চট্টগ্রামের “মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স” কি করছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে?

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৯ কোটি টাকার রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ছে রাস্তার দুই পাশ। স্থানীয় ১১০ জন মানুষ গণস্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে বরং চেষ্টা চলছে বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার। সাব ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলাম সরাসরি ফোন ধরে কথা বলার বদলে জনৈক এক নেতার মাধ্যমে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার সুপারিশ পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ দুর্নীতি যত বড়ই হোক, চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত।

এই প্রকল্পের কাজ পাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের। নাম শুনেই প্রশ্ন জাগে, এটা কি সেই মোহাম্মদ ইউনুস, যিনি ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা করে মানুষের সর্বনাশ করেছেন, সুদখোর হিসেবে পরিচিত? নাকি নামের মিল ব্যবহার করে আরেক কেউ ব্যবসা চালাচ্ছেন? যে প্রতিষ্ঠানটিই হোক, চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় ১৯ কোটি টাকার কাজ পেল কীভাবে, কে সুপারিশ করল, দরপত্রে কী শর্ত পূরণ করল, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ দিচ্ছে না।

আরও বড় প্রশ্ন হলো, কাজটি হাতবদল হয়ে গেছে স্থানীয় মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব চৌধুরীর হাতে। এর মানে দাঁড়ায়, আসল ঠিকাদার তো কাজের টাকা নিয়ে সরে দাঁড়িয়েছে, আর কাজ করছে অন্য দুজন। এটা কি বৈধ কোনো প্রক্রিয়া? সাধারণত সরকারি প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ হাতবদল করা নিষিদ্ধ। তাহলে এখানে হলো কী করে? নিশ্চয়ই কারও আশীর্বাদ ছাড়া এত বড় অনিয়ম সম্ভব নয়।

উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক স্বীকার করেছেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ করানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ বার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অথচ কোনো কাজ হয়নি। বরং সাব ঠিকাদাররা তাকেই হুমকি দিচ্ছেন। এই কথাটা প্রকাশ্যে বলার পরও যদি জেলা প্রশাসন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা হয় ভীত, নয়তো সুবিধাভোগী। কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পক্ষে হুমকির মুখেও কাজ না করার সুযোগ নেই, যদি না তিনি নিজেও কোনো চাপে থাকেন বা সুবিধা নিয়ে থাকেন। তদারকি কর্মকর্তা ওয়াহাব মনির তো আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, তদারকি করে কী হবে? এই বক্তব্যই প্রমাণ করে প্রশাসনিক কাঠামোয় কতটা অসহায়ত্ব আর নৈতিকতা কোথায় হারিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেছেন, সোল্ডার আর স্লোপ ছাড়া রাস্তা ধসে পড়বেই। তিনি যখন এটা জানেন, তখন প্রশ্ন, তাহলে কেন এই কাজ আটকানো হলো না? কেন ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হলো না? কেন নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলো না? ১৯ কোটি টাকার প্রকল্পে তদারকির দায়িত্ব যাদের, তারা যদি নিয়ম ভাঙতে দেখেও শুধু মন্তব্য করে যান, তাহলে তাদেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এটা পরিষ্কার দায়িত্বে অবহেলা, যা সরকারি চাকরির বিধিমতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এমন কাজের মান দেখে কারও বিশ্বাস করার কারণ নেই যে প্রকল্পের টাকার সঠিক ব্যবহার হয়েছে। রাস্তার দুই পাশ ধসে পড়ছে, ইটের এজিং খসে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে যাচ্ছে। রাস্তার ভেতরে যে খোয়া দেওয়া হয়েছে, তা এত নিম্নমানের যে কয়েক মাসের ভারি বৃষ্টিতেই ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা। অথচ এই রাস্তাই হওয়ার কথা ছিল ১১ কিলোমিটারজুড়ে মানুষ চলাচলের নিরাপদ পথ। স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম যেমনটা বলেছেন, হাতবদল করা কাজে সব পক্ষই লাভ করতে চায়, ফলে কাজের মান নিয়ে ভাবার কেউ থাকে না। এটাই বাস্তবতা।

এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, এই প্রকল্পের পুরো হিসাব জনসমক্ষে আনা। দরপত্র থেকে শুরু করে চুক্তিপত্র, কাজের অগ্রগতি, অর্থ ছাড়ের পরিমাণ, উপকরণের মান পরীক্ষা, সব কিছু স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন যদি না পারে, তবে দরকার কেন্দ্রীয় দুর্নীতি দমন কমিশন বা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত। শুধু নোটিশ দিয়ে বা গণস্বাক্ষরের অভিযোগ ফাইলবন্দি করে কোনো লাভ নেই। যারা ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম করছে, তাদের চিহ্নিত করে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। আর যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকেও কাজের মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন বা অনিয়ম ঢাকার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

কিন্তু আদৌ কি তা হবে করা? কেননা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি জামায়াত জমানায় ঠিক এভাবেই প্রকল্পের টাকা লুট করা হতো। টেন্ডারবাজি, কাজ হাতবদল, নিম্নমানের উপকরণ, তদারকিতে চোখ বন্ধ রাখা, আর শেষে জনগণের ভাগ্যে পড়ে থাকা ধসে পড়া রাস্তা।

২০২৬ সালে এসে সেই একই চিত্র দেখা গেলে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পট বদলালেও দুর্নীতির চরিত্র বদলায়নি। এখন যারা ক্ষমতায়, তাদের উচিত এই প্রকল্পকে উদাহরণ বানানো, যাতে বোঝা যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস তাদের আছে। তা না হলে জনগণ এটাই ভাববে, দুর্নীতি যতই হোক, উপরে কেউ সুরক্ষা দিলে কিছুই হবে না।

এই রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন কৃষক, স্কুলগামী শিশু, বৃদ্ধ, নারীরা। রাস্তা ধসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কার? ঠিকাদার, প্রকৌশলী, নাকি প্রশাসন? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে হবে। কারণ রাস্তার কাজ শেষ হতে না হতেই যে অবস্থা, বর্ষায় তা আরও ভয়াবহ হবে, তা বলাই বাহুল্য।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১৯ কোটি টাকার রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ছে রাস্তার দুই পাশ। স্থানীয় ১১০ জন মানুষ গণস্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে বরং চেষ্টা চলছে বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার। সাব ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলাম সরাসরি ফোন ধরে কথা বলার বদলে জনৈক এক নেতার মাধ্যমে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার সুপারিশ পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ দুর্নীতি যত বড়ই হোক, চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত।

এই প্রকল্পের কাজ পাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের। নাম শুনেই প্রশ্ন জাগে, এটা কি সেই মোহাম্মদ ইউনুস, যিনি ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা করে মানুষের সর্বনাশ করেছেন, সুদখোর হিসেবে পরিচিত? নাকি নামের মিল ব্যবহার করে আরেক কেউ ব্যবসা চালাচ্ছেন? যে প্রতিষ্ঠানটিই হোক, চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় ১৯ কোটি টাকার কাজ পেল কীভাবে, কে সুপারিশ করল, দরপত্রে কী শর্ত পূরণ করল, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ দিচ্ছে না।

আরও বড় প্রশ্ন হলো, কাজটি হাতবদল হয়ে গেছে স্থানীয় মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব চৌধুরীর হাতে। এর মানে দাঁড়ায়, আসল ঠিকাদার তো কাজের টাকা নিয়ে সরে দাঁড়িয়েছে, আর কাজ করছে অন্য দুজন। এটা কি বৈধ কোনো প্রক্রিয়া? সাধারণত সরকারি প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ হাতবদল করা নিষিদ্ধ। তাহলে এখানে হলো কী করে? নিশ্চয়ই কারও আশীর্বাদ ছাড়া এত বড় অনিয়ম সম্ভব নয়।

উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক স্বীকার করেছেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ করানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ বার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অথচ কোনো কাজ হয়নি। বরং সাব ঠিকাদাররা তাকেই হুমকি দিচ্ছেন। এই কথাটা প্রকাশ্যে বলার পরও যদি জেলা প্রশাসন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তারা হয় ভীত, নয়তো সুবিধাভোগী। কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পক্ষে হুমকির মুখেও কাজ না করার সুযোগ নেই, যদি না তিনি নিজেও কোনো চাপে থাকেন বা সুবিধা নিয়ে থাকেন। তদারকি কর্মকর্তা ওয়াহাব মনির তো আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, তদারকি করে কী হবে? এই বক্তব্যই প্রমাণ করে প্রশাসনিক কাঠামোয় কতটা অসহায়ত্ব আর নৈতিকতা কোথায় হারিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেছেন, সোল্ডার আর স্লোপ ছাড়া রাস্তা ধসে পড়বেই। তিনি যখন এটা জানেন, তখন প্রশ্ন, তাহলে কেন এই কাজ আটকানো হলো না? কেন ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হলো না? কেন নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলো না? ১৯ কোটি টাকার প্রকল্পে তদারকির দায়িত্ব যাদের, তারা যদি নিয়ম ভাঙতে দেখেও শুধু মন্তব্য করে যান, তাহলে তাদেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এটা পরিষ্কার দায়িত্বে অবহেলা, যা সরকারি চাকরির বিধিমতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এমন কাজের মান দেখে কারও বিশ্বাস করার কারণ নেই যে প্রকল্পের টাকার সঠিক ব্যবহার হয়েছে। রাস্তার দুই পাশ ধসে পড়ছে, ইটের এজিং খসে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে যাচ্ছে। রাস্তার ভেতরে যে খোয়া দেওয়া হয়েছে, তা এত নিম্নমানের যে কয়েক মাসের ভারি বৃষ্টিতেই ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা। অথচ এই রাস্তাই হওয়ার কথা ছিল ১১ কিলোমিটারজুড়ে মানুষ চলাচলের নিরাপদ পথ। স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম যেমনটা বলেছেন, হাতবদল করা কাজে সব পক্ষই লাভ করতে চায়, ফলে কাজের মান নিয়ে ভাবার কেউ থাকে না। এটাই বাস্তবতা।

এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, এই প্রকল্পের পুরো হিসাব জনসমক্ষে আনা। দরপত্র থেকে শুরু করে চুক্তিপত্র, কাজের অগ্রগতি, অর্থ ছাড়ের পরিমাণ, উপকরণের মান পরীক্ষা, সব কিছু স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন যদি না পারে, তবে দরকার কেন্দ্রীয় দুর্নীতি দমন কমিশন বা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত। শুধু নোটিশ দিয়ে বা গণস্বাক্ষরের অভিযোগ ফাইলবন্দি করে কোনো লাভ নেই। যারা ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম করছে, তাদের চিহ্নিত করে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে। আর যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকেও কাজের মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন বা অনিয়ম ঢাকার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

কিন্তু আদৌ কি তা হবে করা? কেননা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি জামায়াত জমানায় ঠিক এভাবেই প্রকল্পের টাকা লুট করা হতো। টেন্ডারবাজি, কাজ হাতবদল, নিম্নমানের উপকরণ, তদারকিতে চোখ বন্ধ রাখা, আর শেষে জনগণের ভাগ্যে পড়ে থাকা ধসে পড়া রাস্তা।

২০২৬ সালে এসে সেই একই চিত্র দেখা গেলে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পট বদলালেও দুর্নীতির চরিত্র বদলায়নি। এখন যারা ক্ষমতায়, তাদের উচিত এই প্রকল্পকে উদাহরণ বানানো, যাতে বোঝা যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস তাদের আছে। তা না হলে জনগণ এটাই ভাববে, দুর্নীতি যতই হোক, উপরে কেউ সুরক্ষা দিলে কিছুই হবে না।

এই রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন কৃষক, স্কুলগামী শিশু, বৃদ্ধ, নারীরা। রাস্তা ধসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কার? ঠিকাদার, প্রকৌশলী, নাকি প্রশাসন? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে হবে। কারণ রাস্তার কাজ শেষ হতে না হতেই যে অবস্থা, বর্ষায় তা আরও ভয়াবহ হবে, তা বলাই বাহুল্য।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ