বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বপ্ন দেখিয়েছিল এক ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত রাষ্ট্রের। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের সেই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সারাদেশে গড়ে তোলা হয়েছিল অত্যাধুনিক ডিজিটাল ল্যাব। অথচ সেই স্বপ্নের ইমারতে আজ অচল যন্ত্রের ভগ্নস্তূপ, তালাবদ্ধ কক্ষের ধুলো আর অন্ধকার। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যেন ফিরে এলো ২০০১-০৬ সালের সেই অমানিশা, যখন বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনে দেশ ডুবেছিল চরম দুর্নীতি আর অন্ধকারে।
জামালপুর থেকে বান্দরবান, হাজারো স্কুলের ল্যাব আজ মরা নদীর মতো শুকিয়ে গেছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে বিএনপি-জামায়াতের এই প্রতিহিংসার রাজনীতি। আওয়ামী লীগের উন্নয়নকে নস্যাৎ করতেই তারা বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে, নিয়োগ দিচ্ছে না আইসিটি শিক্ষক। একমাত্র কম্পিউটার শিক্ষকের মৃত্যুর পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেই শূন্যপদ পূরণ হয়নি জামালপুরে। টাঙ্গাইল আর বান্দরবানের বিদ্যালয়গুলোতে হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে কম্পিউটার ক্লাস, যা শিক্ষার্থীদের জন্য এক নিষ্ঠুর পরিহাস ছাড়া কিছু নয়।
কোটি কোটি টাকার করদাতার অর্থে কেনা প্রতিটি স্কুলের ২৭টি কম্পিউটারের মধ্যে গড়ে ২০টিই অচল। তবু সেই মেরামতের কোনো বরাদ্দ নেই, নেই কোনো জবাবদিহি। এটা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, এটা পরিকল্পিত শিক্ষা বিপর্যয়। আওয়ামী লীগের আমলে তৈরি এই ল্যাবগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে, যেন জাতি ভুলে যায় উন্নয়নের স্বাদ। শহরের সন্তান যখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে দুনিয়া চিনছে, তখন প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলেমেয়েরা কম্পিউটার খুলতে গিয়েও পাচ্ছে না মাউস। ডিজিটাল বৈষম্যের এই ভয়াল থাবা শুধু একটি প্রজন্মকে পিছিয়ে দিচ্ছে না, গোটা জাতির সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অথচ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মহাপরিচালক বলছেন, “যাচাইয়ের জন্য কর্মকর্তা দায়িত্ব পেয়েছেন”। ২০২৬ সালের মে মাস চলে এসেছে, এখনও যাচাই শেষ হয়নি। এই তো সুশাসনের নমুনা। এ এক ভয়ংকর চক্রান্ত, যেখানে বিনিয়োগ আছে, অবকাঠামো আছে, শুধু বাস্তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুই নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষবাষ্প এতটাই তীব্র যে লাখো কোমলমতি শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার বলি দিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না জিয়াউর রহমানের সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া এই দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠী।
এটাই বিএনপি-জামায়াতের তথাকথিত “স্মার্ট গর্ভনেন্স”। ২০০১-০৬ মেয়াদের সেই সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর ধ্বংসের রাজনীতিরই নির্মম পুনরাবৃত্তি ঘটছে ২০২৬ সালে।

