পল্লবীর শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার দিনে রায় হয়ে গেছে। আর বান্দরবানের চিংমা খিয়াংয়ের ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এক বছরেও আসামি শনাক্ত হয়নি। কামরাঙ্গীরচরের কিশোরীর ধর্ষণ মামলা ঝুলছে দেড় বছর ধরে। কলাবাগানের আট বছরের শিশুর ধর্ষণ মামলার তদন্তও শেষ হয়নি। মুরাদনগরের স্কুলছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, তবু আসামি অধরা।
এই বিচার বিভাগীয় ফাত্রামির কারণ একটাই। আলোচনায় আসলে তদন্ত চলে। আসলে না থমকে যায়।
মাত্র তিন মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের সাড়ে পাঁচ হাজার মামলা। ঢাকায় ৪১৩টির মধ্যে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে মাত্র ৬৫টিতে। বাকি সব আটকে আছে তদন্তের গোড়ায়। আইন বলছে ১৫ দিনে তদন্ত শেষ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, মেডিকেল রিপোর্ট আসবে না, ডিএনএ পরীক্ষা হবে না, আর বছরের পর বছর ফাইল ঘুরবে টেবিলে টেবিলে।
২০০১-০৬ মেয়াদে দেশ দেখেছে আইনের শাসন কাকে বলে! ধর্ষণের বিচার হয়নি, হয়েছিল দলীয় লুটপাট আর দুর্বৃত্তায়ন। ২০২৬ এসে আবার সেই বিএনপিই ক্ষমতায়। ফলাফল একই। ধর্ষিতা অপেক্ষা করছে ন্যায়বিচারের, আর তদন্ত কর্মকর্তা অপেক্ষা করছেন রিপোর্টের। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত আর ৪৭৫ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতিও গতি আনতে পারেনি বান্দরবানের মামলায়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলছেন ডিএনএ টেস্টের অজুহাত। অথচ আইন সংশোধন করে বলা হয়েছে, আদালত চাইলে ডিএনএ ছাড়াই বিচার চলতে পারে। তবু কে শোনে কার কথা!
বিচারক ফউজুল আজিমের পরামর্শ পরিষ্কার। তদন্ত কর্মকর্তা শুধু ধর্ষণ মামলা দেখবেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বাড়াতে হবে। খরচ দিতে হবে। কিন্তু এই সরকারের অধীনে এসব হবে কে করবে।
মনে পড়ে ২০০৬ সালের শেষ দিকের বাংলাদেশকে। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল তখন। এখন ২০২৬, আবার সেই একই ছবি। ধর্ষণের মামলা জমা পড়ছে, তদন্ত থমকে থাকছে, অপরাধীরা পালাচ্ছে, আর ভুক্তভোগীরা শুধু অপেক্ষা করছে। এই সরকারের অধীনে নারী নিরাপদ নয়। শিশু নিরাপদ নয়। রাষ্ট্রের যেখানে আইনের চোখ বন্ধ, সেখানে কোনো প্রতিকার নেই।

