কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদকে কৃষকরা পেটালেন। ঘটনার মূল কারণ ডিলার অলিল মোল্লা। তার গুদামে ১২০ বস্তা সার ছিল। সকাল থেকে কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে। ডিলার ফোন ধরেন না, গুদাম খোলেন না। দুপুর ১২টায় ক্ষুব্ধ কৃষকদের রাগ গিয়ে পড়ে বিএস মামুনের ওপর। তিনি নতুন দায়িত্বে, চেনেনও না কাউকে, অথচ এসেছেন পাকনামি করে হুকুমদারি করতে! চশমা ভেঙে নাক কেটে গেছে, মাথা ও পিঠে আঘাত। তিন পুলিশের উপস্থিতিও তাকে বাঁচাতে পারেনি। তিনি দৌড়ে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ডিলার কেন নির্ধারিত সময়ে গুদাম খোলেননি? কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি অফিসার নাহিদা আফরীন বলছেন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। জেলা মনিটরিং কমিটিকে অনুলিপি দেওয়া হবে। এটা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের কথা। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় ছিল। সেই সময়ে সারের কৃত্রিম সংকট, ডিলারদের সিন্ডিকেট, কৃষকের হয়রানি ছিল প্রতিদিনের খবর। ২০২৬ সালে এসে ঠিক একই দৃশ্য ফিরে এসেছে। রৌমারীতে ৭ সেপ্টেম্বর মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নেন কৃষকরা। ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীতে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া লুট হয়। এই ঘটনাগুলো আলাদা নয়, একই সূত্রে গাঁথা।
বিএনপি-জামাত এখন ক্ষমতায়। ডিলার নিয়োগ, গুদাম মনিটরিং, সার বরাদ্দের ফাইল – সবই এখন তারা দেখে। অথচ কৃষক যখন সার পায় না, তখন তাদের মুখ বন্ধ। ২০০১-০৬ সালে বিএনপি-জামাত কৃষকের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। বরং ২০২৬ সালে এসে সেই অপশাসনের নতুন সংস্করণ দেখছি। ডিলাররা গুদাম বন্ধ রাখছে, প্রশাসন নোটিশ দিচ্ছে, কৃষক রাস্তায় নামছে। আর ক্ষমতার অংশীদার জামাত-বিএনপি চুপ করে বসে আছে।
মামুন অর রশিদ আহত হয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে আশ্রয় নিলেন। কিন্তু কৃষকরা কেন সার পেলেন না? ডিলার অলিল মোল্লার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা কৃষি বিভাগ বলছে। কিন্তু ২০০১-০৬ সালে এই ব্যবস্থা কতটা হয়েছিল, তা ইতিহাস বলে দেয়। সার সিন্ডিকেটের মূল হোতা রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে যায়। আজও একই ঘটনা ঘটছে। কৃষকের রাগ কৃষি কর্মকর্তার ওপর গিয়ে পড়ছে, অথচ আসল দায় ডিলার আর তার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের।

