রসময় গুপ্তের পর দ্বিতীয় জনপ্রিয় গুপ্ত উজ্জ্বল হোসেনকে চেনেন নাকি?

উজ্জ্বল হোসেনের বিরুদ্ধে জমে থাকা অভিযোগের পাহাড়টা আর চাপা দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ হিসেবে আজ তিনি যেখানে বসে আছেন, সেখানে পৌঁছানোর পথটা আদৌ কতটা স্বচ্ছ ছিল, সেই প্রশ্নটা এখন আর কেবল গুঞ্জনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। একের পর এক প্রকাশ্যে আসা অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষোভ আর ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর মিলিয়ে যে চিত্রটা দাঁড়াচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব আর প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের একেবারে পাঠ্যবইয়ের মতো একটা কেস স্টাডি হয়ে উঠছেন উজ্জ্বল হোসেন।

আর এই পুরো উত্থানপর্বের আড়ালে যে মানুষটা সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তিনি নিজেই কি না গুপ্ত থেকে গুপ্তের ভূমিকায় অভ্যস্ত, সেই প্রশ্নটাও এখন আর ফেলে রাখার সুযোগ নেই। দলের ভেতরে থেকেই দলকে ফাঁক করে দেওয়ার যে পুরনো অভিযোগ, উজ্জ্বল হোসেনের চরিত্রে সেটার ছাপ খুঁজতে গেলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মতো কিছু ঘটনা সামনে চলে আসে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে আর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ইউএনও হিসেবে তাঁর দায়িত্বকালের দিকে তাকালে একটা ধারাবাহিক প্যাটার্ন চোখে পড়ে। যে মানুষগুলো রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে, বিশেষ করে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল বা জামায়াত-শিবির ঘরানার, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতাকে অস্ত্র বানানোর অভিযোগ উঠেছে বারবার। শুধু হয়রানি নয়, অপমান, লাঞ্ছনা আর জীবনের স্বাভাবিক গতিপথটাকে থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। একজন ভুক্তভোগী তো সরাসরিই বলেছেন, বিএনপির তকমা লাগিয়ে তাঁর জীবনটাকে তছনছ করে দেওয়ার পেছনে এই উজ্জ্বল হোসেনের সরাসরি ভূমিকা ছিল। এই অভিযোগটা কোনো আড়ালে বসে করা নয়, প্রকাশ্যে সামাজিক মাধ্যমে করা হয়েছে নিজের নামে। এখন প্রশ্ন হলো, এমন অভিযোগের পরও কেন কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলো না? কেন সেই ভুক্তভোগীর বক্তব্য রেকর্ড করা হলো না? কেন আড়াইহাজার আর উল্লাপাড়ার সেই দিনগুলোর সরকারি নথিপত্র খুলে দেখা হলো না?

আরও বড় প্রশ্ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদের সঙ্গে উজ্জ্বল হোসেনের সম্পর্ক নিয়ে। সেই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে পিএসসিতে চাকরি পাওয়ার অভিযোগটা সরাসরি নিয়োগব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দেয়। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠান যদি রাজনৈতিক সুপারিশের বাজার হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মেধাবী প্রার্থীদের ভাগ্যে কী থাকে, সেটা ভাবলেই গা জ্বলে যায়। এই অভিযোগ যাচাই করা মোটেও কঠিন কিছু নয়। পিএসসির নিয়োগ রেকর্ড, সুপারিশপত্র, যোগাযোগের নথি, এসব পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে আসলে কী হয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষাটা কি হচ্ছে? নাকি ইচ্ছা করেই চোখ বন্ধ রাখা হচ্ছে? আর ঠিক এই জায়গাটাতেই গুপ্ত থাকার চরিত্রটা সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে ধরা পড়ে। বাইরে থেকে যাকে বিশ্বস্ত মনে হয়, ভেতরে তিনি আসলে কার স্বার্থ বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেটা কেউ জানে না। দলের অন্দরমহলে থেকেই নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করে নেওয়ার যে খেলা, উজ্জ্বল হোসেনের উত্থানটা কি সেই খেলারই একটা অধ্যায় হয়ে উঠছে না?

আড়াইহাজারে তৎকালীন এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ, উল্লাপাড়ায় তানভীর ইমামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, এই সম্পর্কগুলোও তদন্তের আওতায় আসা দরকার। অবশ্যই কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে থাকা বা ফুল দেওয়া অপরাধ নয়। সরকারি অনুষ্ঠানে স্থানীয় এমপি বা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলাটাও দোষের কিছু না। কিন্তু প্রশ্নটা হলো সেই সম্পর্কের গভীরতা কি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল? পদায়ন, বদলি, বিরোধী রাজনৈতিক মতের মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, এসব ক্ষেত্রে কি সেই যোগাযোগের কোনো ছাপ ছিল? সেই যোগসূত্রটাই খুঁজে বের করাটা জরুরি। প্রকাশ্য ছবি আর পোস্টারের তথ্য জোগাড় করা কঠিন কিছু না, সেগুলো সংরক্ষণ করে যাচাই করা গেলে অনেক অজানা অধ্যায় খুলে যেতে পারে। আর সেই অধ্যায়গুলো খুলতে পারলেই বোঝা যাবে, কে আসলে বাইরে এক রকম আর ভেতরে আরেক রকম। দলের ভেতরে থেকেই বিরোধীদের চেয়েও বেশি ক্ষতি করার যে রাজনীতি, সেই চরিত্রের মানুষগুলোকে চেনা কঠিন নয়, শুধু ইচ্ছা লাগে। আর সেই ইচ্ছাটাই তো সবচেয়ে বড় সংকটে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা যেন কাউকে গ্রাস না করে, এটা যেমন সত্য, তেমনি রাজনৈতিক প্রভাব যেন কাউকে দায়মুক্তির ছাতা না দেয়, সেটাও সমান সত্য। এখানে ভারসাম্যের প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো জবাবদিহিতার। একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতগুলো গুরুতর অভিযোগ যখন প্রকাশ্যে চলে আসে, তখন নীরবতা মানে অভিযোগকে আরও ডালপালা মেলার সুযোগ করে দেওয়া। এখন দরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, নিরপেক্ষ তদন্ত। আর সেই তদন্তে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নিতে হবে খোলামনে, সরকারি নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে নির্ভয়ে। অভিযোগ প্রমাণ হলে বর্তমান পদমর্যাদা যত বড়ই হোক, আইনের চোখে সেটা কোনো ঢাল হতে পারে না। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবুও সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার প্রকাশ্যে। কারণ সন্দেহের বাতাবরণে রাষ্ট্রের কোনো পদ থাকুক, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে গুপ্ত থেকে গুপ্তের মতো করে দলকে ঠকানোর অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, তিনি তো আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবিদার, আরও বেশি জবাবদিহিতার মুখোমুখি হওয়ার যোগ্য।

২০০১-০৬ সালের অপশাসনের যে স্মৃতি বাংলাদেশের মানুষের মনে গেঁথে আছে, সেটা ফিরে আসুক, এটা কেউ চায় না। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক সুপারিশে চাকরি, বিরোধী মতের মানুষের জীবন ধ্বংস করার অভিযোগ, এসব দেখলে মনে হয় সেই অন্ধকার অধ্যায়ের ভূত আবার ফিরে আসছে নতুন মুখোশে। আর এই ফিরে আসার পথটাকে মসৃণ করে দিচ্ছেন এমন কিছু মানুষ, যারা দলের ভেতরে থেকেই দলের ভিত ফাঁকা করে দিচ্ছেন। গুপ্ত শক্তির সেই দৌরাত্ম্য আজ আর অদৃশ্য নেই, বরং দিনকে দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

উজ্জ্বল হোসেনের মতো কর্মকর্তারা হয়তো সেই গুপ্ত শক্তিরই সামনের সারির মুখ, যাঁদের দিয়ে নোংরা কাজ করিয়ে নেওয়া হয়, আবার দরকার শেষে নিজেরাও গুপ্ত থেকে যান অজ্ঞাত কোনো আড়ালে। এখন সময় চুপ থাকার নয়, সময় মুখ খোলার, হিসাব চাওয়ার। কারণ যে রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা মরে যায়, সেখানে শেষ পর্যন্ত মরে যায় মানুষের ভরসাটাই। আর সেই ভরসা ফেরানো সম্ভব একটাই পথে, স্বচ্ছ তদন্ত আর নির্মম সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহসে।

উজ্জ্বল হোসেনের বিরুদ্ধে জমে থাকা অভিযোগের পাহাড়টা আর চাপা দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ হিসেবে আজ তিনি যেখানে বসে আছেন, সেখানে পৌঁছানোর পথটা আদৌ কতটা স্বচ্ছ ছিল, সেই প্রশ্নটা এখন আর কেবল গুঞ্জনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। একের পর এক প্রকাশ্যে আসা অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্ষোভ আর ভুক্তভোগীদের কণ্ঠস্বর মিলিয়ে যে চিত্রটা দাঁড়াচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব আর প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের একেবারে পাঠ্যবইয়ের মতো একটা কেস স্টাডি হয়ে উঠছেন উজ্জ্বল হোসেন।

আর এই পুরো উত্থানপর্বের আড়ালে যে মানুষটা সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তিনি নিজেই কি না গুপ্ত থেকে গুপ্তের ভূমিকায় অভ্যস্ত, সেই প্রশ্নটাও এখন আর ফেলে রাখার সুযোগ নেই। দলের ভেতরে থেকেই দলকে ফাঁক করে দেওয়ার যে পুরনো অভিযোগ, উজ্জ্বল হোসেনের চরিত্রে সেটার ছাপ খুঁজতে গেলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মতো কিছু ঘটনা সামনে চলে আসে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে আর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ইউএনও হিসেবে তাঁর দায়িত্বকালের দিকে তাকালে একটা ধারাবাহিক প্যাটার্ন চোখে পড়ে। যে মানুষগুলো রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে, বিশেষ করে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল বা জামায়াত-শিবির ঘরানার, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতাকে অস্ত্র বানানোর অভিযোগ উঠেছে বারবার। শুধু হয়রানি নয়, অপমান, লাঞ্ছনা আর জীবনের স্বাভাবিক গতিপথটাকে থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। একজন ভুক্তভোগী তো সরাসরিই বলেছেন, বিএনপির তকমা লাগিয়ে তাঁর জীবনটাকে তছনছ করে দেওয়ার পেছনে এই উজ্জ্বল হোসেনের সরাসরি ভূমিকা ছিল। এই অভিযোগটা কোনো আড়ালে বসে করা নয়, প্রকাশ্যে সামাজিক মাধ্যমে করা হয়েছে নিজের নামে। এখন প্রশ্ন হলো, এমন অভিযোগের পরও কেন কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলো না? কেন সেই ভুক্তভোগীর বক্তব্য রেকর্ড করা হলো না? কেন আড়াইহাজার আর উল্লাপাড়ার সেই দিনগুলোর সরকারি নথিপত্র খুলে দেখা হলো না?

আরও বড় প্রশ্ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদের সঙ্গে উজ্জ্বল হোসেনের সম্পর্ক নিয়ে। সেই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে পিএসসিতে চাকরি পাওয়ার অভিযোগটা সরাসরি নিয়োগব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দেয়। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠান যদি রাজনৈতিক সুপারিশের বাজার হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মেধাবী প্রার্থীদের ভাগ্যে কী থাকে, সেটা ভাবলেই গা জ্বলে যায়। এই অভিযোগ যাচাই করা মোটেও কঠিন কিছু নয়। পিএসসির নিয়োগ রেকর্ড, সুপারিশপত্র, যোগাযোগের নথি, এসব পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে আসলে কী হয়েছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষাটা কি হচ্ছে? নাকি ইচ্ছা করেই চোখ বন্ধ রাখা হচ্ছে? আর ঠিক এই জায়গাটাতেই গুপ্ত থাকার চরিত্রটা সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে ধরা পড়ে। বাইরে থেকে যাকে বিশ্বস্ত মনে হয়, ভেতরে তিনি আসলে কার স্বার্থ বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেটা কেউ জানে না। দলের অন্দরমহলে থেকেই নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করে নেওয়ার যে খেলা, উজ্জ্বল হোসেনের উত্থানটা কি সেই খেলারই একটা অধ্যায় হয়ে উঠছে না?

আড়াইহাজারে তৎকালীন এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ, উল্লাপাড়ায় তানভীর ইমামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, এই সম্পর্কগুলোও তদন্তের আওতায় আসা দরকার। অবশ্যই কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে থাকা বা ফুল দেওয়া অপরাধ নয়। সরকারি অনুষ্ঠানে স্থানীয় এমপি বা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি তোলাটাও দোষের কিছু না। কিন্তু প্রশ্নটা হলো সেই সম্পর্কের গভীরতা কি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল? পদায়ন, বদলি, বিরোধী রাজনৈতিক মতের মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, এসব ক্ষেত্রে কি সেই যোগাযোগের কোনো ছাপ ছিল? সেই যোগসূত্রটাই খুঁজে বের করাটা জরুরি। প্রকাশ্য ছবি আর পোস্টারের তথ্য জোগাড় করা কঠিন কিছু না, সেগুলো সংরক্ষণ করে যাচাই করা গেলে অনেক অজানা অধ্যায় খুলে যেতে পারে। আর সেই অধ্যায়গুলো খুলতে পারলেই বোঝা যাবে, কে আসলে বাইরে এক রকম আর ভেতরে আরেক রকম। দলের ভেতরে থেকেই বিরোধীদের চেয়েও বেশি ক্ষতি করার যে রাজনীতি, সেই চরিত্রের মানুষগুলোকে চেনা কঠিন নয়, শুধু ইচ্ছা লাগে। আর সেই ইচ্ছাটাই তো সবচেয়ে বড় সংকটে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা যেন কাউকে গ্রাস না করে, এটা যেমন সত্য, তেমনি রাজনৈতিক প্রভাব যেন কাউকে দায়মুক্তির ছাতা না দেয়, সেটাও সমান সত্য। এখানে ভারসাম্যের প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো জবাবদিহিতার। একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতগুলো গুরুতর অভিযোগ যখন প্রকাশ্যে চলে আসে, তখন নীরবতা মানে অভিযোগকে আরও ডালপালা মেলার সুযোগ করে দেওয়া। এখন দরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, নিরপেক্ষ তদন্ত। আর সেই তদন্তে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নিতে হবে খোলামনে, সরকারি নথিপত্র পরীক্ষা করতে হবে নির্ভয়ে। অভিযোগ প্রমাণ হলে বর্তমান পদমর্যাদা যত বড়ই হোক, আইনের চোখে সেটা কোনো ঢাল হতে পারে না। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবুও সেটা পরিষ্কার হওয়া দরকার প্রকাশ্যে। কারণ সন্দেহের বাতাবরণে রাষ্ট্রের কোনো পদ থাকুক, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশেষ করে গুপ্ত থেকে গুপ্তের মতো করে দলকে ঠকানোর অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, তিনি তো আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবিদার, আরও বেশি জবাবদিহিতার মুখোমুখি হওয়ার যোগ্য।

২০০১-০৬ সালের অপশাসনের যে স্মৃতি বাংলাদেশের মানুষের মনে গেঁথে আছে, সেটা ফিরে আসুক, এটা কেউ চায় না। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক সুপারিশে চাকরি, বিরোধী মতের মানুষের জীবন ধ্বংস করার অভিযোগ, এসব দেখলে মনে হয় সেই অন্ধকার অধ্যায়ের ভূত আবার ফিরে আসছে নতুন মুখোশে। আর এই ফিরে আসার পথটাকে মসৃণ করে দিচ্ছেন এমন কিছু মানুষ, যারা দলের ভেতরে থেকেই দলের ভিত ফাঁকা করে দিচ্ছেন। গুপ্ত শক্তির সেই দৌরাত্ম্য আজ আর অদৃশ্য নেই, বরং দিনকে দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

উজ্জ্বল হোসেনের মতো কর্মকর্তারা হয়তো সেই গুপ্ত শক্তিরই সামনের সারির মুখ, যাঁদের দিয়ে নোংরা কাজ করিয়ে নেওয়া হয়, আবার দরকার শেষে নিজেরাও গুপ্ত থেকে যান অজ্ঞাত কোনো আড়ালে। এখন সময় চুপ থাকার নয়, সময় মুখ খোলার, হিসাব চাওয়ার। কারণ যে রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা মরে যায়, সেখানে শেষ পর্যন্ত মরে যায় মানুষের ভরসাটাই। আর সেই ভরসা ফেরানো সম্ভব একটাই পথে, স্বচ্ছ তদন্ত আর নির্মম সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহসে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ