ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের আগে জামাতের নেতারা দাবী করেছিলেন, হিন্দু ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে, সরকারি চাকরিজীবী আর শিক্ষকদেরও। ভোটের পর সুর পাল্টে গেল। এখন তারা বলছে, হিন্দুরা এত বেঈমান যে কলিজা কেটে দিলেও তাদের ভোট পাওয়া যাবে না। একই দল একই ভোটারদের আগে বলল নির্যাতিত, পরে বলল বিশ্বাসঘাতক। দরদটা ভোটের হিসাবেই এসেছিল, ভোট না পেতেই ফুরিয়ে গেল।
লাখখানেকের বেশি হিন্দু ও আদিবাসী ভোটারের আসনে এই হিসাব মেলানো কঠিন ছিল না। মেলেনি, কারণ ভোটার শুধু ব্যালট দেখে না, গত দুই বছরের স্মৃতিও দেখে। সমালোচকদের হিসাবে ৫ আগস্টের পর প্রথম পনেরো দিনেই প্রায় এগারোশো হিন্দু বাড়িঘর ও দোকানে হামলা হয়েছে। দীপু দাসকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। পূজার মৌসুমে মূর্তি ভাঙা আর মণ্ডপের পাশে না ঘেঁষার প্রচারণা চলেছে। এই পরিবেশ তৈরির দায় জামাত এড়াতে পারে না বলেই সমালোচকদের মত। যে দলের ছায়ায় এসব ঘটে, তার প্রতীকে সিল মারার কথা কেউ ভাবে কীভাবে?
আরও পুরোনো হিসাবও আছে। একাত্তরের ডিসেম্বরে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের পেরুয়ায় রাজাকারদের হাতে হিন্দুদের ধর্মান্তর আর নদীর পাড়ে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনা আজও স্থানীয়দের মুখে মুখে। সেই পরিবারের ছেলে সুনামগঞ্জে হারলে দোষ পড়ল হিন্দুদের ঘাড়ে। যাদের পূর্বপুরুষ নিহত হয়েছিল বলে প্রমাণিত, তাদের কাছেই ভোটের বিনিময়ে ক্ষমা আর আনুগত্য চাওয়ার এই সাহস হচ্ছে নির্লজ্জতার চূড়ান্ত।
ভোট চাওয়ার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ভোট না পেয়ে একটা গোটা সম্প্রদায়কে বেঈমান বলার অধিকার গণতন্ত্রে কারও নেই। জামাত আসলে যেখানেই গেছে, সেখানেই হিন্দুর দম নেয়ার জায়গা সংকুচিত হয়েছে সব সময়েই।

