রাজনৈতিক পদোন্নতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দুর্নীতির উত্থান

২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের প্রশাসনে ব্যাপক রাজনৈতিককরণ শুরু হয়।বিশেষ করে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিলো। নীতিমালা পরিবর্তন করে পদোন্নতির ব্যাপার সে সময় ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল।

বিএনপির জামাত জোট সরকারের আমলে ৭৩ ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করে ৭৭ ব্যাচের কর্মকর্তাদের দ্রুত উচ্চপদে বসানো হয়। একইভাবে ৮২ স্পেশাল ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও অনেককে অস্বাভাবিক দ্রুততায় উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে উন্নীত করা হয়।

প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট সময়কাল প্রয়োজন হলেও রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই কয়েকজন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন। এর ফলে প্রশাসনে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সংকট তৈরি হয়। যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপেক্ষিত হওয়ায় প্রশাসনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা দেখা দেয়।

সেই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা জবিউল্লাহ এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর মতো ব্যক্তিদের দ্রুত পদোন্নতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। প্রশাসনকে দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

একই সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম দেশের অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ দুর্নীতির সূচকে শীর্ষ অবস্থানে চলে আসে। একদিকে তারেক রহমানের কথিত “হাওয়া ভবন” কেন্দ্রিক প্রভাব, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ অন্যদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির বিস্তার সব মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রশাসনে রাজনৈতিক আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করে এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। ফলে দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার পরিবর্তে ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রতি আনুগত্যই হয়ে ওঠে পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড। এর প্রভাব শুধু প্রশাসনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং সামগ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনা, উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

যাদের অদক্ষতায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তারাই এখন সরকার পরিচালনা করছে। আশা করা যায়, এই সরকারের আমলেও দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে।

২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের প্রশাসনে ব্যাপক রাজনৈতিককরণ শুরু হয়।বিশেষ করে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিলো। নীতিমালা পরিবর্তন করে পদোন্নতির ব্যাপার সে সময় ব্যাপকভাবে আলোচিত ছিল।

বিএনপির জামাত জোট সরকারের আমলে ৭৩ ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করে ৭৭ ব্যাচের কর্মকর্তাদের দ্রুত উচ্চপদে বসানো হয়। একইভাবে ৮২ স্পেশাল ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও অনেককে অস্বাভাবিক দ্রুততায় উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে উন্নীত করা হয়।

প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট সময়কাল প্রয়োজন হলেও রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই কয়েকজন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন। এর ফলে প্রশাসনে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সংকট তৈরি হয়। যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপেক্ষিত হওয়ায় প্রশাসনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা দেখা দেয়।

সেই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা জবিউল্লাহ এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর মতো ব্যক্তিদের দ্রুত পদোন্নতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। প্রশাসনকে দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল।

একই সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম দেশের অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ দুর্নীতির সূচকে শীর্ষ অবস্থানে চলে আসে। একদিকে তারেক রহমানের কথিত “হাওয়া ভবন” কেন্দ্রিক প্রভাব, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ অন্যদিকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতির বিস্তার সব মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রশাসনে রাজনৈতিক আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করে এবং দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। ফলে দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার পরিবর্তে ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রতি আনুগত্যই হয়ে ওঠে পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড। এর প্রভাব শুধু প্রশাসনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং সামগ্রিক রাষ্ট্র পরিচালনা, উন্নয়ন এবং জনগণের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।

যাদের অদক্ষতায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তারাই এখন সরকার পরিচালনা করছে। আশা করা যায়, এই সরকারের আমলেও দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ