় আসে? এবং দলটা তখনও ক্ষমতার দাবিদার হয়ে বুক ফুলিয়ে হাঁটে?

এটা শুধু বিএনপির ব্যর্থতা না। এটা আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা, যেখানে ক্ষমতার সাথে থাকলে অপরাধের হিসাব বদলে যায়। যেখানে দশ বছরের শিশু থেকে গৃহবধূ, কলেজছাত্রী থেকে স্কুলের মেয়ে, কেউ নিরাপদ না। শুধু অপরাধীর পকেটে একটা দলীয় কার্ড থাকলেই হয়।

২০০১ সালের স্মৃতি যাদের আছে, তারা নিশ্চয়ই ইদানীং টের পাচ্ছেন একটা পরিচিত গন্ধের আনাগোনার। এটা দায়মুক্তির গন্ধ। এটা জবাবদিহিতাহীন ক্ষমতার অশ্লীল প্রদর্শনের গন্ধ। আর ২০২৬ সালে এসে সেই গন্ধটা আবার নাকে লাগছে। বাতাসে ভাসছে। দম আটকে আসছে আমাদের।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ