দেশ যখন তৃতীয় দফায় গ্যাস সংকটে হাঁসফাঁস করছে, দখলদার অবৈধ বিএনপি সরকার তখন প্রতিটা এলএনজি কার্গো কিনছে ডিপিএম মানে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে, কোনো উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই। গত পনেরো দিনে জ্বালানি বিভাগ আটটা কার্গো অনুমোদন দিয়েছে, প্রতিটাই সরাসরি ক্রয় নীতিতে, আর প্রতিটার পেছনে অভিযোগ উঠেছে সরকারের কোনো না কোনো শীর্ষ নেতার তদবিরের।
সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা হংকংয়ের জেন হু শিপিংকে নিয়ে। বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে তাদের কার্গো অনুমোদন পেয়ে যায় প্রতি ইউনিট গ্যাস সাড়ে চোদ্দ ডলারে, অথচ আন্তর্জাতিক বাজারদর বাইশ ডলার। এত সস্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোম্পানিটা এখনো একটা কাগজও জমা দিতে পারেনি। কার্গো আসার কথা ছিল সোমবার, শনিবার রাত পর্যন্ত তাদের কোনো হদিস নেই। এদিকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে একটা কার্গোও অবশিষ্ট নেই, হাজার হাজার কারখানা বন্ধ হওয়ার মুখে।
এমন খেলাটা বিএনপির নতুন না। ফেব্রুয়ারিতে একই কায়দায় টেন্ডার ছাড়া বারোটা কোম্পানিকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল এই তথাকথিত বিএনপি সরকার। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এক ফোঁটা তেল দেশে আসেনি, মাত্র দুটো কোম্পানি পারফরম্যান্স গ্যারান্টি দিতে পেরেছিল। তারপরও শিক্ষা হয়নি, আবার একই ভুল, আবার অচেনা বিদেশি কোম্পানি, আবার টেন্ডার এড়িয়ে সরাসরি ক্রয়।
একটা কার্গো এলএনজির দাম নয়শো পঞ্চাশ কোটি টাকার বেশি। এত বড় টাকার কেনাকাটা হচ্ছে বাজারের প্রতিযোগিতা ছাড়াই, শুধু সুপারিশে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি আমলে যে টেন্ডারবাজি আর তদবিরনির্ভর ক্রয়ে দেশ কেঁপেছিল, সেই একই ছবি যেন আবার ফিরে এসেছে ২০২৬ সালে, শুধু কোম্পানির নাম বদলেছে।

