বাংলাদেশ ২০২৬: নিখোঁজ শিশুরা যেখানে আর ঘরে ফেরে না

ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের হোশেন আলী এখন পথে পথে ঘোরেন। তার বারো বছরের ছেলে আলী দেড় মাস ধরে নিখোঁজ। থানায় গিয়ে জিডি করতে তিন দিন ঘুরেছেন। এরপর পুলিশ তাকে যে কথাটা শুনিয়েছে, সেটাই এখন তার বুকের ভেতর ক্ষত হয়ে আছে, “তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?”

এই একটি বাক্যই বলে দেয় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নামের প্রতিষ্ঠানটা আসলে কার জন্য কাজ করে। যে বাবা সন্তান হারিয়ে পাগলের মতো ছুটছেন, তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হচ্ছে। অথচ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নিজস্ব হিসাব বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা গেছে। বাকি ২ হাজার ৩৮ জন এখনো নিখোঁজ। এই দুই হাজারের বেশি শিশু কোথায়, কী অবস্থায় আছে, কেউ জানে না। রাষ্ট্র জানে না, পুলিশ জানে না, আর যারা এখন দেশ চালাচ্ছে তারাও জানতে চায় না।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যখন প্রায় চল্লিশটি নিখোঁজ শিশুর পরিবার একত্র হলো, তখন বাতাসে শুধু আর্তনাদ। সাভারের চার বছরের যাদব কর্মকার নিখোঁজ ৩০ জুলাই থেকে। তার মা বাসনা কর্মকার পুলিশকে সন্দেহভাজনদের তথ্য দিয়েও কোনো তদন্তের অগ্রগতি দেখেননি। কামরাঙ্গীরচরের তিন বছরের সামিয়া নিখোঁজ ১১৫ দিন। পরে তাকে ‘মিঠাই’ নামে টিকটকে দেখা গেছে। পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। মামলা ডিবি থেকে পিবিআইতে গড়িয়েছে, সন্তান ফেরেনি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে হাজার হাজার শিশু নিখোঁজ হচ্ছে, উদ্ধারের নামে চোখে ধুলো দেওয়া হচ্ছে, এর পেছনে কি কোনো রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নেই? অবশ্যই আছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসে আছে সেই বিএনপি, যাদের অতীত ইতিহাস নিখোঁজ, গুম, খুন আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে ভরা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ কার্যত একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গে ঢুকে গিয়েছিল। সেবারও শিশু নিখোঁজ, অপহরণ, পাচার বেড়েছিল রেকর্ড পরিমাণে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল, কিন্তু বিচার হয়নি। সেই একই চক্র আবার ক্ষমতায় ফিরেছে ২০২৬ সালে। আর তাদের নীরবতাই বলে দিচ্ছে, তারা অতীত থেকে কিছুই শেখেনি।

জামাতে ইসলাম তো আছেই। যাদের হাত রক্তে রঞ্জিত, যাদের আদর্শ মানবতাবিরোধী, তারা এখন সংসদে ক্ষমতার ভাগ বসিয়ে বসে আছে। তাদের আমলে শিশু পাচার, নারী নির্যাতন, মাদক, সন্ত্রাস সবই বেড়েছে। কিন্তু এই ইস্যুতে তাদের মুখে একটা কথাও নেই। একজন মাওলানা সমাজের নৈতিকতার কথা বলেন, অথচ তার দল ক্ষমতায় থেকেও হাজারো শিশু নিখোঁজের ঘটনায় চোখ বন্ধ করে রাখে। এটাই তাদের দ্বিচারিতা।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “পুলিশের আরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তবে বিষয়টির প্রতি পুলিশের সেনসিটিভিটি রয়েছে।” এই বক্তব্যটা আসলে পুরো ঘটনার সারসংক্ষেপ। একদিকে হাজার হাজার শিশু নিখোঁজ, অন্যদিকে পুলিশের “অনেক দায়িত্ব” আছে। অর্থাৎ শিশু খোঁজা তাদের কাছে অগ্রাধিকার নয়। বরং থানায় গিয়ে কাঁদতে আসা বাবাকে অপমান করাই তাদের কাজ। হোশেন আলীর মতো মানুষের চোখের পানি শুকিয়ে যায়, কিন্তু পুলিশের চোখে ঘুম আসে না।

আর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তাদের কাছে শিশু নিখোঁজ হওয়া কোনো ইস্যুই নয়। একটি মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় স্মারকলিপি জমা পড়ে থাকে, ফাইলবন্দি হয়, তারপর ধুলো জমে। কোনো মন্ত্রী এসে বলেন না, “আমরা দুঃখিত, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।” কোনো প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে বলেন না, “আপনাদের সন্তানই আমার সন্তান।” এটাই হলো বিএনপি-জামাত শাসনের বাস্তবতা। তাদের কাছে ক্ষমতা মানে শুধু চেয়ার দখল, জনগণের সন্তানদের জীবন তাদের কাছে কোনো মূল্য রাখে না।

পরিবারগুলোর একটাই দাবি, নিখোঁজ শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত হোক। শিশু নিখোঁজ ও পাচার রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা হোক। কিন্তু এই দাবিগুলো কি পূরণ হবে? ২০০১-২০০৬ সালের মতোই কি আবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? হোশেন আলীর ছেলে ফিরবে তো? যাদব ফিরবে তো? সামিয়া ফিরবে তো?

উত্তর কারও কাছে নেই। কারণ যাদের কাছে উত্তর থাকার কথা, তারা হয় পুলিশের চেয়ারে বসে “অনেক দায়িত্ব” সামলাচ্ছেন, নয়তো মন্ত্রণালয়ের ফাইলে সই করছেন, নয়তো সংসদে চিৎকার করছেন। আর নিখোঁজ শিশুদের মায়েরা রাত জেগে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন। প্রতিটা শব্দে মনে হয়, বুঝি ফিরে এলো সন্তান। কিন্তু আসে না। আসবেও না, যদি না রাষ্ট্র মেশিনটা জেগে ওঠে। আর এই রাষ্ট্র মেশিন এখন ঘুমিয়ে আছে বিএনপি-জামাতের কোলাহলে।

ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের হোশেন আলী এখন পথে পথে ঘোরেন। তার বারো বছরের ছেলে আলী দেড় মাস ধরে নিখোঁজ। থানায় গিয়ে জিডি করতে তিন দিন ঘুরেছেন। এরপর পুলিশ তাকে যে কথাটা শুনিয়েছে, সেটাই এখন তার বুকের ভেতর ক্ষত হয়ে আছে, “তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?”

এই একটি বাক্যই বলে দেয় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নামের প্রতিষ্ঠানটা আসলে কার জন্য কাজ করে। যে বাবা সন্তান হারিয়ে পাগলের মতো ছুটছেন, তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হচ্ছে। অথচ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নিজস্ব হিসাব বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা গেছে। বাকি ২ হাজার ৩৮ জন এখনো নিখোঁজ। এই দুই হাজারের বেশি শিশু কোথায়, কী অবস্থায় আছে, কেউ জানে না। রাষ্ট্র জানে না, পুলিশ জানে না, আর যারা এখন দেশ চালাচ্ছে তারাও জানতে চায় না।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যখন প্রায় চল্লিশটি নিখোঁজ শিশুর পরিবার একত্র হলো, তখন বাতাসে শুধু আর্তনাদ। সাভারের চার বছরের যাদব কর্মকার নিখোঁজ ৩০ জুলাই থেকে। তার মা বাসনা কর্মকার পুলিশকে সন্দেহভাজনদের তথ্য দিয়েও কোনো তদন্তের অগ্রগতি দেখেননি। কামরাঙ্গীরচরের তিন বছরের সামিয়া নিখোঁজ ১১৫ দিন। পরে তাকে ‘মিঠাই’ নামে টিকটকে দেখা গেছে। পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। মামলা ডিবি থেকে পিবিআইতে গড়িয়েছে, সন্তান ফেরেনি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে হাজার হাজার শিশু নিখোঁজ হচ্ছে, উদ্ধারের নামে চোখে ধুলো দেওয়া হচ্ছে, এর পেছনে কি কোনো রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নেই? অবশ্যই আছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসে আছে সেই বিএনপি, যাদের অতীত ইতিহাস নিখোঁজ, গুম, খুন আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে ভরা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ কার্যত একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গে ঢুকে গিয়েছিল। সেবারও শিশু নিখোঁজ, অপহরণ, পাচার বেড়েছিল রেকর্ড পরিমাণে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল, কিন্তু বিচার হয়নি। সেই একই চক্র আবার ক্ষমতায় ফিরেছে ২০২৬ সালে। আর তাদের নীরবতাই বলে দিচ্ছে, তারা অতীত থেকে কিছুই শেখেনি।

জামাতে ইসলাম তো আছেই। যাদের হাত রক্তে রঞ্জিত, যাদের আদর্শ মানবতাবিরোধী, তারা এখন সংসদে ক্ষমতার ভাগ বসিয়ে বসে আছে। তাদের আমলে শিশু পাচার, নারী নির্যাতন, মাদক, সন্ত্রাস সবই বেড়েছে। কিন্তু এই ইস্যুতে তাদের মুখে একটা কথাও নেই। একজন মাওলানা সমাজের নৈতিকতার কথা বলেন, অথচ তার দল ক্ষমতায় থেকেও হাজারো শিশু নিখোঁজের ঘটনায় চোখ বন্ধ করে রাখে। এটাই তাদের দ্বিচারিতা।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “পুলিশের আরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তবে বিষয়টির প্রতি পুলিশের সেনসিটিভিটি রয়েছে।” এই বক্তব্যটা আসলে পুরো ঘটনার সারসংক্ষেপ। একদিকে হাজার হাজার শিশু নিখোঁজ, অন্যদিকে পুলিশের “অনেক দায়িত্ব” আছে। অর্থাৎ শিশু খোঁজা তাদের কাছে অগ্রাধিকার নয়। বরং থানায় গিয়ে কাঁদতে আসা বাবাকে অপমান করাই তাদের কাজ। হোশেন আলীর মতো মানুষের চোখের পানি শুকিয়ে যায়, কিন্তু পুলিশের চোখে ঘুম আসে না।

আর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, তাদের কাছে শিশু নিখোঁজ হওয়া কোনো ইস্যুই নয়। একটি মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় স্মারকলিপি জমা পড়ে থাকে, ফাইলবন্দি হয়, তারপর ধুলো জমে। কোনো মন্ত্রী এসে বলেন না, “আমরা দুঃখিত, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।” কোনো প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে বলেন না, “আপনাদের সন্তানই আমার সন্তান।” এটাই হলো বিএনপি-জামাত শাসনের বাস্তবতা। তাদের কাছে ক্ষমতা মানে শুধু চেয়ার দখল, জনগণের সন্তানদের জীবন তাদের কাছে কোনো মূল্য রাখে না।

পরিবারগুলোর একটাই দাবি, নিখোঁজ শিশুদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত হোক। শিশু নিখোঁজ ও পাচার রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা হোক। কিন্তু এই দাবিগুলো কি পূরণ হবে? ২০০১-২০০৬ সালের মতোই কি আবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? হোশেন আলীর ছেলে ফিরবে তো? যাদব ফিরবে তো? সামিয়া ফিরবে তো?

উত্তর কারও কাছে নেই। কারণ যাদের কাছে উত্তর থাকার কথা, তারা হয় পুলিশের চেয়ারে বসে “অনেক দায়িত্ব” সামলাচ্ছেন, নয়তো মন্ত্রণালয়ের ফাইলে সই করছেন, নয়তো সংসদে চিৎকার করছেন। আর নিখোঁজ শিশুদের মায়েরা রাত জেগে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন। প্রতিটা শব্দে মনে হয়, বুঝি ফিরে এলো সন্তান। কিন্তু আসে না। আসবেও না, যদি না রাষ্ট্র মেশিনটা জেগে ওঠে। আর এই রাষ্ট্র মেশিন এখন ঘুমিয়ে আছে বিএনপি-জামাতের কোলাহলে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ