যশোরের এনামুল হোসেন খুন হয়েছেন কারণ তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। নাতনিকে উত্ত্যক্ত করা বখাটেদের মুখের ওপর কথা বলেছিলেন। পরদিন রাতে দল বেঁধে এসে কুপিয়ে গেল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ।
এই ঘটনা কিন্তু হঠাৎ করে ঘটা কোনো ঘটনা না।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের যে গ্রাফ, সেটা এখনও গবেষকরা উদাহরণ হিসেবে টানেন। সেই আমলে বখাটেরা ছিল স্থানীয় নেতাদের ছায়ায়, স্থানীয় নেতারা ছিলেন দলের ছায়ায়। প্রতিবাদ করলে উল্টো মার খেতে হতো, মামলা খেতে হতো।
২০২৬ সালে সেই একই দল, একই মিত্র জামায়াত, আবার প্রাসঙ্গিক। জামায়াত যাদের শীর্ষ নেতৃত্ব একাত্তরে গণহত্যায় সহযোগিতার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত হয়েছে, সেই দল এখনও রাজনীতিতে বহাল। আর বিএনপি, যার জন্ম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না, সেনাছাউনিতে, পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে, তারা এখন “গণতন্ত্রের” কথা বলে।
এনামুল হোসেনের রক্ত শুকিয়ে যাবে। মামলাও হবে না। রাব্বি, রবিউল, হোসাইনরা ধরা পড়বে না। আর যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের প্রতিবাদকে মৃত্যুদণ্ডে পরিণত করে, সেটার বিচারই-বা কে করবে?

