হাম ও ডেঙ্গু সংকটে সরকারের চরম গাফিলতি ও প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব

প্রতিরোধযোগ্য রোগ হাম ও ডেঙ্গুর চোখরাঙানিতে দেশজুড়ে চরম বিপর্যয় নেমে এলেও স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিদারুণ উদাসীনতা ও প্রশাসনিক অযোগ্যতা পরিস্থিতিকে মহামারির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার৩৫৯ জন। চিকিৎসা ও টিকাদান ব্যবস্থাপনার ত্রুটিতে ইতোমধ্যেই ১ hundred ল্যাব-নিশ্চিত এবং ৮৯৯টি সন্দেহভাজনসহ মোট ৯৯৯ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বিশ্বমানের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) ও তৃণমূলের কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো মজবুত অবকাঠামো দেশে থাকা সত্ত্বেও বর্তমান প্রশাসনের তদারকিহীনতা এবং রাজনৈতিক লিঙ্গভেদের কারণে টিকাদান শৃঙ্খলে ভয়াবহ ধস নেমেছে। রক্ত পরীক্ষা করে ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি ও ‘কোল্ড চেইন’ যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞদের তাগিদ উপেক্ষা করে কেবল কাগুজে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভুয়া পরিসংখ্যান দেখিয়ে দায় সারছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোগের প্রকোপ প্রাকৃতিক হতে পারে, কিন্তু সেই রোগের কারণে দেশজুড়ে মৃত্যুমিছিল তৈরি হওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়—তা প্রশাসনিক অযোগ্যতা, চরম উদাসীনতা এবং নিদারুণ গাফিলতির সরাসরি ফসল। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে হাম ও ডেঙ্গুর যে যুগপৎ সংহারী রূপ সামনে এসেছে, তা স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও অন্তঃসারশূন্যতাকে উলঙ্গ করে দিয়েছে। হাসপাতালের মেঝেতে যখন মুমূর্ষু শিশু কাতরায়, আর শয্যা না পেয়ে চিকিৎসার অভাবে নাগরিক মারা যায়, তখন স্পষ্ট বোঝা যায়—জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্র আজ চরমভাবে ব্যর্থ।

প্রতিরোধযোগ্য রোগে ১ হাজার মৃত্যু-টিকাদান শৃঙ্খলার ধসঃ যে হাম বিংশ শতাব্দীতেই টিকাদানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সেই প্রতিরোধযোগ্য রোগে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ জন আক্রান্ত হওয়া এবং প্রায় এক হাজার (৯৯৯ জন) শিশুর প্রাণহানি কোনো সাধারণ ব্যর্থতা নয়—এটি প্রশাসনিক অবহেলার এক চরম দৃষ্টান্ত।

টিকার মান নিয়ে প্রশ্ন ও কাগুজে সাফল্য: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬% বেশি টিকাদানের কাগুজে সাফল্য দেখালেও বাস্তবে শিশুমৃত্যুর গ্রাফ কমেনি। মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা বারবার রক্ত পরীক্ষা করে অ্যান্টিবডি ও ‘কোল্ড চেইন’ (Cold Chain)-এর মান যাচাইয়ের পরামর্শ দিলেও সরকার তাতে কান দেয়নি।

দায়িত্বহীনতা ও সদিচ্ছার অভাব: টিকার গুণগত মান পরীক্ষা না করে কেবল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভুয়া পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করা সরকারের চরম নীতিগত দেউলিয়াত্বকে স্পষ্ট করে। ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হওয়ার পরও এ ধরনের দায়সারা মনোভাব প্রতিদিন নিষ্পাপ শিশুদের প্রাণ কেড়েই চলেছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাঃ ফটোশুট আর কৃত্রিম ধোঁয়ার মহোৎসব — আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২০,৫৩৬ জন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে পরিস্থিতি আরও সংহারী রূপ ধারণ করেছে; ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই রেকর্ড ৯ জনের মৃত্যু এবং ১,৫৭১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫,৪৭৫ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃত্যু পৌঁছেছে ১৩০-এ।

দায়বদ্ধতার অভাব: প্রতিবেশী বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যখন আধুনিক প্রযুক্তির ভেক্টর-কন্ট্রোল ব্যবহার করে ডেঙ্গু পরাস্ত করছে, তখন বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ কেবল ফটোশুট আর ফগার মেশিনের কৃত্রিম ধোঁয়ায় সীমাবদ্ধ।

কোটি কোটি টাকার মশক নিধন বাজেট কোথায় উবে গেল, লার্ভিসাইডের নামে কী ছিটানো হলো—তার কোনো হিসাব নেই। ফলে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছেন।

ধারণক্ষমতার বাইরে হাসপাতালঃ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেউলিয়াত্ব— হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকার চিত্রই বলে দেয়, যেকোনো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার ন্যূনতম প্রস্তুতিও স্বাস্থ্য প্রশাসনের ছিল না। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে বেড-অকুপেন্সি সর্বোচ্চ ১০০% থাকা উচিত, সেখানে সমন্বিত পরিকল্পনার চরম শূন্যতার কারণে জেলা হাসপাতালগুলোতে গড় বেড-অকুপেন্সি দাঁড়িয়েছে ১৭৮% (অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শয্যার বিপরীতে ১৭৮ জন রোগী ভর্তি)। একইভাবে রেফারেল সিস্টেম সচল না থাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে বেড-অকুপেন্সি পৌঁছাল ১৬৪%-এ। রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে মেঝেকে ঠাঁই দেওয়া ও বারান্দায় ফেলে রাখা এখন সরকারের প্রশাসনিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য খাতে সফলতা- অর্জনের অমলিন ইতিহাসঃ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় দূরদর্শী ও টেকসই ভিত রচনা করেছিল—

কমিউনিটি ক্লিনিক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ মডেল প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা জাতিসংঘে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে অনন্য স্বীকৃতি লাভ করে।

টিকাদান ও রোগ নির্মূল: সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) সফল বাস্তবায়নে পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ গঠন, ধনুষ্টংকার নিয়ন্ত্রণ এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জিত হয়েছিল।

অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন: সারাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, উপজেলা লেভেলে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করা এবং আধুনিক ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি পৌঁছে দিয়ে সার্বিক চিকিৎসা অবকাঠামোর আমূল উন্নয়ন করা হয়েছিল।

নির্মিত অবকাঠামো চালাতে ইউনূস ও বিএনপি সরকারের চরম ব্যর্থতাঃ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যেটুকু আধুনিক পরিকাঠামো ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দৃশ্যমান, তার বড় অংশই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে তোলা। হাজার হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক, নতুন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর যে সুবিশাল ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল—পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসা ইউনূস সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার তা সচল রাখতে ও কাজে লাগাতে পুরোপুরি অপদার্থ প্রমাণ হয়েছে।

অবকাঠামো আছে, তদারকি নেই: আওয়ামী সরকারের তৈরি করে যাওয়া সুসজ্জিত ভবন ও হাসপাতালগুলো আজ স্রেফ তদারকি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কার্যকারিতা হারিয়েছে। ইউনূস সরকার ও বিএনপি সরকারের চরম নীতিগত দেউলিয়াত্ব ও আমলাতান্ত্রিক অলসতার কারণে আধুনিক পরিকাঠামো আজ স্থবির।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: পূর্ববর্তী সরকারের যুগান্তকারী ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলোকে রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে সচল না রেখে অকার্যকর রাখা হয়েছে। সরকারের এই নোংরা রাজনৈতিক খেয়ালখুশির চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ রোগীকে।

সংকট তৈরি করে তার পেছনে ছোটা-এটাই কি সরকারের নীতি? বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল দর্শন দাঁড়িয়েছে—‘রোগ প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা রাখব না, মানুষ মারা গেলে দায়সারা বিবৃতি দেব’।

১. সময়মতো মানসম্মত ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার এবং সেটির সঠিক কার্যকারিতা যাচাইয়ের ন্যূনতম দায়িত্বটুকু পালন করা হয়নি।

২. মশার প্রজনন রুখতে মৌসুম শুরুর আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

৩. তৈরি অবকাঠামো ও বিশ্বমানের চিকিৎসাব্যবস্থা হাতে পাওয়ার পরও তা পরিচালনা করতে না পারা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর তীব্র প্রশাসনিক অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।

জনগণের করের টাকায় চলা সরকারের প্রধান সাংবিধানিক অঙ্গীকার নাগরিকের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা। ব্যর্থতার পর মহামারির দায় ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের’ ওপর চাপিয়ে পার পাওয়ার দিন শেষ। তৈরি অবকাঠামো সচল না রেখে নাগরিকদের এই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার চূড়ান্ত দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।

উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে ‍‌‌”হাম ও ডেঙ্গু সংকটে সরকারের চরম গাফিলতি ও প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব” এই শিরোনামে নেগেটিভ নিউজ ফরমেটে সাবটাইটেল ছাড়া সম্পাদনা করা প্রয়োজন

প্রতিরোধযোগ্য রোগ হাম ও ডেঙ্গুর চোখরাঙানিতে দেশজুড়ে চরম বিপর্যয় নেমে এলেও স্বাস্থ্য প্রশাসনের নিদারুণ উদাসীনতা ও প্রশাসনিক অযোগ্যতা পরিস্থিতিকে মহামারির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার৩৫৯ জন। চিকিৎসা ও টিকাদান ব্যবস্থাপনার ত্রুটিতে ইতোমধ্যেই ১ hundred ল্যাব-নিশ্চিত এবং ৮৯৯টি সন্দেহভাজনসহ মোট ৯৯৯ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বিশ্বমানের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) ও তৃণমূলের কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো মজবুত অবকাঠামো দেশে থাকা সত্ত্বেও বর্তমান প্রশাসনের তদারকিহীনতা এবং রাজনৈতিক লিঙ্গভেদের কারণে টিকাদান শৃঙ্খলে ভয়াবহ ধস নেমেছে। রক্ত পরীক্ষা করে ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি ও ‘কোল্ড চেইন’ যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞদের তাগিদ উপেক্ষা করে কেবল কাগুজে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভুয়া পরিসংখ্যান দেখিয়ে দায় সারছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রোগের প্রকোপ প্রাকৃতিক হতে পারে, কিন্তু সেই রোগের কারণে দেশজুড়ে মৃত্যুমিছিল তৈরি হওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়—তা প্রশাসনিক অযোগ্যতা, চরম উদাসীনতা এবং নিদারুণ গাফিলতির সরাসরি ফসল। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে হাম ও ডেঙ্গুর যে যুগপৎ সংহারী রূপ সামনে এসেছে, তা স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও অন্তঃসারশূন্যতাকে উলঙ্গ করে দিয়েছে। হাসপাতালের মেঝেতে যখন মুমূর্ষু শিশু কাতরায়, আর শয্যা না পেয়ে চিকিৎসার অভাবে নাগরিক মারা যায়, তখন স্পষ্ট বোঝা যায়—জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্র আজ চরমভাবে ব্যর্থ।

প্রতিরোধযোগ্য রোগে ১ হাজার মৃত্যু-টিকাদান শৃঙ্খলার ধসঃ যে হাম বিংশ শতাব্দীতেই টিকাদানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সেই প্রতিরোধযোগ্য রোগে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ জন আক্রান্ত হওয়া এবং প্রায় এক হাজার (৯৯৯ জন) শিশুর প্রাণহানি কোনো সাধারণ ব্যর্থতা নয়—এটি প্রশাসনিক অবহেলার এক চরম দৃষ্টান্ত।

টিকার মান নিয়ে প্রশ্ন ও কাগুজে সাফল্য: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬% বেশি টিকাদানের কাগুজে সাফল্য দেখালেও বাস্তবে শিশুমৃত্যুর গ্রাফ কমেনি। মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা বারবার রক্ত পরীক্ষা করে অ্যান্টিবডি ও ‘কোল্ড চেইন’ (Cold Chain)-এর মান যাচাইয়ের পরামর্শ দিলেও সরকার তাতে কান দেয়নি।

দায়িত্বহীনতা ও সদিচ্ছার অভাব: টিকার গুণগত মান পরীক্ষা না করে কেবল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভুয়া পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করা সরকারের চরম নীতিগত দেউলিয়াত্বকে স্পষ্ট করে। ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হওয়ার পরও এ ধরনের দায়সারা মনোভাব প্রতিদিন নিষ্পাপ শিশুদের প্রাণ কেড়েই চলেছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাঃ ফটোশুট আর কৃত্রিম ধোঁয়ার মহোৎসব — আগস্টেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২০,৫৩৬ জন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে পরিস্থিতি আরও সংহারী রূপ ধারণ করেছে; ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই রেকর্ড ৯ জনের মৃত্যু এবং ১,৫৭১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫,৪৭৫ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃত্যু পৌঁছেছে ১৩০-এ।

দায়বদ্ধতার অভাব: প্রতিবেশী বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ যখন আধুনিক প্রযুক্তির ভেক্টর-কন্ট্রোল ব্যবহার করে ডেঙ্গু পরাস্ত করছে, তখন বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ কেবল ফটোশুট আর ফগার মেশিনের কৃত্রিম ধোঁয়ায় সীমাবদ্ধ।

কোটি কোটি টাকার মশক নিধন বাজেট কোথায় উবে গেল, লার্ভিসাইডের নামে কী ছিটানো হলো—তার কোনো হিসাব নেই। ফলে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছেন।

ধারণক্ষমতার বাইরে হাসপাতালঃ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেউলিয়াত্ব— হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকার চিত্রই বলে দেয়, যেকোনো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার ন্যূনতম প্রস্তুতিও স্বাস্থ্য প্রশাসনের ছিল না। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে বেড-অকুপেন্সি সর্বোচ্চ ১০০% থাকা উচিত, সেখানে সমন্বিত পরিকল্পনার চরম শূন্যতার কারণে জেলা হাসপাতালগুলোতে গড় বেড-অকুপেন্সি দাঁড়িয়েছে ১৭৮% (অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শয্যার বিপরীতে ১৭৮ জন রোগী ভর্তি)। একইভাবে রেফারেল সিস্টেম সচল না থাকায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে বেড-অকুপেন্সি পৌঁছাল ১৬৪%-এ। রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে মেঝেকে ঠাঁই দেওয়া ও বারান্দায় ফেলে রাখা এখন সরকারের প্রশাসনিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য খাতে সফলতা- অর্জনের অমলিন ইতিহাসঃ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় দূরদর্শী ও টেকসই ভিত রচনা করেছিল—

কমিউনিটি ক্লিনিক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ মডেল প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা জাতিসংঘে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে অনন্য স্বীকৃতি লাভ করে।

টিকাদান ও রোগ নির্মূল: সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) সফল বাস্তবায়নে পোলিও মুক্ত বাংলাদেশ গঠন, ধনুষ্টংকার নিয়ন্ত্রণ এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও প্রশংসা অর্জিত হয়েছিল।

অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন: সারাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, উপজেলা লেভেলে শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করা এবং আধুনিক ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি পৌঁছে দিয়ে সার্বিক চিকিৎসা অবকাঠামোর আমূল উন্নয়ন করা হয়েছিল।

নির্মিত অবকাঠামো চালাতে ইউনূস ও বিএনপি সরকারের চরম ব্যর্থতাঃ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যেটুকু আধুনিক পরিকাঠামো ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক দৃশ্যমান, তার বড় অংশই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে তোলা। হাজার হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক, নতুন বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট, উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর যে সুবিশাল ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল—পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসা ইউনূস সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার তা সচল রাখতে ও কাজে লাগাতে পুরোপুরি অপদার্থ প্রমাণ হয়েছে।

অবকাঠামো আছে, তদারকি নেই: আওয়ামী সরকারের তৈরি করে যাওয়া সুসজ্জিত ভবন ও হাসপাতালগুলো আজ স্রেফ তদারকি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কার্যকারিতা হারিয়েছে। ইউনূস সরকার ও বিএনপি সরকারের চরম নীতিগত দেউলিয়াত্ব ও আমলাতান্ত্রিক অলসতার কারণে আধুনিক পরিকাঠামো আজ স্থবির।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: পূর্ববর্তী সরকারের যুগান্তকারী ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাগুলোকে রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে সচল না রেখে অকার্যকর রাখা হয়েছে। সরকারের এই নোংরা রাজনৈতিক খেয়ালখুশির চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ রোগীকে।

সংকট তৈরি করে তার পেছনে ছোটা-এটাই কি সরকারের নীতি? বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল দর্শন দাঁড়িয়েছে—‘রোগ প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা রাখব না, মানুষ মারা গেলে দায়সারা বিবৃতি দেব’।

১. সময়মতো মানসম্মত ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার এবং সেটির সঠিক কার্যকারিতা যাচাইয়ের ন্যূনতম দায়িত্বটুকু পালন করা হয়নি।

২. মশার প্রজনন রুখতে মৌসুম শুরুর আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

৩. তৈরি অবকাঠামো ও বিশ্বমানের চিকিৎসাব্যবস্থা হাতে পাওয়ার পরও তা পরিচালনা করতে না পারা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর তীব্র প্রশাসনিক অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।

জনগণের করের টাকায় চলা সরকারের প্রধান সাংবিধানিক অঙ্গীকার নাগরিকের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা। ব্যর্থতার পর মহামারির দায় ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের’ ওপর চাপিয়ে পার পাওয়ার দিন শেষ। তৈরি অবকাঠামো সচল না রেখে নাগরিকদের এই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার চূড়ান্ত দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।

উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে ‍‌‌”হাম ও ডেঙ্গু সংকটে সরকারের চরম গাফিলতি ও প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব” এই শিরোনামে নেগেটিভ নিউজ ফরমেটে সাবটাইটেল ছাড়া সম্পাদনা করা প্রয়োজন

আরো পড়ুন

সর্বশেষ