সাধারণ গ্রাহকের ছদ্মবেশে ‘কনশাস কাস্টমারস ফোরাম’ ব্যানার ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে জামায়াত শিবির চক্র। আজ সোমবার সকালে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ ও ব্যাংক দখলের ফন্দি নস্যাৎ করে দিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সোমবার সকাল থেকেই ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘কনশাস কাস্টমারস ফোরাম’ নামের একটি ভুঁইফোড় ব্যানারে কিছু ব্যক্তি জড়ো হতে শুরু করেন। আপাতদৃষ্টিতে নিজেদের সাধারণ গ্রাহক দাবি করলেও, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অনুকূলে নেওয়া। আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকেন।
এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাঁধে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বারবার অনুরোধের পরও রাস্তা না ছাড়ায় পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাধারণ গ্রাহকদের আবেগকে ব্যবহার করে জামায়াত চক্র ইসলামী ব্যাংককে আবারও নিজেদের পকেটে পুরতে এই ফন্দি এঁটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাংক দখলের এই চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের পুলিশের গুলি চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করার এবং লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে গ্রাহকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি।’
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। তবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, খুরশীদ আলমকে তার পদ থেকে সরানো হচ্ছে না। তাকে স্বপদে বহাল রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সাবেক এই ব্যাংকের কর্তৃত্ব ফিরে পেতেই সাধারণ গ্রাহকের মুখোশ ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ২৪ মে রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তৎকালীন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, ঈদের ছুটির ঠিক আগের দিন এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছিল।

