হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েও থানায় গ্রেপ্তার দেখানো সেঁজুতির ঘটনাটা মূলত বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার মৃত্যুঘণ্টা। ২০২৬ সালের জুন মাসে দাঁড়িয়ে আমরা যা দেখছি তা হুবহু ২০০১-০৬ সালের সেই কালো অধ্যায় যেখানে আইন ছিল ক্ষমতাসীনদের হাতের পুতুল। জামায়াতে ইসলামী কখনোই বাংলাদেশের ব্যাপারে আর বিএনপি তো গণতন্ত্রেই বিশ্বাসী ছিল না বরং তারা জিয়াউর রহমানের সেনানিবাসে জন্ম নেওয়া একটি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের রাজনৈতিক প্রকল্প।
ফেব্রুয়ারিতে যে তথাকথিত ভোটের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় এসেছিল তা ছিল জনগণের সম্পূর্ণ বয়কট করা এক প্রহসন। পারুল বেগমের নালিশি মামলাকে হঠাৎ করে এজাহারে পরিণত করে ৪৭ জনের নামে মামলা দেওয়া আর তার মধ্যে সেঁজুতিকে টার্গেট করাটা সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। জামায়াতে ইসলামীর মতো যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের সাথে বিএনপির জোটবদ্ধতা প্রমাণ করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে আবারও।
সেঁজুতির গ্রেপ্তার কেবল একজন সাবেক এমপির ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয় বরং এটা পুরো দেশটার জন্য এক চরম উদ্বেগের পূর্বাভাস। যদি আজ একজন রাজনীতিবিদের সাথে এমন হয় তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে তা সহজেই অনুমেয়। বিএনপি-জামায়াত জোটের এই স্বৈরাচারী আচরণ প্রমাণ করে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয় বরং তারা বিশ্বাসী শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতা বজায় রাখতে যে কোনো পন্থা অবলম্বনে। ২০০১-০৬ সালের অপশাসন যে আবারও ফিরে এসেছে, তা বলাই বাহুল্য।

