ত্রাণের তালিকায় গরিব কম, জামায়াত-শিবির বেশি!

জামায়াতে ইসলামী নামক দলটি যুগ যুগ ধরে নিজেদের ধর্মীয় নৈতিকতার ফেরিওয়ালা হিসেবে জাহির করে এসেছে। তাদের নেতারা মঞ্চে উঠে ইনসাফ, আমানতদারি আর গরিবের হক রক্ষার বয়ান দেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিন্তু খুলনার কয়রায় যা ঘটিয়েছে তারা তা সেই বয়ানের আসল চেহারাটা আরেকবার খুলে দিয়েছে মানুষের সামনে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আসা টাকা, যা যাওয়ার কথা ছিল সত্যিকারের গরিব আর দুস্থ মানুষের হাতে, সেই টাকার একটা বড় অংশ গিয়ে পড়েছে এমপির আত্মীয়স্বজন আর জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের পকেটে। আর যারা বাস্তবেই কষ্টে আছেন, তাদের ডেকে এনে অর্ধেক টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে এটাই তাদের ভাগ্যে যথেষ্ট।

এমপির ভাগনে তালিকার এক নম্বরে। এমপির এপিএস তিন নম্বরে। ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি, তার বাবা, আরেক ইউনিটের শিবির সভাপতি সবাই হাজির এই গরিবের তালিকায়। আর এই এপিএসের পরিবার এলাকায় বহু আগে থেকেই সম্পদশালী হিসেবে পরিচিত, তার স্ত্রী সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। চিংড়ি ঘেরের মালিক ছাত্রশিবির নেতার পরিবারও যথেষ্ট সচ্ছল। এদের কারোরই ঈদের খরচের জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণের মুখাপেক্ষী হওয়ার কথা না। কিন্তু এরা পেয়েছে চার হাজার টাকা করে, আর প্রকৃত অভাবী মানুষ পেয়েছে মাত্র দুই হাজার। এই বৈষম্যের পেছনে কোনো এলোমেলো ভুল নেই, এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত একটা বণ্টন ব্যবস্থা, যেখানে দলীয় লোক আর আত্মীয়দের জন্য আলাদা হিসাব রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে আজব লাগে এপিএস সাহেবের প্রতিক্রিয়ায়। সাংবাদিকরা যখন তাকে প্রশ্ন করলেন, তিনি লজ্জা পেয়ে অস্বীকার করার চেষ্টাও করলেন না, বরং বললেন এই তালিকা তো গোপন থাকার কথা ছিল, এটা তো প্রকাশ পাওয়ার কথাই নয়। মানে সমস্যাটা টাকা নেওয়া নয়, সমস্যাটা হলো এই খবর বাইরে চলে আসা। দুর্নীতি যতদিন গোপন থাকে ততদিন তা তাদের কাছে স্বাভাবিক, ফাঁস হয়ে গেলেই সেটা সমস্যা। আর এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তো ফোন ধরাই বন্ধ করে দিলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য, যিনি দলের নীতিনির্ধারণী জায়গায় বসে থাকেন, তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকায় গরিবের টাকা নিয়ে এমন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো সাহসও দেখাতে পারলেন না।

স্থানীয় জামায়াত আমিরের বক্তব্যটাও কম হাস্যকর নয়। তিনি বলে দিলেন তালিকায় বেশিরভাগই গরিব মানুষের নাম, কিছু দলীয় লোক থাকতে পারে কিন্তু তারাও দরিদ্র। অথচ এই দলীয় লোকদের একজন এমপির সরাসরি আত্মীয়, একজন এমপির পিএস, আরেকজন চিংড়ি ঘেরের মালিক। এই বাস্তবতা সামনে থাকা সত্ত্বেও এমন বেফাঁস মন্তব্য করতে পারাটা বুঝিয়ে দেয় দলটির ভেতরে দায়বদ্ধতার কোনো বালাই নেই, যা বলা হবে তা যেন বিশ্বাস করতেই হবে এমন একটা মনোভাব।

জামায়াতে ইসলামী যে রাজনীতি করে তার ভিত্তিই হলো নিজেদের অন্য সবার চেয়ে নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা। তারা প্রায়ই দাবি করে অন্য দলগুলো দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, স্বজনপ্রীতির আখড়া, আর তারা নিজেরা পরিচ্ছন্ন, সংগঠিত, আদর্শবান। কিন্তু কয়রার এই ঘটনা দেখাচ্ছে ক্ষমতার সুযোগ পেলে তাদের আচরণ অন্য সবার মতোই, বরং অনেক ক্ষেত্রে আরও নির্লজ্জ। কারণ অন্যরা অন্তত লুকানোর চেষ্টা করে, এখানে তো লুকানোর প্রয়োজনই বোধ করা হয়নি, এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে নিজেদের লোককে আগে বসানো।

এই ঘটনা শুধু একটা এলাকার একটা ত্রাণ তালিকার ঘটনা নয়। এটা দেখায় যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই সংগঠনটি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও তাদের পুরোনো চরিত্র থেকে এক ইঞ্চিও সরেনি। আগে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, এখনো যারা সুযোগ পাচ্ছে তারা একই পথ অনুসরণ করছে। ধর্মের নামে রাজনীতি করা এই দলের কাছে গরিবের হক, ইনসাফ, আমানতদারির বুলি যতটা মুখে, কাজে তার ছিটেফোঁটাও নেই। কয়রার নাসিমা খাতুন, রেহেনা পারভীন, ফাতেমা খাতুনরা যে অপমান আর বঞ্চনার মুখে পড়েছেন, তা এই দলের রাজনৈতিক চরিত্রের একটা সত্যিকারের দলিল হয়ে থাকল।

জামায়াতে ইসলামী নামক দলটি যুগ যুগ ধরে নিজেদের ধর্মীয় নৈতিকতার ফেরিওয়ালা হিসেবে জাহির করে এসেছে। তাদের নেতারা মঞ্চে উঠে ইনসাফ, আমানতদারি আর গরিবের হক রক্ষার বয়ান দেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিন্তু খুলনার কয়রায় যা ঘটিয়েছে তারা তা সেই বয়ানের আসল চেহারাটা আরেকবার খুলে দিয়েছে মানুষের সামনে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আসা টাকা, যা যাওয়ার কথা ছিল সত্যিকারের গরিব আর দুস্থ মানুষের হাতে, সেই টাকার একটা বড় অংশ গিয়ে পড়েছে এমপির আত্মীয়স্বজন আর জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের পকেটে। আর যারা বাস্তবেই কষ্টে আছেন, তাদের ডেকে এনে অর্ধেক টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে এটাই তাদের ভাগ্যে যথেষ্ট।

এমপির ভাগনে তালিকার এক নম্বরে। এমপির এপিএস তিন নম্বরে। ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি, তার বাবা, আরেক ইউনিটের শিবির সভাপতি সবাই হাজির এই গরিবের তালিকায়। আর এই এপিএসের পরিবার এলাকায় বহু আগে থেকেই সম্পদশালী হিসেবে পরিচিত, তার স্ত্রী সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। চিংড়ি ঘেরের মালিক ছাত্রশিবির নেতার পরিবারও যথেষ্ট সচ্ছল। এদের কারোরই ঈদের খরচের জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণের মুখাপেক্ষী হওয়ার কথা না। কিন্তু এরা পেয়েছে চার হাজার টাকা করে, আর প্রকৃত অভাবী মানুষ পেয়েছে মাত্র দুই হাজার। এই বৈষম্যের পেছনে কোনো এলোমেলো ভুল নেই, এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত একটা বণ্টন ব্যবস্থা, যেখানে দলীয় লোক আর আত্মীয়দের জন্য আলাদা হিসাব রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে আজব লাগে এপিএস সাহেবের প্রতিক্রিয়ায়। সাংবাদিকরা যখন তাকে প্রশ্ন করলেন, তিনি লজ্জা পেয়ে অস্বীকার করার চেষ্টাও করলেন না, বরং বললেন এই তালিকা তো গোপন থাকার কথা ছিল, এটা তো প্রকাশ পাওয়ার কথাই নয়। মানে সমস্যাটা টাকা নেওয়া নয়, সমস্যাটা হলো এই খবর বাইরে চলে আসা। দুর্নীতি যতদিন গোপন থাকে ততদিন তা তাদের কাছে স্বাভাবিক, ফাঁস হয়ে গেলেই সেটা সমস্যা। আর এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তো ফোন ধরাই বন্ধ করে দিলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য, যিনি দলের নীতিনির্ধারণী জায়গায় বসে থাকেন, তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকায় গরিবের টাকা নিয়ে এমন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো সাহসও দেখাতে পারলেন না।

স্থানীয় জামায়াত আমিরের বক্তব্যটাও কম হাস্যকর নয়। তিনি বলে দিলেন তালিকায় বেশিরভাগই গরিব মানুষের নাম, কিছু দলীয় লোক থাকতে পারে কিন্তু তারাও দরিদ্র। অথচ এই দলীয় লোকদের একজন এমপির সরাসরি আত্মীয়, একজন এমপির পিএস, আরেকজন চিংড়ি ঘেরের মালিক। এই বাস্তবতা সামনে থাকা সত্ত্বেও এমন বেফাঁস মন্তব্য করতে পারাটা বুঝিয়ে দেয় দলটির ভেতরে দায়বদ্ধতার কোনো বালাই নেই, যা বলা হবে তা যেন বিশ্বাস করতেই হবে এমন একটা মনোভাব।

জামায়াতে ইসলামী যে রাজনীতি করে তার ভিত্তিই হলো নিজেদের অন্য সবার চেয়ে নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা। তারা প্রায়ই দাবি করে অন্য দলগুলো দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, স্বজনপ্রীতির আখড়া, আর তারা নিজেরা পরিচ্ছন্ন, সংগঠিত, আদর্শবান। কিন্তু কয়রার এই ঘটনা দেখাচ্ছে ক্ষমতার সুযোগ পেলে তাদের আচরণ অন্য সবার মতোই, বরং অনেক ক্ষেত্রে আরও নির্লজ্জ। কারণ অন্যরা অন্তত লুকানোর চেষ্টা করে, এখানে তো লুকানোর প্রয়োজনই বোধ করা হয়নি, এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে নিজেদের লোককে আগে বসানো।

এই ঘটনা শুধু একটা এলাকার একটা ত্রাণ তালিকার ঘটনা নয়। এটা দেখায় যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এই সংগঠনটি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও তাদের পুরোনো চরিত্র থেকে এক ইঞ্চিও সরেনি। আগে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, এখনো যারা সুযোগ পাচ্ছে তারা একই পথ অনুসরণ করছে। ধর্মের নামে রাজনীতি করা এই দলের কাছে গরিবের হক, ইনসাফ, আমানতদারির বুলি যতটা মুখে, কাজে তার ছিটেফোঁটাও নেই। কয়রার নাসিমা খাতুন, রেহেনা পারভীন, ফাতেমা খাতুনরা যে অপমান আর বঞ্চনার মুখে পড়েছেন, তা এই দলের রাজনৈতিক চরিত্রের একটা সত্যিকারের দলিল হয়ে থাকল।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ