উন্নয়নের লিফটে গরুর হাট—রাষ্ট্রচিন্তার ব্যর্থতার নির্মম প্রতিচ্ছবি

উত্তরার দিয়াবাড়ি মেট্রো স্টেশনের লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গরুর এই ছবি নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি আজকের বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীর সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং শাসনব্যর্থতার এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি। যে জায়গা নাগরিক আধুনিকতার প্রতীক হওয়ার কথা, সেটিই পরিণত হয়েছে দায়িত্বহীনতা আর প্রশাসনিক অরাজকতার মঞ্চে।

মেট্রোরেল—দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামোগত অর্জন—কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি ছিল একটি প্রতিশ্রুতি: উন্নত, সুশৃঙ্খল, নাগরিকবান্ধব বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সরকার উন্নয়নকে টেকসই করার পরিবর্তে সেটিকে কেবল প্রদর্শনীর বস্তুতে পরিণত করেছে। ফলে অবকাঠামো দাঁড়ালেও তার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ছে একের পর এক।

লিফটের সামনে গরুর হাট বসে যাওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়—এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, দুর্বল তদারকি এবং প্রশাসনের নীরব সমর্থনের ফল। প্রশ্ন উঠছে—কোথায় ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? কোথায় ছিল নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, আর নগর ব্যবস্থাপনার ন্যূনতম দায়িত্ববোধ?
এটি প্রথম নয়। এর আগেও দেখা গেছে— নবনির্মিত সড়ক দখল হয়ে গেছে অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলের মাধ্যমে, আধুনিক বাস টার্মিনাল পরিণত হয়েছে অগোছালো হকার বাজারে, সরকারি স্থাপনায় নিয়মিত ভাঙচুর, দখল ও অপব্যবহার ঘটলেও কার্যকর শাস্তির নজির খুবই কম।

এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বর্তমান সরকারের বড় ব্যর্থতা উন্নয়ন “করায়” নয়—উন্নয়ন “রক্ষা করতে না পারায়”। উন্নয়ন যদি নাগরিক শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তবে তা খুব দ্রুতই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়—ঠিক যেমনটি আমরা এই ছবিতে দেখছি।

সমালোচনার মুখে পড়ে হাট উচ্ছেদ করা হয়েছে—কিন্তু সেটি কোনো কৃতিত্ব নয়। বরং এটি প্রমাণ করে, প্রশাসন নিজে থেকে কাজ করে না; জনচাপ বা সমালোচনা না আসা পর্যন্ত তারা নিষ্ক্রিয় থাকে। এই মানসিকতা একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ধরনের দখলদারিত্ব অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, দলীয় পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি—তাদের অঘোষিত ক্ষমতার বলয়ে সরকারি সম্পদও নিরাপদ থাকে না। ফলে রাষ্ট্রের সম্পদ ধীরে ধীরে জনস্বার্থ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থের উপকরণে পরিণত হয়।

এই একটি ছবি তাই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়— সমস্যা শুধু অবকাঠামোর নয়, সমস্যা শাসনের; সমস্যা শুধু ব্যবস্থাপনার নয়, সমস্যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির।

যদি এই প্রবণতা বন্ধ না হয়, তবে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা উন্নয়ন প্রকল্পও টিকবে না। আজ লিফটের সামনে গরুর হাট—কাল হয়তো পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে অব্যবস্থাপনা, দখল আর দায়হীনতার চাপে।

রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার নির্মাণে নয়, তার সংরক্ষণে। আর সেই পরীক্ষায় বর্তমান সরকার বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে—নীরবতা দিয়ে, অবহেলা দিয়ে, আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার চিরচেনা রাজনীতির মাধ্যমে।

উত্তরার দিয়াবাড়ি মেট্রো স্টেশনের লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গরুর এই ছবি নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি আজকের বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীর সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং শাসনব্যর্থতার এক নগ্ন প্রতিচ্ছবি। যে জায়গা নাগরিক আধুনিকতার প্রতীক হওয়ার কথা, সেটিই পরিণত হয়েছে দায়িত্বহীনতা আর প্রশাসনিক অরাজকতার মঞ্চে।

মেট্রোরেল—দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামোগত অর্জন—কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি ছিল একটি প্রতিশ্রুতি: উন্নত, সুশৃঙ্খল, নাগরিকবান্ধব বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই সরকার উন্নয়নকে টেকসই করার পরিবর্তে সেটিকে কেবল প্রদর্শনীর বস্তুতে পরিণত করেছে। ফলে অবকাঠামো দাঁড়ালেও তার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ছে একের পর এক।

লিফটের সামনে গরুর হাট বসে যাওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়—এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, দুর্বল তদারকি এবং প্রশাসনের নীরব সমর্থনের ফল। প্রশ্ন উঠছে—কোথায় ছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? কোথায় ছিল নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, আর নগর ব্যবস্থাপনার ন্যূনতম দায়িত্ববোধ?
এটি প্রথম নয়। এর আগেও দেখা গেছে— নবনির্মিত সড়ক দখল হয়ে গেছে অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলের মাধ্যমে, আধুনিক বাস টার্মিনাল পরিণত হয়েছে অগোছালো হকার বাজারে, সরকারি স্থাপনায় নিয়মিত ভাঙচুর, দখল ও অপব্যবহার ঘটলেও কার্যকর শাস্তির নজির খুবই কম।

এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বর্তমান সরকারের বড় ব্যর্থতা উন্নয়ন “করায়” নয়—উন্নয়ন “রক্ষা করতে না পারায়”। উন্নয়ন যদি নাগরিক শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তবে তা খুব দ্রুতই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়—ঠিক যেমনটি আমরা এই ছবিতে দেখছি।

সমালোচনার মুখে পড়ে হাট উচ্ছেদ করা হয়েছে—কিন্তু সেটি কোনো কৃতিত্ব নয়। বরং এটি প্রমাণ করে, প্রশাসন নিজে থেকে কাজ করে না; জনচাপ বা সমালোচনা না আসা পর্যন্ত তারা নিষ্ক্রিয় থাকে। এই মানসিকতা একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ধরনের দখলদারিত্ব অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়া ছাড়া সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, দলীয় পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি—তাদের অঘোষিত ক্ষমতার বলয়ে সরকারি সম্পদও নিরাপদ থাকে না। ফলে রাষ্ট্রের সম্পদ ধীরে ধীরে জনস্বার্থ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থের উপকরণে পরিণত হয়।

এই একটি ছবি তাই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়— সমস্যা শুধু অবকাঠামোর নয়, সমস্যা শাসনের; সমস্যা শুধু ব্যবস্থাপনার নয়, সমস্যা রাজনৈতিক সংস্কৃতির।

যদি এই প্রবণতা বন্ধ না হয়, তবে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা উন্নয়ন প্রকল্পও টিকবে না। আজ লিফটের সামনে গরুর হাট—কাল হয়তো পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে অব্যবস্থাপনা, দখল আর দায়হীনতার চাপে।

রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার নির্মাণে নয়, তার সংরক্ষণে। আর সেই পরীক্ষায় বর্তমান সরকার বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে—নীরবতা দিয়ে, অবহেলা দিয়ে, আর দায় এড়িয়ে যাওয়ার চিরচেনা রাজনীতির মাধ্যমে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ