নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম মাসেই বড় ধরনের ঋণ খুঁজছে সরকার। একদিকে ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি, অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম দেখিয়ে তারা এই ঋণ নিতে চাইছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) বিদেশি ঋণ খুঁজছে বিএনপি সরকার।
রাজনৈতিক মহলে সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘লুটপাটের নতুন প্রজেক্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিশাল অংকের ঋণের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চব্বিশের দাঙ্গার পর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর পেরিয়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাটেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির খাত দেখিয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের সাথে আলোচনা শুরু করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর শুক্রবার রয়টার্সকে জানান, “আইএমএফ নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছিল। আমরা তাদের জুলাইয়ের বদলে এখনই তহবিল ছাড় করার অনুরোধ জানাব। এছাড়া এডিবি ও বিশ্ব ব্যাংক থেকেও অতিরিক্ত বাজেট সহায়তার আশা করছি।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি ঋণের ওপর এই অতি-নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণের ফাঁদ তৈরি করতে পারে।

