রৌদ্র রুদ্র
আর কত শিশুর লাশ কাঁধে নিলে রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙবে? যে দেশে সন্তান স্কুলে পাঠিয়ে মায়েরা ফেরার প্রহর গোনেন আতঙ্কে, সে দেশে শাসকের গদি নিয়ে আত্মতুষ্টি লজ্জার। সকালে সংবাদপত্র খুললেই নিথর শিশুদেহের খবর, অথচ ক্ষমতার মসনদ অটল, জবাবদিহি নেই। এই নীরবতা অপরাধের সমান, আর বিচারহীনতার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা আজ প্রতিটি বিবেকবান মানুষের দায়।
আমাদের শৈশব আজ পরিসংখ্যানের পাতায় লাশের সারিতে জমা হচ্ছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর হিসাবে বছরের প্রথম আট মাসে ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এদের অন্তত ২৬ জন ধর্ষণের পর খুন, আর ৩৬ জনের মরদেহ নিখোঁজের পর উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ে ১৫,৭১৭টি নিখোঁজ জিডির বিপরীতে ১৩,৬৭৯ শিশু উদ্ধার বা ফিরে এলেও ২,০৩৮ জন এখনও নিখোঁজ। আট মাসে নথিভুক্ত হয়েছে ২,৩৬২টি হত্যা মামলা।
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে রাজবাড়ী, ভোলা, সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশালসহ বহু জেলায় শিশু নিখোঁজ, বস্তাবন্দি লাশ ও নদী-পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা একের পর এক সামনে এসেছে।
যে দেশে ভোর ফোটে শিশুর কাকলিতে নয়, বরং সেপটিক ট্যাংক, নদী কিংবা ঝোপঝাড় থেকে উদ্ধার হওয়া নিথর দেহের খবরে, সে দেশ আজ এক কসাইখানা।
এই নৈরাজ্যের নেপথ্যে রয়েছে বর্তমান অবৈধ বিএনপি সরকারের চরম অদক্ষতা, স্থবিরতা ও দায়িত্বহীনতা। ক্ষমতার মোহে অন্ধ এই সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। জিডি করতে যাওয়া দিশাহারা অভিভাবকদের প্রতি থানার উদাসীনতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে অপরাধীরা পার পাচ্ছে, আর অকালে ঝরছে আমাদের সম্ভাবনাময় শিশুরা।
রাষ্ট্র যখন অভিভাবকত্ব হারায়, তখন সমাজ পরিণত হয় জল্লাদের আখড়ায়। যে সরকার শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, গদিতে থাকার নৈতিক অধিকার সে হারিয়েছে।
এই নির্বিকার নীরবতা ভাঙার সময় এখনই। শিশুদের রক্তের ঋণ শোধ করতে এবং নিরাপদ, বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনতে ঘরে বসে থাকার সময় নেই। রাজপথেই গড়ে তুলতে হবে অপ্রতিরোধ্য গণপ্রতিরোধ।
লেখা: রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

