‘Healthcare Innovation for All: Expanding Access to Affordable and Inclusive Healthcare’—এমন একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সেশন, যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিভিত্তিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর পথ খোঁজা হবে, সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ বা রাজনৈতিক আক্রমণের উদ্দেশ্যে নয়—দেশের সচেতন নাগরিক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগ্যতার নীতিগত মানদণ্ড নিয়ে কিছু বস্তুনিষ্ঠ প্রশ্ন উত্থাপন করা আজ সময়ের দাবি।
১. যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাসেবা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সত্যতা কতটুকু? আন্তর্জাতিক স্তরের উদ্ভাবন ও স্বাস্থ্যনীতি সম্পর্কিত সেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও সেখানকার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার (NHS) অধীনে স্বাধীনভাবে কোনো চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন কি না, কিংবা সেখানে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা স্পষ্ট নয়।
২. স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণায় বিশেষায়িত অবদান: উন্নত প্রযুক্তি ও ইনক্লুসিভ হেলথ কেয়ার নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারে দিকনির্দেশনা দিতে গবেষক বা পলিসি মেকারদের উপস্থিতি সচরাচর দেখা যায়। ডা. জুবাইদা রহমানের বিশেষায়িত ক্ষেত্র (Specialization) এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক কোনো স্বীকৃত জার্নালে পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র রয়েছে কি না—তা এখনো আলোচনার বাইরে।
৩. মূল প্রশ্ন: রাজনৈতিক পরিচয় বনাম পেশাগত যোগ্যতা: একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর প্রাথমিক ডিগ্রি থাকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে প্রশ্ন জাগে— প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী পরিচয়ের বাইরে কি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল হেলথ ইনোভেশন কিংবা গ্লোবাল পাবলিক হেলথ পলিসিতে তাঁর এমন কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে, যা তাঁকে এই সেশনের প্রধান অতিথির আসনে বসায়?
প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবন সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে কোনো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা উদ্ভাবককে প্রাধান্য দেওয়া কি আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ছিল না?
গণতান্ত্রিক চর্চা ও পেশাদারিত্বের মূল ভিত্তিই হলো স্বচ্ছতা। পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে পেশাগত পদ অলংকৃত করার এই সংস্কৃতি স্বাস্থ্য খাতের নীতি নির্ধারণী জায়গায় কতটুকু ইতিবাচক বার্তা দেয়, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। স্বাস্থ্য খাতে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হোক! যোগ্যতা ও গবেষণাকেই স্থান দেওয়া হোক শীর্ষ আসনে!

