মেধার অবমূল্যায়ন, দলীয়করণ ও সর্বগ্রাসী ব্যর্থতা: ধ্বংসের প্রান্তে রাষ্ট্রীয় কাঠামো

একটি দক্ষ, গতিশীল ও পেশাদার আমলাতন্ত্র হলো উন্নত রাষ্ট্র গঠনের মূল স্তম্ভ। কিন্তু যখন রাষ্ট্রের পলিসি-মেকিং বা প্রতিনিধিত্বমূলক পদে যোগ্যতার চেয়ে চাটুকারিতা আর রাজনৈতিক তোষণনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন পুরো প্রশাসনিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়তে বাধ্য। বিএনপি সরকারের শাসনামলে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেছি কিভাবে প্রশাসনিক কাঠামোকে পুরোপুরি নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করা পেশাদার বিসিএস ক্যাডারদের পদোন্নতি বঞ্চিত করে অবসরে পাঠানো হয়েছে, আর কোনো প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেবল রাজনৈতিক আনুকূল্যে গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলোতে বসানো হয়েছে তোষামোদকারীদের।

এই দলীয়করণের বিষাক্ত থাবা কেবল সচিবালয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা বিস্তৃত হয়েছে মাঠপ্রশাসনেও। জেলা প্রশাসক কিংবা পৌর প্রশাসক হিসেবে কোনো পেশাদার আমলাকে নয়, বরং দলীয় ক্যাডারদের বসিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ধ্বংস করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রহসনমূলক নির্বাচনে আবার তাদেরকেই প্রার্থী করে স্থানীয় সরকারকে একদলীয় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত করেছে বিএনপি সরকার। এটি প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ধ্বংসের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পঙ্গু করে ফেলার নীল নকশা তৈরি করেছে।

প্রশাসনিক এই বাস্তবতার বিপরীতে যখন রাজনৈতিক বিবেচনা বা বিশেষ আনুকূল্যে চলচ্চিত্র জগতের একজন খল অভিনেতা কিংবা মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাহীন কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-২) সমমর্যাদার শীর্ষ পদে বসানো হয়, তখন তা সমগ্র প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেয়। এই ধরনের নিয়োগ সিভিল সার্ভিসের যোগ্য, সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেয় এবং তাদের কর্মস্পৃহা ও আত্মমর্যাদাবোধকে চরমভাবে আঘাত করে।

রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বমূলক পদগুলোতে যখন যোগ্য ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের পরিবর্তে অদক্ষ বা চাটুকারিতার মাধ্যমে উঠে আসা ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়, তখন সামগ্রিক সুশাসন ব্যাহত হয়। এটি কেবল দেশের অভ্যন্তরেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করে না, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও মান-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।

ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্যই ছিল একটি উদীয়মান জাতিকে মেধা শূন্য করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না করে যদি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অযোগ্যদের পুনর্বাসন করা হয়, তবে তা সেই ঐতিহাসিক মেধা শূন্যকরণের প্রক্রিয়ারই এক পরোক্ষ রূপ ধারণ করে। একটি জাতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পঙ্গু করতে হলে কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চাবিকাঠি অযোগ্যদের হাতে সঁপে দেওয়াই যথেষ্ট।

দেশের ভেতরে যখন তীব্র অদক্ষতা, বাজার নিয়ন্ত্রণে সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে দ্রব্যমূল্যের হু হু বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে জনজীবন আজ নাভিশ্বাস উঠছে, ঠিক তখন কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিএনপি সরকার উপহার দিয়েছে একের পর এক লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নেওয়ার কাল্পনিক ঘোষণা থেকে শুরু করে জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর অবাস্তব দাবি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাস্যকর ও অপদস্থ হয়েছে। বিএনপি সরকারের মিথ্যাচার ও ভূয়া ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করে আমাদের জাতীয় ভাবমূর্তি এবং কূটনৈতিক সক্ষমতাকে তলানিতে গিয়ে ঠেকিয়েছে।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাঠপ্রশাসন পর্যন্ত অদক্ষতা, কূটনৈতিক অদূরদর্শিতা এবং মেধার অবমূল্যায়ন বিএনপি সরকারের শাসনকালের প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না, অদক্ষ আর দলীয় দাসদের দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেই চলে—বিএনপি সরকার তাদের বর্তমান নীতি দিয়ে সেটিই প্রমাণ করে চলেছে। তাই দেশের প্রশাসনিক মেরুদণ্ডকে রক্ষা করতে এবং বাংলাদেশকে এই প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে চাটুকারিতা ও দলীয়করণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে মেধাভিত্তিক ও পক্ষপাতহীন প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি।

একটি দক্ষ, গতিশীল ও পেশাদার আমলাতন্ত্র হলো উন্নত রাষ্ট্র গঠনের মূল স্তম্ভ। কিন্তু যখন রাষ্ট্রের পলিসি-মেকিং বা প্রতিনিধিত্বমূলক পদে যোগ্যতার চেয়ে চাটুকারিতা আর রাজনৈতিক তোষণনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তখন পুরো প্রশাসনিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়তে বাধ্য। বিএনপি সরকারের শাসনামলে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেছি কিভাবে প্রশাসনিক কাঠামোকে পুরোপুরি নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘ ২০-২৫ বছর সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করা পেশাদার বিসিএস ক্যাডারদের পদোন্নতি বঞ্চিত করে অবসরে পাঠানো হয়েছে, আর কোনো প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেবল রাজনৈতিক আনুকূল্যে গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলোতে বসানো হয়েছে তোষামোদকারীদের।

এই দলীয়করণের বিষাক্ত থাবা কেবল সচিবালয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; তা বিস্তৃত হয়েছে মাঠপ্রশাসনেও। জেলা প্রশাসক কিংবা পৌর প্রশাসক হিসেবে কোনো পেশাদার আমলাকে নয়, বরং দলীয় ক্যাডারদের বসিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ধ্বংস করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রহসনমূলক নির্বাচনে আবার তাদেরকেই প্রার্থী করে স্থানীয় সরকারকে একদলীয় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত করেছে বিএনপি সরকার। এটি প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ধ্বংসের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পঙ্গু করে ফেলার নীল নকশা তৈরি করেছে।

প্রশাসনিক এই বাস্তবতার বিপরীতে যখন রাজনৈতিক বিবেচনা বা বিশেষ আনুকূল্যে চলচ্চিত্র জগতের একজন খল অভিনেতা কিংবা মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাহীন কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-২) সমমর্যাদার শীর্ষ পদে বসানো হয়, তখন তা সমগ্র প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেয়। এই ধরনের নিয়োগ সিভিল সার্ভিসের যোগ্য, সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেয় এবং তাদের কর্মস্পৃহা ও আত্মমর্যাদাবোধকে চরমভাবে আঘাত করে।

রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বমূলক পদগুলোতে যখন যোগ্য ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের পরিবর্তে অদক্ষ বা চাটুকারিতার মাধ্যমে উঠে আসা ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়, তখন সামগ্রিক সুশাসন ব্যাহত হয়। এটি কেবল দেশের অভ্যন্তরেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করে না, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও মান-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।

ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্যই ছিল একটি উদীয়মান জাতিকে মেধা শূন্য করা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না করে যদি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অযোগ্যদের পুনর্বাসন করা হয়, তবে তা সেই ঐতিহাসিক মেধা শূন্যকরণের প্রক্রিয়ারই এক পরোক্ষ রূপ ধারণ করে। একটি জাতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পঙ্গু করতে হলে কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চাবিকাঠি অযোগ্যদের হাতে সঁপে দেওয়াই যথেষ্ট।

দেশের ভেতরে যখন তীব্র অদক্ষতা, বাজার নিয়ন্ত্রণে সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে দ্রব্যমূল্যের হু হু বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে জনজীবন আজ নাভিশ্বাস উঠছে, ঠিক তখন কূটনৈতিক অঙ্গনেও বিএনপি সরকার উপহার দিয়েছে একের পর এক লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নেওয়ার কাল্পনিক ঘোষণা থেকে শুরু করে জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর অবাস্তব দাবি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাস্যকর ও অপদস্থ হয়েছে। বিএনপি সরকারের মিথ্যাচার ও ভূয়া ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ তা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করে আমাদের জাতীয় ভাবমূর্তি এবং কূটনৈতিক সক্ষমতাকে তলানিতে গিয়ে ঠেকিয়েছে।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাঠপ্রশাসন পর্যন্ত অদক্ষতা, কূটনৈতিক অদূরদর্শিতা এবং মেধার অবমূল্যায়ন বিএনপি সরকারের শাসনকালের প্রধান বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না, অদক্ষ আর দলীয় দাসদের দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করলেই চলে—বিএনপি সরকার তাদের বর্তমান নীতি দিয়ে সেটিই প্রমাণ করে চলেছে। তাই দেশের প্রশাসনিক মেরুদণ্ডকে রক্ষা করতে এবং বাংলাদেশকে এই প্রাতিষ্ঠানিক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে চাটুকারিতা ও দলীয়করণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে মেধাভিত্তিক ও পক্ষপাতহীন প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ