তারেকের দেশ বিক্রির চক্রান্ত বনাম সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শেখ হাসিনার আপসহীন অবস্থান!

ফরহাদ শিকাদর
মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশ থেকে চীন পর্যন্ত তথাকথিত অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত হওয়ার নামে দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে অবৈধ বিএনপি সরকার। তথাকথিত বাণিজ্যিক সুবিধার দোহাই দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে এই যোগাযোগ পথ তৈরির যে আয়োজন চলছে, তা মূলত বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলীন করার এক আত্মঘাতী চক্রান্ত। সম্প্রতি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিকে বিদায় জানানোর পর ব্রিটিশ নাগরিক ও কথিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যে এই দেশবিরোধী পরিকল্পনার কদর্য রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতি গড়ে উঠেছে মিথ্যার ওপর। তাদের কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার রেকর্ড নেই, মিথ্যাচারের ঝুলি ঝুলিয়েই তারা মসনদ আঁকড়ে রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকত্বধারী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মতো ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য বা সার্বভৌম জাতীয় স্বার্থের ন্যূনতম তোয়াক্কা করেন না। রাষ্ট্র পরিচালনায় এদের না আছে অভিজ্ঞতা, না আছে দেশের মাটির প্রতি মমত্ববোধ। ফলে অতি সহজেই তাঁরা দেশের মূল ভূখণ্ড ও আন্তর্জাতিক সীমান্তকে বিদেশি পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক চালাবাজির ক্ষেত্র হিসেবে ছেড়ে দিতে দ্বিধা করছেন না। গত জুনে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কুনমিং-চট্টগ্রাম সড়ক সংযোগের কাল্পনিক প্রস্তাব এই চক্রান্তেরই অংশ।

এই কথিত ট্রানজিট ও অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ যেসব চরম ও অপূরণীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সংকটে পড়বে, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। প্রথমত, কৌশলগত অবকাঠামো ও সড়ক যোগাযোগ বিদেশি শক্তিগুলোর হাতে উন্মুক্ত হয়ে পড়লে দেশের সীমানায় তাদের নজিরবিহীন নজরদারি ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা চিরতরে সংকুচিত করবে। এমনকি যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকটের সময় এই বেসামরিক সড়কগুলো দ্বিমুখী বা সামরিক ব্যবহারে রূপান্তরিত হওয়ার চরম আশঙ্কা থাকে, যা বিদেশি বাহিনীকে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারে সুযোগ করে দেবে।

দ্বিতীয়ত, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মিসহ একাধিক স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সামরিক জান্তার তীব্র যুদ্ধ চলছে। এমন অস্থিতিশীল ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে করিডোর খুললে মায়ানমার সীমান্তের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তৎপরতা সরাসরি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। একই সঙ্গে এই রুট আন্তর্জাতিক চোরাচালানি ও মাফিয়া চক্রগুলোর জন্য ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হবে।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসন ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে এমন করিডোর চালু করা মানে মায়ানমারকে রোহিঙ্গা সংকট চিরতরে এড়িয়ে যাওয়ার লাইসেন্স দেওয়া। উপরন্তু, শিথিল সীমান্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া মানব পাচারকারী চক্র যেমন সক্রিয় হবে, তেমনি রাখাইন থেকে নতুন করে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের অনুপ্রবেশ ত্বরান্বিত হয়ে বাংলাদেশের ওপর স্থায়ী সামাজিক ও জনমিতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

চতুর্থত, কুনমিং থেকে মায়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সড়ক ও রেল যোগাযোগ বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরাশক্তিগুলোর সামরিক ও কৌশলগত ভারসাম্যকে বিপজ্জনকভাবে উত্তেজিত করে তুলবে। বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর এই খেলায় বাংলাদেশ পরিণত হবে যুদ্ধক্ষেত্রে, যা আমাদের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। উপরন্তু, বিশাল অংকের ঋণে নির্মিত এই অবকাঠামো থেকে কাঙ্ক্ষিত মাশুল না উঠলে দেশ সোজা ঋণফাঁদে পড়বে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সস্তা পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশে ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের দেশীয় শিল্প-কারখানা।

অথচ বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিন্দুমাত্র আপস করেনি। দেশের অখণ্ডতা বা নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে এমন কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই গ্রহণ করেনি। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় হুংকার দিয়ে জানিয়েছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট মার্টিন দ্বীপ চেয়েছিল, যা তাদের দিতে অস্বীকার করাতেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়া আওয়মী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সেই অসম সাহসী ও সার্বভৌম অবস্থানই ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আঘাতের মূল কারণ।

আজ এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, সাম্রাজ্যবাদী ‘ডিপ স্টেট’-এর কোটি কোটি ডলারের অর্থায়নে ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে এই অবৈধ বিএনপি গোষ্ঠী। এখন বিদেশি প্রভুদের সেই ঋণ শোধ করার পালা। একদিকে যখন দেশের সাধারণ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে, দেশে দুর্ভিক্ষের কালো ছায়া ঘনিয়ে আসছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমেরিকা থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করেছে দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমান। যার মূল্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

অপরদিকে দেশীয় সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে কাজ দেওয়া হচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে। চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি বণিগণের হাতে তুলে দেওয়ার নীল নকশার পর এবার এই তথাকথিত করিডোরের নামে পুরো বাংলাদেশকেই ভূরাজনৈতিক প্রভুদের চারণভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। বিএনপির এই জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রির পায়তারা দেশপ্রেমিক জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা।

ফরহাদ শিকাদর
মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশ থেকে চীন পর্যন্ত তথাকথিত অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত হওয়ার নামে দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে অবৈধ বিএনপি সরকার। তথাকথিত বাণিজ্যিক সুবিধার দোহাই দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে এই যোগাযোগ পথ তৈরির যে আয়োজন চলছে, তা মূলত বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলীন করার এক আত্মঘাতী চক্রান্ত। সম্প্রতি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিকে বিদায় জানানোর পর ব্রিটিশ নাগরিক ও কথিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যে এই দেশবিরোধী পরিকল্পনার কদর্য রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতি গড়ে উঠেছে মিথ্যার ওপর। তাদের কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার রেকর্ড নেই, মিথ্যাচারের ঝুলি ঝুলিয়েই তারা মসনদ আঁকড়ে রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকত্বধারী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মতো ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য বা সার্বভৌম জাতীয় স্বার্থের ন্যূনতম তোয়াক্কা করেন না। রাষ্ট্র পরিচালনায় এদের না আছে অভিজ্ঞতা, না আছে দেশের মাটির প্রতি মমত্ববোধ। ফলে অতি সহজেই তাঁরা দেশের মূল ভূখণ্ড ও আন্তর্জাতিক সীমান্তকে বিদেশি পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক চালাবাজির ক্ষেত্র হিসেবে ছেড়ে দিতে দ্বিধা করছেন না। গত জুনে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কুনমিং-চট্টগ্রাম সড়ক সংযোগের কাল্পনিক প্রস্তাব এই চক্রান্তেরই অংশ।

এই কথিত ট্রানজিট ও অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ যেসব চরম ও অপূরণীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সংকটে পড়বে, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। প্রথমত, কৌশলগত অবকাঠামো ও সড়ক যোগাযোগ বিদেশি শক্তিগুলোর হাতে উন্মুক্ত হয়ে পড়লে দেশের সীমানায় তাদের নজিরবিহীন নজরদারি ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা চিরতরে সংকুচিত করবে। এমনকি যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংকটের সময় এই বেসামরিক সড়কগুলো দ্বিমুখী বা সামরিক ব্যবহারে রূপান্তরিত হওয়ার চরম আশঙ্কা থাকে, যা বিদেশি বাহিনীকে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারে সুযোগ করে দেবে।

দ্বিতীয়ত, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মিসহ একাধিক স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সামরিক জান্তার তীব্র যুদ্ধ চলছে। এমন অস্থিতিশীল ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে করিডোর খুললে মায়ানমার সীমান্তের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তৎপরতা সরাসরি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। একই সঙ্গে এই রুট আন্তর্জাতিক চোরাচালানি ও মাফিয়া চক্রগুলোর জন্য ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হবে।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসন ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে এমন করিডোর চালু করা মানে মায়ানমারকে রোহিঙ্গা সংকট চিরতরে এড়িয়ে যাওয়ার লাইসেন্স দেওয়া। উপরন্তু, শিথিল সীমান্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া মানব পাচারকারী চক্র যেমন সক্রিয় হবে, তেমনি রাখাইন থেকে নতুন করে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের অনুপ্রবেশ ত্বরান্বিত হয়ে বাংলাদেশের ওপর স্থায়ী সামাজিক ও জনমিতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

চতুর্থত, কুনমিং থেকে মায়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সড়ক ও রেল যোগাযোগ বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরাশক্তিগুলোর সামরিক ও কৌশলগত ভারসাম্যকে বিপজ্জনকভাবে উত্তেজিত করে তুলবে। বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর এই খেলায় বাংলাদেশ পরিণত হবে যুদ্ধক্ষেত্রে, যা আমাদের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। উপরন্তু, বিশাল অংকের ঋণে নির্মিত এই অবকাঠামো থেকে কাঙ্ক্ষিত মাশুল না উঠলে দেশ সোজা ঋণফাঁদে পড়বে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সস্তা পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশে ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের দেশীয় শিল্প-কারখানা।

অথচ বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিন্দুমাত্র আপস করেনি। দেশের অখণ্ডতা বা নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে এমন কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই গ্রহণ করেনি। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় হুংকার দিয়ে জানিয়েছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট মার্টিন দ্বীপ চেয়েছিল, যা তাদের দিতে অস্বীকার করাতেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়া আওয়মী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সেই অসম সাহসী ও সার্বভৌম অবস্থানই ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আঘাতের মূল কারণ।

আজ এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, সাম্রাজ্যবাদী ‘ডিপ স্টেট’-এর কোটি কোটি ডলারের অর্থায়নে ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে এই অবৈধ বিএনপি গোষ্ঠী। এখন বিদেশি প্রভুদের সেই ঋণ শোধ করার পালা। একদিকে যখন দেশের সাধারণ মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে, দেশে দুর্ভিক্ষের কালো ছায়া ঘনিয়ে আসছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আমেরিকা থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করেছে দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমান। যার মূল্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

অপরদিকে দেশীয় সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে কাজ দেওয়া হচ্ছে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে। চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি বণিগণের হাতে তুলে দেওয়ার নীল নকশার পর এবার এই তথাকথিত করিডোরের নামে পুরো বাংলাদেশকেই ভূরাজনৈতিক প্রভুদের চারণভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। বিএনপির এই জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রির পায়তারা দেশপ্রেমিক জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ