আসন্ন দুর্গাপুজোকে লক্ষ্য করব আবারও শুরু হয়েছে প্রতিমা ভাঙচুরের রাজনৈতিক কর্মসূচি। আবারও সেই চিরচেনা ছবি- মণ্ডপে ঢুকে দুর্গা, গণেশ, অসুরের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে জামুর্কী ইউনিয়নের জামুর্কী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় রাধা গোবিন্দ মন্দিরসংলগ্ন আর্য সমিতির দুর্গামন্দিরে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা ঝাড়ু দিতে গিয়ে দেখেন, চারটি প্রতিমা ভাঙা পড়ে আছে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে মাটির প্রলেপ শেষ করে মণ্ডপ ঢেকে রাখা হয়েছিল। সেই ঢেকে রাখা মণ্ডপেই হামলা। মানে পরিকল্পিত। মানে স্থানীয় রাজনৈতিক চক্র।
পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মুস্তাফিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দাঁড়িয়ে এই ঘটনার যে রাজনৈতিক পাঠ, সেটি পরিষ্কার। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী যখনই ক্ষমতার কাছাকাছি আসে, সংখ্যালঘুদের মাথার উপর তখনই কালো মেঘ জমতে শুরু করে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই জোটের শাসনামলে দেশের সংখ্যালঘুরা যা ভোগ করেছেন, সেই ইতিহাস কারও অজানা নয়। পূজামণ্ডপে বোমা, মন্দিরে হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, জমি দখল, মেয়েদের অপহরণ – সবই ছিল সেই সময়ের নিত্যদিনের ঘটনা।
টাঙ্গাইলের এই ভাঙচুর সেই পুরনো কালচার ফিরে আসারই ঘোষণা পাঠ। জামায়াত সবসময় সংখ্যালঘু বিরোধী রাজনীতির মূল ইঞ্জিন। আর বিএনপি সেই ইঞ্জিনকে জ্বালানি দিয়ে নিজের ভোটব্যাংক বানায়। ২০২৬ সালে সেই জোট আবার ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘু নির্যাতন যে নতুন মাত্রা পাবে, টাঙ্গাইলের ঘটনা তারই প্রমাণ। প্রতিমা ভাঙচুরকারীরা গ্রেপ্তার হবে না, মামলা টালবাহানা চলবে, আর সংখ্যালঘুরা আবারও বলির পাঁঠা হবে – এই বাস্তবতা নতুন নয়।
এই ঘটনার পর বিএনপি বা জামায়াতের কোনো শীর্ষ নেতা কি নিন্দা জানিয়েছেন? না। কারণ তাদের রাজনীতির মূল ভিত্তিই সাম্প্রদায়িকতা। মির্জাপুরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা শুধু একটি মন্দিরের ক্ষতি নয়। এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার আরেকটি দলিল। আর এই ব্যর্থতার সুযোগ নিয়েই বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বেড়ে ওঠে। টাঙ্গাইলের ঘটনা সেই অশুভ রাজনীতিরই ফসল।

