জামিন দিচ্ছে আদালত, মুক্তি দিচ্ছে না বিএনপি-জামাত গং

একটা মামলায় জামিন মিলেছে মানে আসামির মুক্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে এখন সেটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। জামিননামা আদালত থেকে বেরোবার আগেই প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে খবর চলে যায় থানায়। থানা বসে যায় নতুন মামলার এজাহার নিয়ে। এজাহারে আসামির নাম নেই, ঘটনাস্থলে ছিল না, কোনো সাক্ষী চেনে না। তবু সন্দেহভাজন লিখে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জেলে রাখা হচ্ছে মাসের পর মাস। এই খেলা চলছে পুরোদমে ২০২৬ সালের বাংলাদেশে, যে বাংলাদেশের ক্ষমতা এখন দখল করে আছে বিএনপি আর জামায়াত।

কুড়িগ্রামের ইসতিয়াক মিলন, কেরানীগঞ্জের আল মারুফ, নীলফামারীর আব্দুল হাকিম। কেউ রাজনীতি করে না। কারও কোনো পদপদবি নেই। ইসতিয়াক চাকরি খুঁজতে ঢাকায় এসেছিল, মারুফ করত টিউশনি। দুজনকেই টেনেহিঁচড়ে এক মামলা থেকে আরেক মামলায় পুরেছে পুলিশ। ইসতিয়াক বলছে, তার দ্বিতীয় মামলায় জামিন হবার পরও কারাগারে অবজারভেশনের নামে আটকে রেখে টাকা নেওয়া হয়েছে। মারুফের ভাই বলছে, টাকা নেই বলেই এক বছর তিন মাস ধরে ভেতরে। আব্দুল হাকিমের অবস্থা আরও শোচনীয়। ঢাকায় তিনটা মামলায় জামিন হতেই নীলফামারী থেকে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নিজ জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণটা একটাই, একসময় ছাত্রলীগ করত।

এটাই এখনকার বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা। মামলা আর তদন্ত নয়, চলছে দেনদরবার। আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখির কথাটা নিখাদ সত্য, থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করতে না পারলে শ্যোন অ্যারেস্ট ঠেকানো যাচ্ছে না। আইনজীবীর মুখেই শোনা যাচ্ছে, যতগুলো শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষকে শুধু এই ভয় দেখিয়ে রফা করানো হচ্ছে। জামিনের পর আসামির পরিবার যখন আশায় বুক বাঁধছে, তখনই থানা থেকে ফোন যায়, কিছু করলে ব্যবস্থা হয়, না করলে আরেক মামলা। এটাই পুলিশি ক্লিয়ারেন্সের বাণিজ্যিক রূপ।

ড. শাহ্দীন মালিক বলেছেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকে জেলে রাখা সভ্য দেশের সংস্কৃতি নয়। সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু বলেছেন, এজাহারে নাম না থাকলে ১৬৪ কিংবা ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে কেউ জড়িত না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো মানে আইনের চরম অপব্যবহার। দুই বিশেষজ্ঞের কথা আইন বইয়ে সত্য, বাস্তবে মিথ্যা। বাস্তবটা নিয়ন্ত্রণ করছে সেই পুলিশ, যাদের রাজনৈতিক মনিব এখন বিএনপি আর জামায়াত।

২০০১-০৬ মেয়াদের বিএনপি-জামাতের অপশাসনটা মনে আছে? সেই সময়টার ছাপ স্পষ্ট কিছু আজকের পুলিশি আচরণে। তখন বিএনপি-জামাত জমানায় থানা ছিল দুর্নীতির কারখানা, আর পুলিশ ছিল দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী। চাঁদাবাজি, গুম, খুন, দখলদারিত্ব তখনকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ ছিল। আজ সেই একই পুলিশ, একই থানা, একই প্রসিকিউশন বিভাগ। শুধু পরিবর্তনটা ক্ষমতার শীর্ষে। আইনের নামে ২০০১-০৬ সালে যা করেছিলো বিএনপি-জামাত, সেই একই অস্ত্র তারা আবারও ব্যবহার করছে আরও নিখুঁত কায়দায় এবার। শ্যোন অ্যারেস্টের যন্ত্রটা তখনও চালু ছিল, এখন সেটায় শান দেওয়া হয়েছে নির্দলীয়, নিরীহ মানুষকে পিষে ফেলতে।

মজার ব্যাপার হলো, ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার বলছেন, তারা তো শুধু আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। আবেদন কোথা থেকে আসে? থানা থেকে। থানায় আবেদন লেখার নির্দেশ আসে কোথা থেকে? সেই রাজনৈতিক দপ্তর থেকে, যে দপ্তর এখন বিএনপি-জামাতের নিয়ন্ত্রণে। এই চক্রটা বুঝতে কারও বেগ পেতে হবে না। জামিন হওয়া আসামির তালিকা আগে যায় থানায়, তারপর থানা থেকে যায় নতুন মামলার ফিরিস্তি। এই তালিকা কে বানায়? কারা ঠিক করে কার নাম থাকবে? যারা ঠিক করে, তারাই তো আসল বিচারক। আইনের চোখ বন্ধ।

যে জামায়াত একাত্তরে রাজাকার বাহিনী গড়েছিল, যে বিএনপি আশির দশকে সেনানিবাস থেকে উঠে এসে গুম-খুনের সংস্কৃতি চালু করেছিল, সেই জোটের পুলিশ আজ শ্যোন অ্যারেস্টকে শিল্পে পরিণত করেছে। মামলা দিচ্ছে, জামিন দিচ্ছে না, ছাড়াতে চাইলে মানতে হচ্ছে অলিখিত দর। যার টাকা নেই সেই জেলে, যার আছে সে বাইরে। এটা বিচার নয়, এটা লুটপাটের বাণিজ্য।

মারুফের মতো তরুণ জেলে পচছে এক বছর তিন মাস, অথচ কোনো মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না। ইসতিয়াককে অবজারভেশন খাটিয়ে রাখা হয়েছে জামিনের পরও, যতক্ষণ না পরিবার পুলিশের জিআর শাখা ম্যানেজ করেছে। এগুলো এখনকার বাংলাদেশের নিত্যদিনের ছবি। যে ছবির নেপথ্যে দাঁড়িয়ে আছে ২০২৬-এর বিএনপি-জামাত সরকার। আইনের শাসন ধ্বংস করে থানায় থানায় বসানো হয়েছে চাঁদার কারবার, আর তার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

একটা মামলায় জামিন মিলেছে মানে আসামির মুক্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে এখন সেটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ। জামিননামা আদালত থেকে বেরোবার আগেই প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে খবর চলে যায় থানায়। থানা বসে যায় নতুন মামলার এজাহার নিয়ে। এজাহারে আসামির নাম নেই, ঘটনাস্থলে ছিল না, কোনো সাক্ষী চেনে না। তবু সন্দেহভাজন লিখে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জেলে রাখা হচ্ছে মাসের পর মাস। এই খেলা চলছে পুরোদমে ২০২৬ সালের বাংলাদেশে, যে বাংলাদেশের ক্ষমতা এখন দখল করে আছে বিএনপি আর জামায়াত।

কুড়িগ্রামের ইসতিয়াক মিলন, কেরানীগঞ্জের আল মারুফ, নীলফামারীর আব্দুল হাকিম। কেউ রাজনীতি করে না। কারও কোনো পদপদবি নেই। ইসতিয়াক চাকরি খুঁজতে ঢাকায় এসেছিল, মারুফ করত টিউশনি। দুজনকেই টেনেহিঁচড়ে এক মামলা থেকে আরেক মামলায় পুরেছে পুলিশ। ইসতিয়াক বলছে, তার দ্বিতীয় মামলায় জামিন হবার পরও কারাগারে অবজারভেশনের নামে আটকে রেখে টাকা নেওয়া হয়েছে। মারুফের ভাই বলছে, টাকা নেই বলেই এক বছর তিন মাস ধরে ভেতরে। আব্দুল হাকিমের অবস্থা আরও শোচনীয়। ঢাকায় তিনটা মামলায় জামিন হতেই নীলফামারী থেকে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নিজ জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণটা একটাই, একসময় ছাত্রলীগ করত।

এটাই এখনকার বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা। মামলা আর তদন্ত নয়, চলছে দেনদরবার। আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখির কথাটা নিখাদ সত্য, থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করতে না পারলে শ্যোন অ্যারেস্ট ঠেকানো যাচ্ছে না। আইনজীবীর মুখেই শোনা যাচ্ছে, যতগুলো শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষকে শুধু এই ভয় দেখিয়ে রফা করানো হচ্ছে। জামিনের পর আসামির পরিবার যখন আশায় বুক বাঁধছে, তখনই থানা থেকে ফোন যায়, কিছু করলে ব্যবস্থা হয়, না করলে আরেক মামলা। এটাই পুলিশি ক্লিয়ারেন্সের বাণিজ্যিক রূপ।

ড. শাহ্দীন মালিক বলেছেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে কাউকে জেলে রাখা সভ্য দেশের সংস্কৃতি নয়। সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু বলেছেন, এজাহারে নাম না থাকলে ১৬৪ কিংবা ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে কেউ জড়িত না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো মানে আইনের চরম অপব্যবহার। দুই বিশেষজ্ঞের কথা আইন বইয়ে সত্য, বাস্তবে মিথ্যা। বাস্তবটা নিয়ন্ত্রণ করছে সেই পুলিশ, যাদের রাজনৈতিক মনিব এখন বিএনপি আর জামায়াত।

২০০১-০৬ মেয়াদের বিএনপি-জামাতের অপশাসনটা মনে আছে? সেই সময়টার ছাপ স্পষ্ট কিছু আজকের পুলিশি আচরণে। তখন বিএনপি-জামাত জমানায় থানা ছিল দুর্নীতির কারখানা, আর পুলিশ ছিল দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী। চাঁদাবাজি, গুম, খুন, দখলদারিত্ব তখনকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ ছিল। আজ সেই একই পুলিশ, একই থানা, একই প্রসিকিউশন বিভাগ। শুধু পরিবর্তনটা ক্ষমতার শীর্ষে। আইনের নামে ২০০১-০৬ সালে যা করেছিলো বিএনপি-জামাত, সেই একই অস্ত্র তারা আবারও ব্যবহার করছে আরও নিখুঁত কায়দায় এবার। শ্যোন অ্যারেস্টের যন্ত্রটা তখনও চালু ছিল, এখন সেটায় শান দেওয়া হয়েছে নির্দলীয়, নিরীহ মানুষকে পিষে ফেলতে।

মজার ব্যাপার হলো, ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার বলছেন, তারা তো শুধু আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। আবেদন কোথা থেকে আসে? থানা থেকে। থানায় আবেদন লেখার নির্দেশ আসে কোথা থেকে? সেই রাজনৈতিক দপ্তর থেকে, যে দপ্তর এখন বিএনপি-জামাতের নিয়ন্ত্রণে। এই চক্রটা বুঝতে কারও বেগ পেতে হবে না। জামিন হওয়া আসামির তালিকা আগে যায় থানায়, তারপর থানা থেকে যায় নতুন মামলার ফিরিস্তি। এই তালিকা কে বানায়? কারা ঠিক করে কার নাম থাকবে? যারা ঠিক করে, তারাই তো আসল বিচারক। আইনের চোখ বন্ধ।

যে জামায়াত একাত্তরে রাজাকার বাহিনী গড়েছিল, যে বিএনপি আশির দশকে সেনানিবাস থেকে উঠে এসে গুম-খুনের সংস্কৃতি চালু করেছিল, সেই জোটের পুলিশ আজ শ্যোন অ্যারেস্টকে শিল্পে পরিণত করেছে। মামলা দিচ্ছে, জামিন দিচ্ছে না, ছাড়াতে চাইলে মানতে হচ্ছে অলিখিত দর। যার টাকা নেই সেই জেলে, যার আছে সে বাইরে। এটা বিচার নয়, এটা লুটপাটের বাণিজ্য।

মারুফের মতো তরুণ জেলে পচছে এক বছর তিন মাস, অথচ কোনো মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না। ইসতিয়াককে অবজারভেশন খাটিয়ে রাখা হয়েছে জামিনের পরও, যতক্ষণ না পরিবার পুলিশের জিআর শাখা ম্যানেজ করেছে। এগুলো এখনকার বাংলাদেশের নিত্যদিনের ছবি। যে ছবির নেপথ্যে দাঁড়িয়ে আছে ২০২৬-এর বিএনপি-জামাত সরকার। আইনের শাসন ধ্বংস করে থানায় থানায় বসানো হয়েছে চাঁদার কারবার, আর তার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ