২০০১-২০০৬ সালের সেই রক্তাক্ত অন্ধকার যুগ, দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা আর ‘বাংলা ভাই’-এর রাজত্বের আতঙ্ক কি আবার গ্রাস করছে সাভার-আশুলিয়াকে? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ কোথায়?
ঢাকার প্রবেশদ্বার সাভার ও আশুলিয়ায় মাত্র ১২ দিনে উদ্ধার করা হলো ১৬টি শক্তিশালী বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। জনবহুল এলাকা, বসতবাড়ি কিংবা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে প্রেসার কুকার ও পাইপবোমা উদ্ধারের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। শুধু বোমাই নয়, ঘটনাস্থল থেকে উগ্রবাদী সংগঠন জেএমবির (জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) লিফলেট উদ্ধারের বিষয়টি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, দেশে আবারও কোনো গভীর চক্রান্ত বা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশের রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়: ২০০১–২০০৬ সময়ের কালো অধ্যায়: বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদে দেশজুড়ে ‘বাংলা ভাই’ ও জেএমবির উত্থান ঘটেছিল। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার সেই ভয়াল স্মৃতি আজও সাধারণ মানুষকে শংকিত করে তোলে।
জনজীবনের নিরাপত্তা ও শঙ্কা: সম্প্রতি সাভারের লালটেক বা আশুলিয়ার চারাবাগের মতো শান্ত জনপদে যেভাবে বোমা ও রিমোট কন্ট্রোল পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে, তা কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরই প্রশ্ন তোলে না, বরং সাধারণ মানুষকে আবার সেই পুরনো সহিংসতার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
একটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর হলে একের পর এক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রেশার কুকার বোমা ও বোমা তৈরির রাসায়নিক মিলতে পারে? দেশ চালানো আর মুখের চটকদার বুলি দেওয়া যে এক কথা নয়, বিএনপি সরকারের এই অদক্ষতাই তা প্রতিদিন প্রমাণ করছে।

