ঈদের ঠিক আগে দিয়েই ঢাকা যেন ফিরে পেল এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। সড়কে ঝরলো প্রাণ, হাসপাতালে নিভলো কচি প্রদীপ, আর বাসা থেকে উঠলো স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ। ৩০ ঘণ্টার ব্যবধানে ১৩টি লাশ আর্তনাদ করছে সুশাসনের দাবিতে। অথচ এই নীরব মহামারীর দিনে দেশ চালাচ্ছে কারা? সেই ২০০১-০৬ সালের অন্ধকার অধ্যায়ের কারিগর, জিয়াউর রহমানের সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া দুর্নীতি-সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর বিএনপি আর তাদের সহচর যুদ্ধাপরাধী জামায়াত।
একনজরে চোখ রাখুন, ঈদের আগে জনগণের জন্য এ কী উপহার!
মগবাজারের শিশু হত্যাকাণ্ড পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে এসি বন্ধ রেখে ছয়টি নবজাতককে মেরে ফেলা হয়েছে, সরাসরি অবহেলায়। একটি শিশুর পরিবার মামলা করেছে। কি ধরনের স্বাস্থ্যসেবা এটা?
ভাটারা সড়কে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু বরিশাল থেকে আসা কবির আর লাইজু বেগম। একই পরিবহনের যাত্রী খুশি বেগম। ছিন্নভিন্ন দেহ, উল্টে যাওয়া বাস, আর দায় এড়াতে ব্যস্ত প্রশাসন। বাস জব্দ হয়েছে, কিন্তু চালক উধাও। পুলিশ বলছে “খুঁজছি”, অথচ হেলমেটবিহীন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তীরবেগে মোটরসাইকেল চালাতে দেখলেই চোখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা খাতের বেহাল ব্যবস্থাপনা।
মিরপুরে ফাঁসিতে দম্পতির আত্মহত্যা অন্তঃসত্ত্বা ঝুম আর তার স্বামী হৃদয়ের গলায় ফাঁস। পারিবারিক কলহ না চরম হতাশা? কেউ জানে না। সমাজের নির্মম চাপে আরেকটি পরিবার শেষ হয়ে গেল নিঃশব্দে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটপাতে ভবঘুরের মৃত্যু ফুটপাতে ঘুমন্ত এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। ক্লান্ত শরীর থেমে গেল স্যার সলিমুল্লাহ হলের সামনে। নাম নেই, ঠিকানা নেই, মৃত্যু যেন এক দীর্ঘশ্বাস।
প্রশ্ন একটাই, এ কার আমলনামা? যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, সেই সরকারের কাছে জবাবদিহিতা চাইবেন কার কাছে? ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাতানো ভোটে বসা এই দখলদাররা শহরকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারে। সড়কে মৃত্যু, হাসপাতালে অবহেলা, আর ঘরে ঘরে হতাশা – এটাই কি প্রত্যাশিত ছিল?
মনে পড়ছে ২০০১-০৬ সালের সালতানাত। তখনও রাস্তায় বোমা, হাসপাতালে চিকিৎসার নামে ছিনতাই, আর চারদিকে জঙ্গিবাদের উত্থান। ইতিহাস যেন নির্লজ্জের মতো নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে।

