বিভুরঞ্জন সরকার হত্যাকাণ্ড: সাংবাদিক হত্যার রাজনৈতিক সংস্কৃতি আর তার নীরব মদদদাতারা

সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর হওয়া সামরিক-রাজনৈতিক ক্যুয়ের সরাসরি ফসল। যে ক্যু নীলনকশা এঁকেছিল বিদেশি শক্তি, যার অর্থ জুগিয়েছিল আন্তর্জাতিক সুদি চক্র, যার মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন করেছিল ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতে ইসলামী আর যার নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল সেনাবাহিনী, সেই চক্রের শিকার হয়েই একজন নিরীহ প্রবীণ সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হলো।

বিভুদার মৃত্যুর আগের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায় যে এটি একটি পরিকল্পিত চাপ প্রয়োগের কৌশলের ফল। ২০২৪ এর ১৫ আগস্টের ঘটনা থেকে শুরু করে ১৭ আগস্টের হুমকিবার্তা, প্রতিটি ধাপে একই সূত্র কাজ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে চাকরিচ্যুতির নির্দেশ, পত্রিকা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ, বিভুদাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া, তারপর সরাসরি মৃত্যুর হুমকি, সবকিছু মিলিয়ে যে রূপরেখা তৈরি হয় তা কোনো সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। এখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট ছাপ আছে।

প্রশ্ন হলো, কারা এই ষড়যন্ত্রের হোতা? কেনই বা তারা সত্তরোর্ধ্ব একজন সাংবাদিককে এত বড় হুমকি মনে করলো?

কারণ বিভুদা ছিলেন পুরনো ঘরানার সাংবাদিক। যিনি লেখায় আপস করতেন না, ক্ষমতার কাছে নত হতেন না। তাঁর কলমের তীক্ষ্ণতা ছিল সেই মাত্রার, যা যেকোনো সরকারকেই অস্বস্তিতে ফেলতো। সেই আওয়াজ স্তব্ধ করতেই এই ঘৃণ্য চক্র তৎপর হয়েছিল। আর এমন চক্রের জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ক্ষমতা দখলের ইতিহাস যাঁদের দিকে তাকালে আঙুল ওঠে, তাঁদের নাম আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে।

সুদী মহাজন ইউনূসের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখলের পর সাংবাদিকদের ওপর যে কালো থাবা নেমে আসে, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। যাঁরা শেখ হাসিনার সরকারের সময় সাংবাদিকতায় উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ নিয়ে সরব ছিলেন, তারাই ইউনূসের আমলে সাংবাদিক হত্যার নীরব দর্শকে পরিণত হলেন। শুধু দর্শক নন, অনেকেই সরাসরি অংশীদার। প্রেস উইংয়ে বসে যাঁরা মিডিয়ার সম্পাদকদের ফোন করে চাকরি খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ আজও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে আছেন। তাঁদের কোনো জবাবদিহি হয়নি, হচ্ছে না, করার কোনো ইচ্ছাই নেই।

বিভুদার মৃত্যুর তদন্তে যে অনীহা, তা রাষ্ট্রযন্ত্রের গভীরে ঢুকে যাওয়া সেই চক্রেরই দোসরদের উপস্থিতি প্রমাণ করে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আটকে রাখা, মামলার অগ্রগতি না জানানো, পরিবারকে নানা অজুহাতে ঘোরানো, এসব কিছুই একটি সিন্ডিকেটের কাজ। এই সিন্ডিকেট চায় না সত্য বেরিয়ে আসুক। কারণ সত্য বেরিয়ে এলে ক্ষমতার বর্তমান বলয়ে বসে থাকা অনেকেরই মুখোশ খুলে যাবে।

আরও বড় প্রশ্ন হলো, সাংবাদিক সমাজ কেন নীরব? একজন সহকর্মীর মৃত্যুর পর পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান তো দূরের কথা, বড় কোনো সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত এ নিয়ে মুখ খোলেনি। অথচ এই সাংবাদিকই নিজের জীবদ্দশায় এমন অনেক ঘটনা লিখে গেছেন যেখানে অন্যদের জন্য কথা বলা ছিল ঝুঁকির কাজ। তিনি লিখেছেন, প্রশ্ন করেছেন, ভয় পাননি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর যাঁদের কর্তব্য ছিল এগিয়ে আসা, তাঁরাই যেন মুখে কুলুপ এঁটে দিলেন।

এর নেপথ্যে ভয় তো আছেই, আছে স্বার্থও। বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজ এমন এক সংকটে পড়েছে যেখানে সত্যের চেয়ে ক্ষমতার আনুকূল্য বড় হয়ে উঠেছে। যে চক্র ইউনূসের নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা মিডিয়ার ভেতরে নিজস্ব অনুগত নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ফলে বিভুদার মতো সাংবাদিকদের মৃত্যু নিয়ে কথা বললে সেই নেটওয়ার্কের আঘাত আসতে পারে, এই ভয়ে সবাই নীরব।

কিন্তু নীরবতা মানে তো অপরাধীদের নিরাপত্তা দেওয়া। আজ বিভুদার মৃত্যুর বিচার না হলে কাল আরও বিভুদা নিহত হবেন, চুপচাপ হারিয়ে যাবেন। কারণ বাংলাদেশে এখন একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, যে সাংবাদিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে লিখবে, তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এই বার্তা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁরা রাজনৈতিক দল, তাদের সহযোগী জঙ্গি সংগঠন, আমলাতন্ত্রের একটি অসৎ অংশ এবং সুবিধাভোগী মিডিয়া কারবারি।

এর বিরুদ্ধে রুখতে হলে শুধু মামলার দাবিই যথেষ্ট নয়। চাই রাজপথের চাপ। চাই সাংবাদিকদের নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করা। চাই সেই শক্তির বিরুদ্ধে সরব হওয়া যারা সাংবাদিকতা আর গণতন্ত্রকে একই ফাঁসিতে ঝোলাতে চায়।

বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু তাই একটি স্মারক হয়ে থাকবে। যদি আমরা তাঁর হত্যার বিচার না চাই, তাহলে আমাদের নীরবতাই হবে সবচেয়ে বড় অপরাধ।

সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর হওয়া সামরিক-রাজনৈতিক ক্যুয়ের সরাসরি ফসল। যে ক্যু নীলনকশা এঁকেছিল বিদেশি শক্তি, যার অর্থ জুগিয়েছিল আন্তর্জাতিক সুদি চক্র, যার মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন করেছিল ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জামায়াতে ইসলামী আর যার নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল সেনাবাহিনী, সেই চক্রের শিকার হয়েই একজন নিরীহ প্রবীণ সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হলো।

বিভুদার মৃত্যুর আগের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায় যে এটি একটি পরিকল্পিত চাপ প্রয়োগের কৌশলের ফল। ২০২৪ এর ১৫ আগস্টের ঘটনা থেকে শুরু করে ১৭ আগস্টের হুমকিবার্তা, প্রতিটি ধাপে একই সূত্র কাজ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে চাকরিচ্যুতির নির্দেশ, পত্রিকা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ, বিভুদাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া, তারপর সরাসরি মৃত্যুর হুমকি, সবকিছু মিলিয়ে যে রূপরেখা তৈরি হয় তা কোনো সাধারণ ঘটনা হতে পারে না। এখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট ছাপ আছে।

প্রশ্ন হলো, কারা এই ষড়যন্ত্রের হোতা? কেনই বা তারা সত্তরোর্ধ্ব একজন সাংবাদিককে এত বড় হুমকি মনে করলো?

কারণ বিভুদা ছিলেন পুরনো ঘরানার সাংবাদিক। যিনি লেখায় আপস করতেন না, ক্ষমতার কাছে নত হতেন না। তাঁর কলমের তীক্ষ্ণতা ছিল সেই মাত্রার, যা যেকোনো সরকারকেই অস্বস্তিতে ফেলতো। সেই আওয়াজ স্তব্ধ করতেই এই ঘৃণ্য চক্র তৎপর হয়েছিল। আর এমন চক্রের জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ক্ষমতা দখলের ইতিহাস যাঁদের দিকে তাকালে আঙুল ওঠে, তাঁদের নাম আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে।

সুদী মহাজন ইউনূসের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখলের পর সাংবাদিকদের ওপর যে কালো থাবা নেমে আসে, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। যাঁরা শেখ হাসিনার সরকারের সময় সাংবাদিকতায় উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ নিয়ে সরব ছিলেন, তারাই ইউনূসের আমলে সাংবাদিক হত্যার নীরব দর্শকে পরিণত হলেন। শুধু দর্শক নন, অনেকেই সরাসরি অংশীদার। প্রেস উইংয়ে বসে যাঁরা মিডিয়ার সম্পাদকদের ফোন করে চাকরি খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ আজও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে আছেন। তাঁদের কোনো জবাবদিহি হয়নি, হচ্ছে না, করার কোনো ইচ্ছাই নেই।

বিভুদার মৃত্যুর তদন্তে যে অনীহা, তা রাষ্ট্রযন্ত্রের গভীরে ঢুকে যাওয়া সেই চক্রেরই দোসরদের উপস্থিতি প্রমাণ করে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আটকে রাখা, মামলার অগ্রগতি না জানানো, পরিবারকে নানা অজুহাতে ঘোরানো, এসব কিছুই একটি সিন্ডিকেটের কাজ। এই সিন্ডিকেট চায় না সত্য বেরিয়ে আসুক। কারণ সত্য বেরিয়ে এলে ক্ষমতার বর্তমান বলয়ে বসে থাকা অনেকেরই মুখোশ খুলে যাবে।

আরও বড় প্রশ্ন হলো, সাংবাদিক সমাজ কেন নীরব? একজন সহকর্মীর মৃত্যুর পর পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান তো দূরের কথা, বড় কোনো সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত এ নিয়ে মুখ খোলেনি। অথচ এই সাংবাদিকই নিজের জীবদ্দশায় এমন অনেক ঘটনা লিখে গেছেন যেখানে অন্যদের জন্য কথা বলা ছিল ঝুঁকির কাজ। তিনি লিখেছেন, প্রশ্ন করেছেন, ভয় পাননি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর যাঁদের কর্তব্য ছিল এগিয়ে আসা, তাঁরাই যেন মুখে কুলুপ এঁটে দিলেন।

এর নেপথ্যে ভয় তো আছেই, আছে স্বার্থও। বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজ এমন এক সংকটে পড়েছে যেখানে সত্যের চেয়ে ক্ষমতার আনুকূল্য বড় হয়ে উঠেছে। যে চক্র ইউনূসের নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা মিডিয়ার ভেতরে নিজস্ব অনুগত নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। ফলে বিভুদার মতো সাংবাদিকদের মৃত্যু নিয়ে কথা বললে সেই নেটওয়ার্কের আঘাত আসতে পারে, এই ভয়ে সবাই নীরব।

কিন্তু নীরবতা মানে তো অপরাধীদের নিরাপত্তা দেওয়া। আজ বিভুদার মৃত্যুর বিচার না হলে কাল আরও বিভুদা নিহত হবেন, চুপচাপ হারিয়ে যাবেন। কারণ বাংলাদেশে এখন একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, যে সাংবাদিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে লিখবে, তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এই বার্তা যাঁরা দিয়েছেন, তাঁরা রাজনৈতিক দল, তাদের সহযোগী জঙ্গি সংগঠন, আমলাতন্ত্রের একটি অসৎ অংশ এবং সুবিধাভোগী মিডিয়া কারবারি।

এর বিরুদ্ধে রুখতে হলে শুধু মামলার দাবিই যথেষ্ট নয়। চাই রাজপথের চাপ। চাই সাংবাদিকদের নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করা। চাই সেই শক্তির বিরুদ্ধে সরব হওয়া যারা সাংবাদিকতা আর গণতন্ত্রকে একই ফাঁসিতে ঝোলাতে চায়।

বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু তাই একটি স্মারক হয়ে থাকবে। যদি আমরা তাঁর হত্যার বিচার না চাই, তাহলে আমাদের নীরবতাই হবে সবচেয়ে বড় অপরাধ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ