সংখ্যার আড়ালে যা লুকানো থাকে . . .

তারেক রহমান গত ৩ মে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বলেছেন, আগের সরকারের দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ মাথায় নিয়ে বর্তমান সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও সংসদে একই কথা বলেছেন। কথাটা শুনতে ভারী, শোনালে বেশ নাটকীয়। কিন্তু সংখ্যাটা কোথা থেকে এলো, সেটা কেউ বলছেন না।

২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট ঋণ, পাবলিক আর প্রাইভেট মিলিয়ে, বিদেশি আর অভ্যন্তরীণ সব ধরে, ছিল প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার। তারেক রহমানের বলা সংখ্যাটা ২৪৫ বিলিয়ন ডলার। ফারাক প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার, বাংলা টাকায় সাড়ে ছয় লাখ কোটির মতো। গত দেড় বছরে এই পরিমাণ ঋণ বেড়েছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সরকার শুধু একটা বড় সংখ্যা ছুড়ে দিয়ে জনগণকে অভিভূত করার চেষ্টা করছে।

এটা রাজনীতির পুরনো কৌশল। বড় সংখ্যা বললে মানুষ ভয় পায়, ভয় পেলে প্রশ্ন করতে ভুলে যায়। আর শাসক দল চায় মানুষ প্রশ্ন না করুক। তারেক রহমানের সরকার এখনো মাত্র আড়াই মাসের। এই অল্প সময়েই স্ক্রিপ্টে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের গরমিল ধরা পড়ছে। যে দলের জন্মই হয়েছিল সেনানিবাসের ছায়ায়, জিয়াউর রহমানের পোশাকি ক্ষমতার অলিন্দে, সেই দলের কাছ থেকে সংখ্যার স্বচ্ছতা আশা করাটা হয়তো বেশিই চাওয়া।

এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো মুখপাত্র এই ৩০ লাখ কোটির হিসাব কীভাবে করা হলো তা ব্যাখ্যা করেননি। কোন খাতের কোন ঋণ এতে ধরা হয়েছে, কোন সময়কাল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, বেসরকারি ঋণ অন্তর্ভুক্ত কি না, কিংবা আন্তর্জাতিক মুদ্রামানের কোন হিসাবে রূপান্তর করা হয়েছে, এসব নিয়ে একটি বাক্যও নেই। জেলা প্রশাসকদের সামনে দাঁড়িয়ে দেশের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক জমায়েতে এই সংখ্যা উচ্চারণ করা হয়েছে, আর তার ভিত্তি কী সেটা জানার অধিকার দেশের মানুষের আছে।

বিএনপি বিরোধী দলে থাকতে সবসময় জবাবদিহিতার কথা বলেছে। সংখ্যার হিসাব চেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটি পরিসংখ্যানকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এখন নিজেরা ক্ষমতায় এসে একটা বিশাল সংখ্যা বলে দিচ্ছে, প্রমাণ ছাড়া, হিসাব ছাড়া। বিরোধী দলে থেকে যে প্রশ্নগুলো করতেন, সেই একই প্রশ্নগুলো এখন নিজেদের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার সাহস আছে কি?

৫৫ বিলিয়ন ডলারের এই গরমিলটা ছোট নয়। এটা বাংলাদেশের একটি পূর্ণ বার্ষিক জাতীয় বাজেটের চেয়ে বেশি। সাংবাদিকরা যদি এই প্রশ্নটা না করেন, অর্থনীতিবিদরা যদি হিসাব না চান, জনগণ যদি জবাব না চায়, তাহলে এই ধরনের সংখ্যা বলা একটা অভ্যাসে পরিণত হবে। আর অভ্যাসে পরিণত হলে একদিন ৩০ লাখ কোটি হয়ে যাবে ৬০ লাখ কোটি, ৯০ লাখ কোটি। হিসাব চাওয়ার জায়গাটা বন্ধ হয়ে গেলে, গল্প বলার লোকের কোনো অভাব হয় না।

তারেক রহমান গত ৩ মে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বলেছেন, আগের সরকারের দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ মাথায় নিয়ে বর্তমান সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও সংসদে একই কথা বলেছেন। কথাটা শুনতে ভারী, শোনালে বেশ নাটকীয়। কিন্তু সংখ্যাটা কোথা থেকে এলো, সেটা কেউ বলছেন না।

২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট ঋণ, পাবলিক আর প্রাইভেট মিলিয়ে, বিদেশি আর অভ্যন্তরীণ সব ধরে, ছিল প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার। তারেক রহমানের বলা সংখ্যাটা ২৪৫ বিলিয়ন ডলার। ফারাক প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার, বাংলা টাকায় সাড়ে ছয় লাখ কোটির মতো। গত দেড় বছরে এই পরিমাণ ঋণ বেড়েছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সরকার শুধু একটা বড় সংখ্যা ছুড়ে দিয়ে জনগণকে অভিভূত করার চেষ্টা করছে।

এটা রাজনীতির পুরনো কৌশল। বড় সংখ্যা বললে মানুষ ভয় পায়, ভয় পেলে প্রশ্ন করতে ভুলে যায়। আর শাসক দল চায় মানুষ প্রশ্ন না করুক। তারেক রহমানের সরকার এখনো মাত্র আড়াই মাসের। এই অল্প সময়েই স্ক্রিপ্টে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের গরমিল ধরা পড়ছে। যে দলের জন্মই হয়েছিল সেনানিবাসের ছায়ায়, জিয়াউর রহমানের পোশাকি ক্ষমতার অলিন্দে, সেই দলের কাছ থেকে সংখ্যার স্বচ্ছতা আশা করাটা হয়তো বেশিই চাওয়া।

এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো মুখপাত্র এই ৩০ লাখ কোটির হিসাব কীভাবে করা হলো তা ব্যাখ্যা করেননি। কোন খাতের কোন ঋণ এতে ধরা হয়েছে, কোন সময়কাল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, বেসরকারি ঋণ অন্তর্ভুক্ত কি না, কিংবা আন্তর্জাতিক মুদ্রামানের কোন হিসাবে রূপান্তর করা হয়েছে, এসব নিয়ে একটি বাক্যও নেই। জেলা প্রশাসকদের সামনে দাঁড়িয়ে দেশের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক জমায়েতে এই সংখ্যা উচ্চারণ করা হয়েছে, আর তার ভিত্তি কী সেটা জানার অধিকার দেশের মানুষের আছে।

বিএনপি বিরোধী দলে থাকতে সবসময় জবাবদিহিতার কথা বলেছে। সংখ্যার হিসাব চেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটি পরিসংখ্যানকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এখন নিজেরা ক্ষমতায় এসে একটা বিশাল সংখ্যা বলে দিচ্ছে, প্রমাণ ছাড়া, হিসাব ছাড়া। বিরোধী দলে থেকে যে প্রশ্নগুলো করতেন, সেই একই প্রশ্নগুলো এখন নিজেদের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার সাহস আছে কি?

৫৫ বিলিয়ন ডলারের এই গরমিলটা ছোট নয়। এটা বাংলাদেশের একটি পূর্ণ বার্ষিক জাতীয় বাজেটের চেয়ে বেশি। সাংবাদিকরা যদি এই প্রশ্নটা না করেন, অর্থনীতিবিদরা যদি হিসাব না চান, জনগণ যদি জবাব না চায়, তাহলে এই ধরনের সংখ্যা বলা একটা অভ্যাসে পরিণত হবে। আর অভ্যাসে পরিণত হলে একদিন ৩০ লাখ কোটি হয়ে যাবে ৬০ লাখ কোটি, ৯০ লাখ কোটি। হিসাব চাওয়ার জায়গাটা বন্ধ হয়ে গেলে, গল্প বলার লোকের কোনো অভাব হয় না।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ