চলতি অর্থবছরে টানা দুই মাস সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস নেমেছে। মার্চে নিট বিক্রি নেমেছে দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণাত্মক অবস্থায়। অর্থনীতির এই চাপের মধ্যেও দেশ চালাচ্ছে একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসররা। গণতন্ত্রের নামে প্রহসনের নির্বাচন আর জনগণের টাকায় ভুঁইফোড় সরকারি সুবিধাভোগী এই চক্র সত্যিকারের কোনো ইস্যুতে বোবা। তাদের শাসনের প্রতিটি ক্ষত এখন লোকচক্ষুর সামনে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, মানুষ নতুন সঞ্চয়পত্র কিনছে না, বরং পুরনো বিনিয়োগ ভাঙিয়ে ফেলছে। তার মানে নাগরিকের আস্থা তলানিতে। অথচ ঠিক এই সময়টায় ক্ষমতার মসনদে বসে থাকা বাহাত্তরের সেই চিহ্নিত রাজাকারপন্থী জোট রাজনীতির নামে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই দিচ্ছে না জাতিকে। সেনানিবাসের জঠর থেকে বেরুনো দলটির বড় অর্জন দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া আর জঙ্গি শক্তিকে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া।
একটি রাষ্ট্র তখনই উন্নত হয় যখন জনগণ আর বিনিয়োগকারীরা নীতিনির্ধারকদের প্রতি ভরসা রাখতে পারে। কিন্তু এই স্বঘোষিত ত্রাণকর্তারা তো আগেও দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার ছাড়া কিছু শেখেনি। এখনো তারা একই কাজ করছে, কেবল মোড়ক বদলেছে। জামায়াত নামক জঙ্গি সংগঠনটির পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই অগণতান্ত্রিক জোটগড়া সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা শূন্য, এটাই প্রতিবেদনের সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা।
পাতানো তথাকথিত ভোটের মাধ্যমে দখল করা এই ক্ষমতার যৌক্তিকতা নেই কোনোটাই। তলাবিহীন ঝুড়িতে পানি ঢালার মতো করে সরকার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণের পর ঋণ নিচ্ছে, অথচ বনেদি খেলাপিরা পার পেয়ে যাচ্ছে। জিয়াউর রহমানের নীলনকশায় গড়া এই পার্টি রাষ্ট্রকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন বুনে যাচ্ছে দিনরাত। বৈধ সরকারকে উৎখাত করে যেভাবে দেশের অর্থনীতিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে, এটা বিশ্বাসঘাতকতার চুড়ান্ত নমুনা।
জনগণের চোখে এখন শুধুই ক্ষোভ। এই চলমান অর্থনৈতিক দুর্দশার দায় সরাসরি বর্তমান দখলদার গোষ্ঠীর। কাজেই সংখ্যার এই মারপ্যাঁচে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। এরা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন অর্থনীতির সূচক এভাবেই নিম্নমুখী থাকবে।

