বিএনপি-জামায়াত জোট যখনই ক্ষমতার মসনদে বসেছে বা রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জা করেছে, তখনই বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ওপর নেমে এসেছে পৈশাচিক নরকযন্ত্রণা। ক্ষমতার অপব্যবহার, উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা বারবার প্রমাণ করেছে— তাদের রাজনীতি মানেই সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো এবং সংখ্যালঘু নিধন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসা তথ্য পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পরও থামেনি এই নির্যাতন। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসেই সাম্প্রদায়িক হিংসায় ঝরে গেছে ৪৪টি তাজা প্রাণ! গণআক্রমণ থেকে শুরু করে এখন টার্গেটেড কিলিং ও জমি দখলের মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিঃস্ব করার এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীরবতায় পরিচালিত এক গভীর নীল নকশা।
গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কথিত মামলায় গ্রেপ্তার কিংবা সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আটক রাখা— সবই প্রমাণ করে বিএনপি জমানায় উগ্রপন্থীদের আসফালন কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ভয়াবহ চালচিত্র (২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাস): – নৃশংস হত্যাকাণ্ড: চলতি বছরের ৬ মাসে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় ৪৪ জন হিন্দু নাগরিককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
- ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা: ৬২টি মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ১৫টি উপাসনালয়ের জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
- সম্পত্তি দখল ও লুটপাট: ৪৭টি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ২১টি ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বাড়ি ও জমি দখল করা হয়েছে।
- সংখ্যালঘু নারী নির্যাতন ও হয়রানি: ৫টি ধর্ষণ/গণধর্ষণ, ১০টি অপহরণ ও চাঁদা দাবি এবং ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে।
ইউনুসের আমলে দেশকে নৈরাজ্যের আঁতুড়ঘরে পরিণত করে উগ্রপন্থী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে যেভাবে আসফালন দেখানোর সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি-জামায়াতের তোষণনীতি আজ দেশের সনাতনী ও সংখ্যালঘু সমাজকে পুরোপুরি অস্তিত্বসংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষমতা দখলের মোহে এবং উগ্রবাদী ভোটব্যাংক তোষণে ইউনুস, বিএনপি ও জামায়াত একই বিষবৃক্ষের ভিন্ন রূপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
ধিক্কার জানাই ইউনুস, বিএনপি ও জামায়াতের উগ্র সাম্প্রদায়িক তোষণনীতিকে! অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিপাত যাক!

