জনগণের স্পষ্ট অভিযোগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে একদিকে নিত্যপণ্য ক্রয়ে যেমন হিমসিম খাচ্ছে ক্রেতারা তেমনি ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ ব্যবসায়ীরাও। ইউনূস গংয়ের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বন্ধ হয়েছে শত শত গার্মেন্টস ও শিল্প-প্রতিষ্ঠান। ফলাফল বিনিয়োগ বন্ধ হয়েছে বাংলাদেশে।
গ্যাস-বিদ্যুত সংকট তৈরি করে কল-কারখানা বিএনপি সরকারও বন্ধ করেছে ক্ষমতায় এসে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দফায় দফায় বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে জ্বালানির দাম। দেশে এখন কোন মহামারি নেই, অথর্ব বিএনপি সরকার নিজেদের ব্যর্থতার সকল দায় চাপাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উপর। অথচ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই এলপি গ্যাসের দাম সবচেয়ে বেশি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, দুই বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন মাসের শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ এই সময়ে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২২ সালে করোনা মহামারির কারণে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাড়িয়েছে ১০.১ শতাংশে। মোট দারিদ্র্যের হারও আগের চেয়ে বেড়ে প্রায় ২২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন তিন কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে৷ বিশ্বব্যাংক বলছে, আরও প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি, যারা এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অবস্থান করছেন, তারাও দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

