মধুখালি থেকে কাশিমপুর, পুলিশ হেফাজতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর যে অভিন্ন সূত্র

বগুড়া জেলা কারাগার। শুধু এই এক জেলাতেই গত দুই বছরে প্রাণ হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা। গাবতলী থেকে শহিদুল ইসলাম, শিবগঞ্জ থেকে আবদুল লতিফ, সদর থেকে শাহাদত আলম ঝুনু। সরকারি ব্যাখ্যা একটাই, হার্ট অ্যাটাক। পাঁচজন নেতার পাঁচটা হার্ট অ্যাটাক। অথচ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রশ্ন, যাদের আগে কখনো হৃদরোগ ছিল না, তাদের সবার একই রোগে মৃত্যু কী করে হয়? বগুড়ার সহ-সভাপতি শাহনূর আলম শান্তর কথা ধরুন। এক পা হারানো ষাটোর্ধ্ব মানুষটিকে ধরে এনে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হলো। স্ত্রী বলছেন, বারবার অনুরোধ করেও বাইরের হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি মেলেনি।

বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুই ছিল ভাগ্যে লেখা। এই তো সদ্য মে মাসে ঢাকার মতিঝিলের সুলতান মিয়া মারা গেলেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। স্ত্রী জানালেন, একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। জামিন হলেই নতুন মামলা। জামিনে বেরোনোর দিন গাড়ি নিয়ে কারাফটকে গিয়েছেন, ঠিক তখনই আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শেষমেশ কারাগারে টানা তিনবার স্ট্রোক করে মৃত্যু। এটি কী নিছক মৃত্যু, না পরিকল্পিতভাবে আইনের অপব্যবহার করে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া?

কারা মহাপরিদর্শক টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে মুখস্থ বলে গেলেন, কারাগারে কেউ মারা যায় না, অসুস্থ হলে হাসপাতালে মারা যায়। অদ্ভুত এই যুক্তি শুনে কেবল হাসিই আসে। যে মানুষটা কারাগারের ভেতর অসুস্থ হলেন, চিকিৎসা পেলেন না, দেরিতে হাসপাতালে নেওয়া হলো, সেই মৃত্যুর দায় কারাগারের নয়? এ কেমন অদ্ভুত দায়িত্ব এড়ানোর সংস্কৃতি? পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক বললেন, অভিযোগের অনেকগুলোর সত্যতা মেলে না। কিন্তু ফরিদপুরের মির্জা ইশতিয়াক প্রান্তর কথা কীভাবে অস্বীকার করবেন? আটকের পরপরই মারধরের ভিডিও ভাইরাল হলো। ডিবি পুলিশ নিজেরাই ফোন করে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাইল। ফোনে ভাই বলল, মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করা হয়েছে। সকালে দেখা গেল, সেই সুস্থ-সবল তরুণ হাসপাতালের বেডে নিথর। শ্বাসকষ্টের রোগ ছিল না কখনো, তবু মৃত্যুর কারণ লেখা হলো শ্বাসকষ্ট।

আর এখন চলছে রাজশাহীর ডাবলু সরকারের ঘটনা। আওয়ামী লীগের এই নেতাকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আটক করার পর ২৩টা মামলা দেওয়া হয়েছে। ৭০ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। বারবার কারাগার বদল করা হয়েছে, এখন কাশিমপুরে। কোনো মামলায় জামিন মেলেনি, কোনো মামলার বিচার শেষ হয়নি। বোন আজমে আরা বলছেন, এখন তাকে কারাগার থেকে ফোনে কথা বলতেও দেওয়া হচ্ছে না, দেখা করা প্রায় বন্ধ। শরীর ভেঙে পড়েছে, নানা রোগে আক্রান্ত, অথচ বাইরের হাসপাতালে নেওয়ার আবেদন নাকচ। নেত্রীর এই আতঙ্ক এখন প্রকাশ্য, আমার ভাই বিনা চিকিৎসায় কারাগারে মারা যাবে।

সরকারি হিসাব আর বেসরকারি হিসাবের ব্যবধানটাও বলার মতো। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে মৃতের সংখ্যা আড়াইশোর বেশি, অথচ এইচআরএসএস বলছে, সংবাদমাধ্যমে সব খবর আসে না, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। যারা এই সব তথ্য রাখছেন, তারাই বলছেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ছে বলেই মৃত্যু বাড়ছে। রিমান্ডে নির্যাতনের পুরনো সংস্কৃতি ফিরে এসেছে পুরোদমে। ২০১২ সালে খুলনা সদর থানায় ছাত্রদল নেতাকে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বদলি ছাড়া কোনো শাস্তি হয়নি। আজও হচ্ছে না।

অথচ এদেরই দাবি ছিল, তারা দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এসেছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদের নির্মমতা যারা দেখেছেন, তারা আজকের এই চিত্র দেখে আঁতকে উঠছেন। সে সময়ের অপারেশন ক্লিন হার্টের কথা মনে আছে? চোখে সেলাই করে দেওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সেই অধ্যায় ইতিহাসের কলঙ্ক। এখন কৌশল বদলেছে, কায়দা বদলেছে, কিন্তু চরিত্র বদলায়নি। সেবার সরাসরি গুলি করে মারতো, এবার কারাগারে আটকে রেখে বিনা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে মরতে দেওয়া হচ্ছে। ফলাফল এক, শুধু পদ্ধতিটা একটু সময়সাপেক্ষ।

এসব তথ্য এখন আর চাপা থাকছে না। পরিবারগুলোর কান্না, মানবাধিকার কর্মীদের তথ্য, ভাইরাল ভিডিও সবই বলছে এক কথা। ২০২৪ সালের আগস্টে যারা বিদেশি রাষ্ট্রের টাকায়, জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় আর সামরিক সমর্থনে ক্যু করে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা এখন যে বিচার প্রক্রিয়া চালু করেছে, তার নাম ভিন্ন কিছু নয়। এটা প্রতিহিংসার রাজনীতি। এটা পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার কর্মসূচি। ইউনুস চলে গেছেন, এখন বিএনপি আর জামাত সরাসরি ক্ষমতায়। কিন্তু পদ্ধতি একই। ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে ছোটখাটো অমিল থাকলেও সবাই এক সুরেই বলছে, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, আর মৃতদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এটা দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা পূর্ব পরিকল্পিত নকশা। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার নকশা।

বগুড়া জেলা কারাগার। শুধু এই এক জেলাতেই গত দুই বছরে প্রাণ হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা। গাবতলী থেকে শহিদুল ইসলাম, শিবগঞ্জ থেকে আবদুল লতিফ, সদর থেকে শাহাদত আলম ঝুনু। সরকারি ব্যাখ্যা একটাই, হার্ট অ্যাটাক। পাঁচজন নেতার পাঁচটা হার্ট অ্যাটাক। অথচ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রশ্ন, যাদের আগে কখনো হৃদরোগ ছিল না, তাদের সবার একই রোগে মৃত্যু কী করে হয়? বগুড়ার সহ-সভাপতি শাহনূর আলম শান্তর কথা ধরুন। এক পা হারানো ষাটোর্ধ্ব মানুষটিকে ধরে এনে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হলো। স্ত্রী বলছেন, বারবার অনুরোধ করেও বাইরের হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি মেলেনি।

বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুই ছিল ভাগ্যে লেখা। এই তো সদ্য মে মাসে ঢাকার মতিঝিলের সুলতান মিয়া মারা গেলেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। স্ত্রী জানালেন, একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। জামিন হলেই নতুন মামলা। জামিনে বেরোনোর দিন গাড়ি নিয়ে কারাফটকে গিয়েছেন, ঠিক তখনই আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শেষমেশ কারাগারে টানা তিনবার স্ট্রোক করে মৃত্যু। এটি কী নিছক মৃত্যু, না পরিকল্পিতভাবে আইনের অপব্যবহার করে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া?

কারা মহাপরিদর্শক টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে মুখস্থ বলে গেলেন, কারাগারে কেউ মারা যায় না, অসুস্থ হলে হাসপাতালে মারা যায়। অদ্ভুত এই যুক্তি শুনে কেবল হাসিই আসে। যে মানুষটা কারাগারের ভেতর অসুস্থ হলেন, চিকিৎসা পেলেন না, দেরিতে হাসপাতালে নেওয়া হলো, সেই মৃত্যুর দায় কারাগারের নয়? এ কেমন অদ্ভুত দায়িত্ব এড়ানোর সংস্কৃতি? পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক বললেন, অভিযোগের অনেকগুলোর সত্যতা মেলে না। কিন্তু ফরিদপুরের মির্জা ইশতিয়াক প্রান্তর কথা কীভাবে অস্বীকার করবেন? আটকের পরপরই মারধরের ভিডিও ভাইরাল হলো। ডিবি পুলিশ নিজেরাই ফোন করে পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাইল। ফোনে ভাই বলল, মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করা হয়েছে। সকালে দেখা গেল, সেই সুস্থ-সবল তরুণ হাসপাতালের বেডে নিথর। শ্বাসকষ্টের রোগ ছিল না কখনো, তবু মৃত্যুর কারণ লেখা হলো শ্বাসকষ্ট।

আর এখন চলছে রাজশাহীর ডাবলু সরকারের ঘটনা। আওয়ামী লীগের এই নেতাকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আটক করার পর ২৩টা মামলা দেওয়া হয়েছে। ৭০ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। বারবার কারাগার বদল করা হয়েছে, এখন কাশিমপুরে। কোনো মামলায় জামিন মেলেনি, কোনো মামলার বিচার শেষ হয়নি। বোন আজমে আরা বলছেন, এখন তাকে কারাগার থেকে ফোনে কথা বলতেও দেওয়া হচ্ছে না, দেখা করা প্রায় বন্ধ। শরীর ভেঙে পড়েছে, নানা রোগে আক্রান্ত, অথচ বাইরের হাসপাতালে নেওয়ার আবেদন নাকচ। নেত্রীর এই আতঙ্ক এখন প্রকাশ্য, আমার ভাই বিনা চিকিৎসায় কারাগারে মারা যাবে।

সরকারি হিসাব আর বেসরকারি হিসাবের ব্যবধানটাও বলার মতো। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে মৃতের সংখ্যা আড়াইশোর বেশি, অথচ এইচআরএসএস বলছে, সংবাদমাধ্যমে সব খবর আসে না, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। যারা এই সব তথ্য রাখছেন, তারাই বলছেন, গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়ছে বলেই মৃত্যু বাড়ছে। রিমান্ডে নির্যাতনের পুরনো সংস্কৃতি ফিরে এসেছে পুরোদমে। ২০১২ সালে খুলনা সদর থানায় ছাত্রদল নেতাকে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বদলি ছাড়া কোনো শাস্তি হয়নি। আজও হচ্ছে না।

অথচ এদেরই দাবি ছিল, তারা দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এসেছেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদের নির্মমতা যারা দেখেছেন, তারা আজকের এই চিত্র দেখে আঁতকে উঠছেন। সে সময়ের অপারেশন ক্লিন হার্টের কথা মনে আছে? চোখে সেলাই করে দেওয়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সেই অধ্যায় ইতিহাসের কলঙ্ক। এখন কৌশল বদলেছে, কায়দা বদলেছে, কিন্তু চরিত্র বদলায়নি। সেবার সরাসরি গুলি করে মারতো, এবার কারাগারে আটকে রেখে বিনা চিকিৎসায় ধীরে ধীরে মরতে দেওয়া হচ্ছে। ফলাফল এক, শুধু পদ্ধতিটা একটু সময়সাপেক্ষ।

এসব তথ্য এখন আর চাপা থাকছে না। পরিবারগুলোর কান্না, মানবাধিকার কর্মীদের তথ্য, ভাইরাল ভিডিও সবই বলছে এক কথা। ২০২৪ সালের আগস্টে যারা বিদেশি রাষ্ট্রের টাকায়, জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় আর সামরিক সমর্থনে ক্যু করে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা এখন যে বিচার প্রক্রিয়া চালু করেছে, তার নাম ভিন্ন কিছু নয়। এটা প্রতিহিংসার রাজনীতি। এটা পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার কর্মসূচি। ইউনুস চলে গেছেন, এখন বিএনপি আর জামাত সরাসরি ক্ষমতায়। কিন্তু পদ্ধতি একই। ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে ছোটখাটো অমিল থাকলেও সবাই এক সুরেই বলছে, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, আর মৃতদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এটা দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা পূর্ব পরিকল্পিত নকশা। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার নকশা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ