ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় ফেঁসে যাওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ নেতারা।
ঘটনার পর এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তিনি পোস্টে লিখেছিলেন, ওসমান হাদির হত্যাকারীকে দিয়ে ‘জজমিয়া নাটক’ সাজিয়ে এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হলে জনগণ আবারও রাস্তায় নামবে। তবে রহস্যজনকভাবে পোস্টটি কিছুক্ষণ পরেই তিনি ডিলিট করে দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্ট্যাটাস ও তা মুছে ফেলা মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ ভীতি ও অপরাধবোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অত্যন্ত সুক্ষ্ম পরিকল্পনা বা ‘মেটিকুলাস ডিজাইনে’ এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এই অভিযোগের পালে হাওয়া দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আরেকটি সিদ্ধান্ত। নিহত ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের স্বজনদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা দেখা গিয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও নিজের স্বার্থ হাসিলের পর রক্তের দাগ মুছতে ড. ইউনূস একই কৌশল বা ‘রক্তের বিনিময়ে পদ’ নীতি অবলম্বন করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর শাহবাগে এক কর্মসূচিতে শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি সরাসরি সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছিলেন, “আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। আপনারা ক্ষমতায় থাকাকালীন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং ড. ইউনূস আদ্যোপান্ত বিষয়টি অবগত। জানা গেছে, জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ারের ছেলে সালমান ওসমান হাদির সাথে কথিত হত্যাকারীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সূত্রের দাবি, হাদির আসল খুনি শিবিরের প্রশিক্ষিত ঘাতকরা এবং এই লাশকে পুঁজি করে সাদেক কায়েমকে ওই আসনে নির্বাচিত করার একটি নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মাথায় ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েমের ফেসবুক পোস্ট নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে। হাদির জীবনের নিরাপত্তা না চেয়ে তিনি সরাসরি ‘অভ্যুত্থানের’ ডাক দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে দোষ বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজায় উপস্থিত থাকলেও ড. ইউনূসের বিচার নিয়ে নীরবতা এবং পরবর্তীতে হাদির ভাইকে উচ্চপদে নিয়োগ—সব মিলিয়ে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুলাইয়ের মতো এবারও লাশের ওপর দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মেটিকুলাস ডিজাইন বাস্তবায়নে লিপ্ত এই অন্তর্বর্তী সরকার।

