পেট্রল-অকটেন রপ্তানি করা বাংলাদেশে আজ তেলের জন্য এত হাহাকার কেন

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের (ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ) জের ধরে দেশের জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছে। তবে সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের পেছনে কেবল বৈশ্বিক যুদ্ধই দায়ী নয়, বরং ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের চরম অদক্ষতা, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্তহীনতা এবং লুটপাটের মনোভাব পরিস্থিতিকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলনের উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) হিসেবে দেশে চাহিদার চেয়েও বেশি পেট্রল ও অকটেন উৎপাদিত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২২ সালে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘ডিজেল আমাদের কিনতে হয়, কিন্তু অকটেন আর পেট্রল কিনতে হয় না। এটা আমরা যে গ্যাস উত্তলন করি সেখান থেকে বাই প্রোডাক্ট হিসেবে রিফাইন করা পেট্রলও পাই, অকটেনও পাই। বরং যতটুকু চাহিদা তার থেকে অনেক বেশি পেট্রল এবং অকটেন কিন্তু আমাদের আছে। অনেক সময় বাইরে বিক্রিও করি।’

স্বয়ংসম্পূর্ণ এই খাত নিয়ে যেখানে কোনো দুশ্চিন্তা থাকার কথা ছিল না, সেখানে বর্তমান সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সরকার সরবরাহ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ায় তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

সরকার প্রথমে জ্বালানি রেশনিং চালু করে, যা ঈদের মুখে কিছুটা শিথিল করা হলেও বাজারে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটা থামানো যাচ্ছে না। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দিন-রাত মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সঠিক সমন্বয়ের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে (স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি দামে) কার্গো কেনার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অজুহাতে পাবলিক ও প্রাইভেটসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ঈদের অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্যাসের তীব্র সংকটে দেশের চারটি বড় সরকারি সার কারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের কারণে পোশাক (গার্মেন্টস) কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গত দেড় বছরের অন্তর্বর্তী অধ্যায় পার করে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও তাদের অদক্ষতায় অর্থনীতির রক্তক্ষরণ কমেনি। আমদানিনির্ভর এই সংকট কাটাতে সরকার এখন জরুরি ভিত্তিতে ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) বিদেশি ঋণ খুঁজছে। সমালোচকরা বলছেন, লুটপাটের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের বোঝা চাপানো হচ্ছে জনগণের ঘাড়ে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বিকল্প উৎস (যেমন রাশিয়া) থেকে তেল আমদানি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণে সরকারের এই উদাসীনতা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া মাত্রই দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। পেট্রল ও অকটেনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কেবল সুশাসনের অভাব এবং সিন্ডিকেট তোষণের কারণে জনগণকে আজ এই তীব্র হাহাকারের মাশুল গুনতে হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের (ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ) জের ধরে দেশের জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছে। তবে সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের পেছনে কেবল বৈশ্বিক যুদ্ধই দায়ী নয়, বরং ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের চরম অদক্ষতা, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্তহীনতা এবং লুটপাটের মনোভাব পরিস্থিতিকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলনের উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) হিসেবে দেশে চাহিদার চেয়েও বেশি পেট্রল ও অকটেন উৎপাদিত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২২ সালে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘ডিজেল আমাদের কিনতে হয়, কিন্তু অকটেন আর পেট্রল কিনতে হয় না। এটা আমরা যে গ্যাস উত্তলন করি সেখান থেকে বাই প্রোডাক্ট হিসেবে রিফাইন করা পেট্রলও পাই, অকটেনও পাই। বরং যতটুকু চাহিদা তার থেকে অনেক বেশি পেট্রল এবং অকটেন কিন্তু আমাদের আছে। অনেক সময় বাইরে বিক্রিও করি।’

স্বয়ংসম্পূর্ণ এই খাত নিয়ে যেখানে কোনো দুশ্চিন্তা থাকার কথা ছিল না, সেখানে বর্তমান সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সরকার সরবরাহ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ায় তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

সরকার প্রথমে জ্বালানি রেশনিং চালু করে, যা ঈদের মুখে কিছুটা শিথিল করা হলেও বাজারে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটা থামানো যাচ্ছে না। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দিন-রাত মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সঠিক সমন্বয়ের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে (স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি দামে) কার্গো কেনার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অজুহাতে পাবলিক ও প্রাইভেটসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ঈদের অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্যাসের তীব্র সংকটে দেশের চারটি বড় সরকারি সার কারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের কারণে পোশাক (গার্মেন্টস) কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গত দেড় বছরের অন্তর্বর্তী অধ্যায় পার করে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও তাদের অদক্ষতায় অর্থনীতির রক্তক্ষরণ কমেনি। আমদানিনির্ভর এই সংকট কাটাতে সরকার এখন জরুরি ভিত্তিতে ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) বিদেশি ঋণ খুঁজছে। সমালোচকরা বলছেন, লুটপাটের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের বোঝা চাপানো হচ্ছে জনগণের ঘাড়ে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বিকল্প উৎস (যেমন রাশিয়া) থেকে তেল আমদানি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণে সরকারের এই উদাসীনতা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া মাত্রই দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। পেট্রল ও অকটেনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কেবল সুশাসনের অভাব এবং সিন্ডিকেট তোষণের কারণে জনগণকে আজ এই তীব্র হাহাকারের মাশুল গুনতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ