বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলেই কেন দেশের জ্বালানীখাত নিলামে ওঠার জোগাড় হয়?

গ্যাসক্ষেত্র ফুরিয়ে ফেলা, পাইপলাইন ঝুলিয়ে রাখা, অন্যের বানানো প্রকল্পের গতি থামিয়ে দেওয়া। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিএনপির রেকর্ড মোটামুটি এই তিন লাইনেই ধরে যায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা আবার ক্ষমতায় এসেছে, সঙ্গে সংসদে ভাগ বসিয়েছে সেই জামায়াত, যারা ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত একই জোটে ছিল। অক্টোবর চলছে। আট মাস পেরিয়ে গেছে, আর খাতটা নিয়ে এই সরকারের নিজস্ব কোনো পরিকল্পনার কথা আমাদের চোখে পড়েনি।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের হিসাবটা আগে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, আমাদের বাকি আলাপ শুরু করার আগেই। বিশেষজ্ঞরা তখন বারবার সতর্ক করেছিলেন, তবু বাখরাবাদ আর ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে মাত্রাতিরিক্ত গ্যাস তোলা হলো। ফল হলো উৎপাদন পড়ে যাওয়া। একই সময়ে আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ সঞ্চালন পাইপলাইনের কাজ অনিশ্চয়তায় পড়ে রইল। সিলেট অঞ্চলে গ্যাস মজুত আছে, উৎপাদনও আছে, অথচ সেটা চট্টগ্রামে পৌঁছাল না। ওদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র আর সার কারখানা গ্যাসের অভাবে ধুঁকতে থাকল, আর মানুষ প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে কাটাল। ঘরে গ্যাস আছে, তবু ঘরে আলো নেই। এ রকম পরিস্থিতি ঘটাতে বিশেষ দক্ষতা লাগে বৈকি!

১৯৯৬ সালে সরকার বদলাল, গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ বসলো ক্ষমতায় আর ছবিটাও বদলাতে শুরু করল। আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ ৫৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন বসল, ১৯৯৭ সালেই চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বাড়ল। যমুনা সেতু বরাবর পাইপলাইন গেল, এলেঙ্গা থেকে হাটিকুমরুল আর বাঘাবাড়ী পর্যন্ত অবকাঠামো দাঁড়াল, পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালনের পথ খুলল। সালদা, মেঘনা ও বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো। সাঙ্গু অফশোর উন্নয়ন হয়ে গ্রিডে এল, জালালাবাদেও কাজ হলো।

মৌলভীবাজারে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলো, আর সেই ধারাতেই পরে বিবিয়ানা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বড় ভরসা হয়ে উঠল। বিদ্যুতের দিকে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতিমালা এল ১৯৯৬ সালেই। মেঘনাঘাটে ৪২০ আর হরিপুরে ৩৬০ মেগাওয়াটের আইপিপি, বার্জ-মাউন্টেড কেন্দ্রের উদ্যোগ, পাওয়ার সেল, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি, সবই ওই পাঁচ বছরের হিসাবে। ২০০১ সাল নাগাদ প্রায় ৫২টি কেন্দ্রের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এখানে একটা জিনিস লক্ষ্য করার মতোই। অনুসন্ধান, উৎপাদন, সঞ্চালন, গ্রিড আর বেসরকারি বিনিয়োগ, সব একই পরিকল্পনার ভেতরে বাঁধা ছিল। গ্যাস পাইপলাইনে না উঠলে বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, গ্রিড না থাকলে বিদ্যুৎ অচল। এই যুক্তিটা বুঝতে পারাটাই ছিল ওই সময়ের বড় কৃতিত্ব, আর ১৯৯১-৯৬ সালের বিএনপি সরকার ঠিক এই জায়গাতেই ডাহা ফেল মেরেছিলো।

তারপর ২০০১ সাল এলো, ক্ষমতা দখল করলো বিএনপি-জামায়াত জোট। যে খাত পাঁচ বছরে সংকট থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছিল, সেখানে নতুন বিনিয়োগ আর অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হলো। বছর শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আবার তীব্র হয়ে ফিরে এল। অর্থাৎ বিএনপি একবার সংকট বানিয়েছে, আর জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয়বার সংকট ফিরিয়ে এনেছে। তাদের হাতে দুবারই একই ফল, দুবারই একই খাত। এটাকে কাকতালীয় বলার সুযোগ একদমই নেই।

এবার ফিরে আসি বর্তমানে। ২০২৬ সালের এই সরকার যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কাঠামো হাতে পেয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ অন্যের গড়া। তারা নিজে গড়েছে বলে দাবি করার মতো কিছু আট মাসে জনসমক্ষে আসেনি। সংকট সামলানোর রোডম্যাপ নেই, গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে বড় ঘোষণা নেই, বেসরকারি বিনিয়োগ টানার নতুন নীতিও চোখে পড়ে না। যে দলের ইতিহাস গ্যাসক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ আর পাইপলাইনের দীর্ঘসূত্রতায় ভরা, তারা এবার কোন গ্যারান্টিতে আলাদা কিছু করবে, সেই উত্তর এখনও কারও কাছে নেই।

জামায়াতের দায়ও এখানে এড়ানোর উপায় নেই। ক্ষমতার ভাগ চাওয়ার সময় তাদের গলা চড়া ছিল। কিন্তু ২০০১-০৬ সালে যে জোটের অংশ হয়ে তারা এই খাতের ধারাবাহিকতা ভাঙার সময় সরকারে বসে ছিল, সেই হিসাব আজও তাদের দিতে হয়নি। আজ আবার ক্ষমতার কাঠামোয় ঢুকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তাদের একটা বাক্যও মানুষ শোনেনি।

পাঁচ বছর সময় পেয়ে যারা একটা ধ্বসে পড়া খাতকে দাঁড় করিয়েছিল, সেই আওয়ামী লীগকে পাশে রাখলে বিএনপির এই আট মাসের ভেজা বেড়াল হয়ে থাকা ভাবটা অবাস্তবই লাগে।

গ্যাসক্ষেত্র ফুরিয়ে ফেলা, পাইপলাইন ঝুলিয়ে রাখা, অন্যের বানানো প্রকল্পের গতি থামিয়ে দেওয়া। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিএনপির রেকর্ড মোটামুটি এই তিন লাইনেই ধরে যায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা আবার ক্ষমতায় এসেছে, সঙ্গে সংসদে ভাগ বসিয়েছে সেই জামায়াত, যারা ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত একই জোটে ছিল। অক্টোবর চলছে। আট মাস পেরিয়ে গেছে, আর খাতটা নিয়ে এই সরকারের নিজস্ব কোনো পরিকল্পনার কথা আমাদের চোখে পড়েনি।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের হিসাবটা আগে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, আমাদের বাকি আলাপ শুরু করার আগেই। বিশেষজ্ঞরা তখন বারবার সতর্ক করেছিলেন, তবু বাখরাবাদ আর ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে মাত্রাতিরিক্ত গ্যাস তোলা হলো। ফল হলো উৎপাদন পড়ে যাওয়া। একই সময়ে আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ সঞ্চালন পাইপলাইনের কাজ অনিশ্চয়তায় পড়ে রইল। সিলেট অঞ্চলে গ্যাস মজুত আছে, উৎপাদনও আছে, অথচ সেটা চট্টগ্রামে পৌঁছাল না। ওদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র আর সার কারখানা গ্যাসের অভাবে ধুঁকতে থাকল, আর মানুষ প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে কাটাল। ঘরে গ্যাস আছে, তবু ঘরে আলো নেই। এ রকম পরিস্থিতি ঘটাতে বিশেষ দক্ষতা লাগে বৈকি!

১৯৯৬ সালে সরকার বদলাল, গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ বসলো ক্ষমতায় আর ছবিটাও বদলাতে শুরু করল। আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ ৫৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন বসল, ১৯৯৭ সালেই চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বাড়ল। যমুনা সেতু বরাবর পাইপলাইন গেল, এলেঙ্গা থেকে হাটিকুমরুল আর বাঘাবাড়ী পর্যন্ত অবকাঠামো দাঁড়াল, পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালনের পথ খুলল। সালদা, মেঘনা ও বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো। সাঙ্গু অফশোর উন্নয়ন হয়ে গ্রিডে এল, জালালাবাদেও কাজ হলো।

মৌলভীবাজারে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলো, আর সেই ধারাতেই পরে বিবিয়ানা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বড় ভরসা হয়ে উঠল। বিদ্যুতের দিকে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতিমালা এল ১৯৯৬ সালেই। মেঘনাঘাটে ৪২০ আর হরিপুরে ৩৬০ মেগাওয়াটের আইপিপি, বার্জ-মাউন্টেড কেন্দ্রের উদ্যোগ, পাওয়ার সেল, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি, সবই ওই পাঁচ বছরের হিসাবে। ২০০১ সাল নাগাদ প্রায় ৫২টি কেন্দ্রের উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

এখানে একটা জিনিস লক্ষ্য করার মতোই। অনুসন্ধান, উৎপাদন, সঞ্চালন, গ্রিড আর বেসরকারি বিনিয়োগ, সব একই পরিকল্পনার ভেতরে বাঁধা ছিল। গ্যাস পাইপলাইনে না উঠলে বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, গ্রিড না থাকলে বিদ্যুৎ অচল। এই যুক্তিটা বুঝতে পারাটাই ছিল ওই সময়ের বড় কৃতিত্ব, আর ১৯৯১-৯৬ সালের বিএনপি সরকার ঠিক এই জায়গাতেই ডাহা ফেল মেরেছিলো।

তারপর ২০০১ সাল এলো, ক্ষমতা দখল করলো বিএনপি-জামায়াত জোট। যে খাত পাঁচ বছরে সংকট থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছিল, সেখানে নতুন বিনিয়োগ আর অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হলো। বছর শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আবার তীব্র হয়ে ফিরে এল। অর্থাৎ বিএনপি একবার সংকট বানিয়েছে, আর জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয়বার সংকট ফিরিয়ে এনেছে। তাদের হাতে দুবারই একই ফল, দুবারই একই খাত। এটাকে কাকতালীয় বলার সুযোগ একদমই নেই।

এবার ফিরে আসি বর্তমানে। ২০২৬ সালের এই সরকার যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কাঠামো হাতে পেয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ অন্যের গড়া। তারা নিজে গড়েছে বলে দাবি করার মতো কিছু আট মাসে জনসমক্ষে আসেনি। সংকট সামলানোর রোডম্যাপ নেই, গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে বড় ঘোষণা নেই, বেসরকারি বিনিয়োগ টানার নতুন নীতিও চোখে পড়ে না। যে দলের ইতিহাস গ্যাসক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ আর পাইপলাইনের দীর্ঘসূত্রতায় ভরা, তারা এবার কোন গ্যারান্টিতে আলাদা কিছু করবে, সেই উত্তর এখনও কারও কাছে নেই।

জামায়াতের দায়ও এখানে এড়ানোর উপায় নেই। ক্ষমতার ভাগ চাওয়ার সময় তাদের গলা চড়া ছিল। কিন্তু ২০০১-০৬ সালে যে জোটের অংশ হয়ে তারা এই খাতের ধারাবাহিকতা ভাঙার সময় সরকারে বসে ছিল, সেই হিসাব আজও তাদের দিতে হয়নি। আজ আবার ক্ষমতার কাঠামোয় ঢুকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তাদের একটা বাক্যও মানুষ শোনেনি।

পাঁচ বছর সময় পেয়ে যারা একটা ধ্বসে পড়া খাতকে দাঁড় করিয়েছিল, সেই আওয়ামী লীগকে পাশে রাখলে বিএনপির এই আট মাসের ভেজা বেড়াল হয়ে থাকা ভাবটা অবাস্তবই লাগে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ