১৯৭১ সালে যে পরাজিত আদর্শকে বাংলার মুক্তিকামী মানুষ বঙ্গোপসাগরে বিসর্জন দিয়েছিল, আজ সেই একই ভূত ঘাড় চেপে ধরেছে লাল-সবুজের বাংলাদেশের। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা (ISI), বিদেশি চক্র এবং দেশের ভেতরের দেশদ্রোহীদের হাত ধরে বাংলাদেশকে আবারো একটি ‘পাসতুনের চেয়েও উগ্র সামরিক-মৌলবাদী ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ তথা ‘দ্বিতীয় পাকিস্তান’ বানানোর নজিরবিহীন নীলনকশা এখন বাস্তবায়নের পথে। এই দেশবিরোধী অক্ষের মূল মাস্টারমাইন্ড—১৯৭১ সালের চিহ্নিত মানবতাবিরোধী অপরাধী গোলাম আযমের পুত্র আবদুল্লাহিল আমান আজমি এবং অবসরপ্রাপ্ত কিছু শৃঙ্খলাচ্যুত সামরিক কর্মকর্তা।
গণমানুষের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে রাজপথ থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার বহুপ্রতিক্ষিত ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে প্রতিহত করতে এরা সূচনা করেছে ‘অপারেশন দমন’। তথ্যপ্রমাণ বলছে, এই অপারেশনের আড়ালে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেওয়ার নীলচক্রান্ত চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
‘অপারেশন দমন’ ও টার্গেটেড কিলিং: রাজনীতির নামে সশস্ত্র সন্ত্রাস
রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়ত,এনসিপি-আজমি-চক্র এখন বেছে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গোপন হত্যাকাণ্ডের পথ।
৬৪ জেলায় টার্গেট কিলিং: বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে জনসম্পৃক্ত ও মাঠপর্যায়ের ১৫ থেকে ২০ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে চিহ্নিত করে উগ্রবাদী স্কোয়াড দিয়ে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের (Targeted Assassination) ছক কষা হয়েছে।
পুলিশকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো: মূল নেতাদের হত্যার পাশাপাশি তৃণমূলের লাখ লাখ নেতা-কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের মিথ্যা ও কাল্পনিক মামলায় গ্রেপ্তার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।
বিচারে রাজনৈতিক চক্রান্ত: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার বানিয়ে সাজানো রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চূড়ান্ত তাড়াহুড়ো চলছে।
৮,৮০০ ক্যাডারের গুপ্ত বাহিনী ও তুর্কি-পাকিস্তানি অস্ত্রের চালান
এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং এটি রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের একটি সশস্ত্র সামরিক অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি।
আর্মড রিজার্ভের নামে উগ্রবাদী মিলিশিয়া: রাষ্ট্রীয় আনসার বা আনসার ব্যাটালিয়নের আড়ালে ৮,৮০০ উগ্রপন্থী তরুণকে বাছাই করে এক মাসের স্পেশাল কমব্যাট ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। এদের কাজ বিদেশি শত্রু তাড়ানো নয়, বরং দেশের ভেতরের স্বাধীনিকামী মানুষকে হত্যা করা।
ক্রিকেট সরঞ্জামের নামে ১০,০০০ অ্যাসল্ট রাইফেল: চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজ থেকে ‘ক্রিকেট সরঞ্জাম’ লেখা কনটেইনারে করে তুর্কি অস্ত্রের বিশাল চালান দেশে প্রবেশ করানো হয়েছে। সেখান থেকে অন্তত ১০,০০০ অ্যাসল্ট রাইফেল ও বিপুল গোলাবারুদ গোপন ক্যাডারদের হাতে পৌঁছে গেছে।
এতিমখানা থেকে আত্মঘাতী স্কোয়াড: পাকিস্তানের দূতাবাস এতিমখানাগুলোর ‘মেধাবী শিক্ষার্থীদের’ উচ্চশিক্ষার প্রলোভনে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে আত্মঘাতী স্কোয়াডের প্রশিক্ষণ দেওয়ার তথ্য গোয়েন্দা নথিতে উঠে এসেছে।
‘অপারেশন দমন’ থেকে ‘অপারেশন দখল’: চূড়ান্ত ক্ষমতা গ্রাসঃ অক্টোবরের মধ্যে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ও শারীরিকভাবে ধ্বংস করার পর, নভেম্বরে এই চক্র শুরু করবে ‘অপারেশন দখল’। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশাকে পুঁজি করে তারা নিজেরাই সরকার উৎখাতের সহিংস আন্দোলন শুরু করবে এবং ‘জুলাই সনদের’ অশুভ তোহাফা দিয়ে একটি চরমপন্থী শরিয়াভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।
আপনারা যারা প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ, স্টার্টআপ কালচার, ডিজিটাল ও স্মার্ট ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন—আপনাদের ভবিষ্যৎ আজ এক অন্ধকার মৌলবাদী গহ্বরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ১৯৭১ সালে আপনাদের বয়সী তরুণরাই অস্ত্র হাতে নিয়েছিল গোলাম আযমদের দেশদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আবারও তাদের উত্তরসূরি আজমিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক সময় এসেছে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্ব মানেই ডিজিটালাইজেশন, অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশ। আর আজমি-চক্রের ক্ষমতা দখল মানেই—হাত কাটা, চোখ উপড়ে ফেলা, গানপাউডার দিয়ে বইমেলা বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা।

