জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের প্রেমে যা আছে: দেহ, লাইসেন্স, টেন্ডার আর ফতোয়া!

গাজী নজরুল ইসলাম, বয়স ৭৫। সাতক্ষীরা ৪ আসনের জামায়াতি এমপি। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ভিডিও ভাইরাল হতেই উনি তড়িঘড়ি তরুণীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে বসেন। কিন্তু তার নিজের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান, যে কিনা ওই তরুণীর মামা, তার মুখ খুললেই বেরিয়ে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা।

ঘটনার গভীরে ঢুকলে দেখা যায়, সম্পর্কটা কোনো বিয়ের নয়, বরং চূড়ান্ত ক্ষমতার অপব্যবহার। মাসুম বিল্লাহ নামের ওই তরুণীর বাবাকে এমপি নিজে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানের নাম রাখেন ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। অথচ মাসুম বিল্লাহ ঠিকাদারির ‘ঠ’-ও বোঝেন না। দরপত্র জমা দেয়া ছাড়া তার কোনো কাজ ছিল না। কাজ পাইয়ে দেয়ার পুরো দায়িত্ব ছিল গাজী নজরুলের নিজের।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে দরপত্র জমা হয়। এমনকি শিক্ষা প্রকৌশলের একটি পদে নিজের পছন্দের প্রকৌশলীকে বদলি করে আনতে তদবিরও করেন এই এমপি। এখানে প্রশ্ন একটাই, এটা প্রেম নাকি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে পুরো পরিবারকে জিম্মি করে রাখার ছক।

মেয়েটিকে বলা হয়েছিল সংসদে চাকরি দেবেন, আর বাবাকে বলা হয়েছিল কোটিপতি বানিয়ে দেবেন। এটা কোনো সম্পর্ক নয়, বড্ড পরিকল্পিত এক চুক্তি। যেখানে নারীর শরীরের বিনিময়ে বাবা পেয়েছেন লাইসেন্স আর সরকারি কাজের ভাগ।

ওবায়দুর রহমান যখন বিষয়টি জানতে পেরে এমপির মুখোমুখি হন, গাজী নজরুল ইসলাম তাকে ‘মুতআ বিয়ে’র ফতোয়া শোনান। অস্থায়ী বিয়ে নামের এই ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে সম্পর্কটিকে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করেন। মুখ বন্ধ রাখতে ওবায়দুরকে দেয়া হয় গাড়ি আর এপিএস পদের প্রলোভন। ড্রাইভারকে একদিনে এপিএস-২ বানিয়ে দেয়া, এটাও সম্ভব হয় একজনের এমপি থাকার বদৌলতে।

এখানে গাজী নজরুল একা নন, এই পুরো আয়োজনে প্রশাসনের অংশগ্রহণও স্পষ্ট। এলজিইডি আর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজের বরাত দেয়ায় যে অনিয়ম হয়েছে, সেই দায় শুধু এমপির একার না। যারা তার ইশারায় প্রকৌশলী বদলি করলেন, যারা টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ম্যানেজ করলেন, তারাও অপরাধী। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই প্রশাসনিক সহযোগী চক্র কখনো মুখোশের আড়ালেই থেকে যায়।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, ঘটনাটা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি না। জামায়াত যখনই ক্ষমতায় থেকেছে, তখনই এ ধরনের রমরমা বাণিজ্য চোখে পড়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে জামায়াতের মন্ত্রী-এমপিরা চালিয়েছেন চাঁদাবাজি, নারীপাচার, টেন্ডারবাণিজ্য, আর ধর্মীয় ফতোয়ার ব্যবসা। ২০২৬ সালে আবারও সেই একই ছবি। ক্ষমতাসীন দলের অংশীদার হিসেবে জামায়াত এবার প্রকাশ্যে দেদারসে সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন ওবায়দুর। কিন্তু এই মামলা কি সত্যের পথ খুলে দেবে। নাকি আগের মতোই সাক্ষী গুম হবে, মামলা ঝিমিয়ে পড়বে আর জনগণ আবারো ভুলে যাবে। ইতিহাস বারবার সাক্ষী, জামায়াতের দাপটে সত্য চাপা পড়ে, ন্যায়বিচার আসে না। প্রশ্ন হলো, আমরা কী তবে চিরকাল এভাবেই দেখে যাবো?

গাজী নজরুল ইসলাম, বয়স ৭৫। সাতক্ষীরা ৪ আসনের জামায়াতি এমপি। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ভিডিও ভাইরাল হতেই উনি তড়িঘড়ি তরুণীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে বসেন। কিন্তু তার নিজের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান, যে কিনা ওই তরুণীর মামা, তার মুখ খুললেই বেরিয়ে আসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা।

ঘটনার গভীরে ঢুকলে দেখা যায়, সম্পর্কটা কোনো বিয়ের নয়, বরং চূড়ান্ত ক্ষমতার অপব্যবহার। মাসুম বিল্লাহ নামের ওই তরুণীর বাবাকে এমপি নিজে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানের নাম রাখেন ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। অথচ মাসুম বিল্লাহ ঠিকাদারির ‘ঠ’-ও বোঝেন না। দরপত্র জমা দেয়া ছাড়া তার কোনো কাজ ছিল না। কাজ পাইয়ে দেয়ার পুরো দায়িত্ব ছিল গাজী নজরুলের নিজের।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে দরপত্র জমা হয়। এমনকি শিক্ষা প্রকৌশলের একটি পদে নিজের পছন্দের প্রকৌশলীকে বদলি করে আনতে তদবিরও করেন এই এমপি। এখানে প্রশ্ন একটাই, এটা প্রেম নাকি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে পুরো পরিবারকে জিম্মি করে রাখার ছক।

মেয়েটিকে বলা হয়েছিল সংসদে চাকরি দেবেন, আর বাবাকে বলা হয়েছিল কোটিপতি বানিয়ে দেবেন। এটা কোনো সম্পর্ক নয়, বড্ড পরিকল্পিত এক চুক্তি। যেখানে নারীর শরীরের বিনিময়ে বাবা পেয়েছেন লাইসেন্স আর সরকারি কাজের ভাগ।

ওবায়দুর রহমান যখন বিষয়টি জানতে পেরে এমপির মুখোমুখি হন, গাজী নজরুল ইসলাম তাকে ‘মুতআ বিয়ে’র ফতোয়া শোনান। অস্থায়ী বিয়ে নামের এই ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে সম্পর্কটিকে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করেন। মুখ বন্ধ রাখতে ওবায়দুরকে দেয়া হয় গাড়ি আর এপিএস পদের প্রলোভন। ড্রাইভারকে একদিনে এপিএস-২ বানিয়ে দেয়া, এটাও সম্ভব হয় একজনের এমপি থাকার বদৌলতে।

এখানে গাজী নজরুল একা নন, এই পুরো আয়োজনে প্রশাসনের অংশগ্রহণও স্পষ্ট। এলজিইডি আর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজের বরাত দেয়ায় যে অনিয়ম হয়েছে, সেই দায় শুধু এমপির একার না। যারা তার ইশারায় প্রকৌশলী বদলি করলেন, যারা টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ম্যানেজ করলেন, তারাও অপরাধী। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই প্রশাসনিক সহযোগী চক্র কখনো মুখোশের আড়ালেই থেকে যায়।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, ঘটনাটা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি না। জামায়াত যখনই ক্ষমতায় থেকেছে, তখনই এ ধরনের রমরমা বাণিজ্য চোখে পড়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে জামায়াতের মন্ত্রী-এমপিরা চালিয়েছেন চাঁদাবাজি, নারীপাচার, টেন্ডারবাণিজ্য, আর ধর্মীয় ফতোয়ার ব্যবসা। ২০২৬ সালে আবারও সেই একই ছবি। ক্ষমতাসীন দলের অংশীদার হিসেবে জামায়াত এবার প্রকাশ্যে দেদারসে সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন ওবায়দুর। কিন্তু এই মামলা কি সত্যের পথ খুলে দেবে। নাকি আগের মতোই সাক্ষী গুম হবে, মামলা ঝিমিয়ে পড়বে আর জনগণ আবারো ভুলে যাবে। ইতিহাস বারবার সাক্ষী, জামায়াতের দাপটে সত্য চাপা পড়ে, ন্যায়বিচার আসে না। প্রশ্ন হলো, আমরা কী তবে চিরকাল এভাবেই দেখে যাবো?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ