গ্যাস-বিদ্যুতে নাকানিচুবানি খেয়ে বিএনপি এখন শুধুই দায় ঘোরানোর রাজনীতিতে ব্যস্ত

রাজধানী ঢাকা এখন সন্ধ্যা নামলেই ঢেকে যায় নিকষ কালো অন্ধকারে। গ্রামেগঞ্জে এই তীব্র গরমের মধ্যে ২০-২২ ঘন্টাই ফ্যান ঘোরে না। শিল্পকারখানায় উৎপাদন থেমে থাকায় শ্রমিকরা বসে আছেন বেকার। অথচ এই ছয় মাসে সরকারের পক্ষ থেকে একটাই কাজ ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে, সেটা হলো দোষারোপের পালা। কখনো এলএনজি টার্মিনাল, কখনো ইরান যুদ্ধ, কখনো আওয়ামী লীগের কাঁধে দোষ চাপানো – এসবের নাম করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনরা।

বাস্তবতা হলো, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারছে না। ডলার পেলে নিজের জন্মদাত্রী মা’কেও বিক্রি করে দিতে পারে এমন ভাড়াখাটা তথাকথিত ডলারখোর জ্বালানি বিশ্লেষক আনু মুহাম্মদ পর্যন্ত বলছেন, সরকারের মধ্যে সংকট শনাক্ত করে সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং দেশি-বিদেশি কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে আগ্রহ বেশি।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি ডি রহমতউল্লাহ নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সরকারের কাছে কোনো ক্রাশ প্রোগ্রামই নেই। যারা বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বে আছেন তারা নিজেরাই জানেন না কীভাবে এই দুর্যোগ থেকে বের হওয়া যাবে। অথচ এই বিদ্যুৎ মন্ত্রীই একসময় মাঠে ধাওয়া খেয়ে বেড়িয়েছেন জনগনের। এখন আবার বলছেন গ্রামে নাকি লোডশেডিং হয় না! মন্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ খাতসংশ্লিষ্টরাও হতবাক!

সংখ্যাটার হিসেবেও ব্যাপারটা ভালোই ভয়ংকর। একদিনে লোডশেডিং সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশের উৎপাদন সক্ষমতা তেত্রিশ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কয়লা কেন্দ্রগুলো চালানো হচ্ছে না পুরো ক্ষমতায়। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পড়ে আছে। নিজস্ব গ্যাস আর এলএনজির ব্যবহারেও ভারসাম্য নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সক্ষমতা দিয়েই আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাহলে হঠাৎ কী হলো? উত্তরটা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। যারা দীর্ঘদিন ধরে খাতটা চালাচ্ছিলেন তাদের সরিয়ে এখন এমন লোক বসানো হয়েছে যাদের কোনো পরিকল্পনাই নেই। ফলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার মানসিকতাই ভেঙে পড়েছে।

শুধু কি তাই? বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সৌর বিদ্যুৎসহ বেশ কিছু প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় জ্বালানি খাতে স্থবিরতা আরো গভীর হয়েছে। এখন সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান, চীনের সঙ্গে নতুন এলএনজি টার্মিনাল চুক্তি আর ভোলার গ্যাস আনার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এসব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আর এখন? এখন মানুষ গরমে পুড়ছে, শিল্প বন্ধ, ব্যবসা অচল। এই মুহূর্তে দরকার ছিল জরুরি ভিত্তিতে কয়লা ও তেলচালিত কেন্দ্র চালু করা, নবায়নযোগ্য খাতকে কাজে লাগানো। সেই উদ্যোগটাই চোখে পড়ছে না।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন তাদের ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার কথা। কিন্তু স্বীকার করে কী হবে? ক্ষমতায় বসে দায় স্বীকার করলেই জনগণের ভোগান্তি কমবে না। ছয় মাসে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট। যারা ভেবেছিলেন বদল এলে স্বস্তি আসবে, তারা এখন বুঝতে পারছেন, বদল মানেই তো উন্নতি নয়। বরং অতীতের চেয়েও খারাপ ব্যবস্থাপনায় ডুবে যাচ্ছে দেশের জ্বালানি খাত। প্রশ্নটা এখন শুধু একটাই, মানুষের ধৈর্যের বাঁধ আর কতদিন টিকবে?

রাজধানী ঢাকা এখন সন্ধ্যা নামলেই ঢেকে যায় নিকষ কালো অন্ধকারে। গ্রামেগঞ্জে এই তীব্র গরমের মধ্যে ২০-২২ ঘন্টাই ফ্যান ঘোরে না। শিল্পকারখানায় উৎপাদন থেমে থাকায় শ্রমিকরা বসে আছেন বেকার। অথচ এই ছয় মাসে সরকারের পক্ষ থেকে একটাই কাজ ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে, সেটা হলো দোষারোপের পালা। কখনো এলএনজি টার্মিনাল, কখনো ইরান যুদ্ধ, কখনো আওয়ামী লীগের কাঁধে দোষ চাপানো – এসবের নাম করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনরা।

বাস্তবতা হলো, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারছে না। ডলার পেলে নিজের জন্মদাত্রী মা’কেও বিক্রি করে দিতে পারে এমন ভাড়াখাটা তথাকথিত ডলারখোর জ্বালানি বিশ্লেষক আনু মুহাম্মদ পর্যন্ত বলছেন, সরকারের মধ্যে সংকট শনাক্ত করে সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং দেশি-বিদেশি কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে আগ্রহ বেশি।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি ডি রহমতউল্লাহ নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সরকারের কাছে কোনো ক্রাশ প্রোগ্রামই নেই। যারা বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বে আছেন তারা নিজেরাই জানেন না কীভাবে এই দুর্যোগ থেকে বের হওয়া যাবে। অথচ এই বিদ্যুৎ মন্ত্রীই একসময় মাঠে ধাওয়া খেয়ে বেড়িয়েছেন জনগনের। এখন আবার বলছেন গ্রামে নাকি লোডশেডিং হয় না! মন্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ খাতসংশ্লিষ্টরাও হতবাক!

সংখ্যাটার হিসেবেও ব্যাপারটা ভালোই ভয়ংকর। একদিনে লোডশেডিং সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ দেশের উৎপাদন সক্ষমতা তেত্রিশ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কয়লা কেন্দ্রগুলো চালানো হচ্ছে না পুরো ক্ষমতায়। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পড়ে আছে। নিজস্ব গ্যাস আর এলএনজির ব্যবহারেও ভারসাম্য নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সক্ষমতা দিয়েই আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাহলে হঠাৎ কী হলো? উত্তরটা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। যারা দীর্ঘদিন ধরে খাতটা চালাচ্ছিলেন তাদের সরিয়ে এখন এমন লোক বসানো হয়েছে যাদের কোনো পরিকল্পনাই নেই। ফলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার মানসিকতাই ভেঙে পড়েছে।

শুধু কি তাই? বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সৌর বিদ্যুৎসহ বেশ কিছু প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় জ্বালানি খাতে স্থবিরতা আরো গভীর হয়েছে। এখন সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান, চীনের সঙ্গে নতুন এলএনজি টার্মিনাল চুক্তি আর ভোলার গ্যাস আনার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এসব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আর এখন? এখন মানুষ গরমে পুড়ছে, শিল্প বন্ধ, ব্যবসা অচল। এই মুহূর্তে দরকার ছিল জরুরি ভিত্তিতে কয়লা ও তেলচালিত কেন্দ্র চালু করা, নবায়নযোগ্য খাতকে কাজে লাগানো। সেই উদ্যোগটাই চোখে পড়ছে না।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন তাদের ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতার কথা। কিন্তু স্বীকার করে কী হবে? ক্ষমতায় বসে দায় স্বীকার করলেই জনগণের ভোগান্তি কমবে না। ছয় মাসে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট। যারা ভেবেছিলেন বদল এলে স্বস্তি আসবে, তারা এখন বুঝতে পারছেন, বদল মানেই তো উন্নতি নয়। বরং অতীতের চেয়েও খারাপ ব্যবস্থাপনায় ডুবে যাচ্ছে দেশের জ্বালানি খাত। প্রশ্নটা এখন শুধু একটাই, মানুষের ধৈর্যের বাঁধ আর কতদিন টিকবে?

আরো পড়ুন

সর্বশেষ